ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, যে পরামর্শ ঢাবি অধ্যাপকের

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৭৯ বার পড়া হয়েছে

চলতি মাসে দুটি ভূমিকম্পে কেঁপেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক অঞ্চল। যদিও ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ও চীনের তিব্বত অঞ্চল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। এখানকার ঘনবসতি, পুরোনো অবকাঠামো এবং বিল্ডিং কোডের দুর্বল প্রয়োগ এই বিপদগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতের জন্য একটি ভয়াবহ দৃশ্য অপেক্ষা করছে।

প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট সময় পরপর বৃহৎ আকারের ভূমিকম্প হয় কিন্তু সব শেষ বৃহৎ ভূমিকম্পও প্রায় ১০০ বছর আগে হওয়াতে নতুন করে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। গত ৯০ দিনে বাংলাদেশের আশপাশে মৃদু ও তীব্র মাত্রার ৫০টির বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। আর গত ১৫ বছরে ১৫০টির বেশি ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়েছে।

১৮৮৫ সালের বাংলার ভূমিকম্প এবং ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গলে ভূমিকম্পের প্রতিটিরই কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের মধ্যে এবং এতে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৭ এরও অধিক।

গত ৭ জানুয়ারি সকাল ৭টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তারও আগে ৩ জানুয়ারি রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রায় বাংলাদেশের ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়

ভূমিকম্প দুটিরই উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের বাইরে। শেষেরটির উৎপত্তিস্থল ৬১৮ কিলোমিটার দূরে চীনের তিব্বত অঞ্চলে। আর ৩ জানুয়ারির ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ থেকে ৪৮২ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের হোমালিন নামের একটি স্থান।

বাংলাদেশ ভূমিকম্পের কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তা নিয়ে এই প্রতিবেদকের কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ববিদ্যার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা মিয়ার সঙ্গে। সম্প্রতি ঘটা দুটি ভূমিকম্প ও বাংলাদেশে এর ঝুঁকি বিষয়ে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, এটা বিতর্কমূলক বিষয় যে এসব ছোট ছোট ভূমিকম্প ভালো নাকি খারাপ। একদল মনে করে এভাবে যদি ছোট ছোট ভূমিকম্প হয় তাহলে বড় ভূমিকম্পের শক্তি কমে আসবে। আবার অনেকে মনে করে সব ছোট ছোট ভূমিকম্পই বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সবশেষ বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ১২০ বছর আগে। ঐতিহাসিকভাবে আমরা দেখি ১০০-১৫০ বছর পর পর বড় ভূমিকম্প হয়৷ সে হিসাবে আমরা এখন বেশ ঝুঁকিতেই আছি। আমরা তো মূলত যেই জায়গায় আছি সেটা তিনটা মহাদেশীয় প্লেটের সংযোগস্থল- ইউরেশিয়ান প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট আর বার্মিজ প্লেট। এই তিনটিই ক্রমাগত একে অপরকে ঠেলছে। এই বিশাল শক্তি দিয়ে ঠেলার দরুণ এভাবে ভূমিকম্প হয়। যত শক্তি দিয়ে ধাক্কা খাবে তত বড় ভূমিকম্প হবে৷

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় শঙ্কা হলো ভূমিকম্পের সেভাবে কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না৷ ভূমিকম্পের আগে কিছু কিছু অনুমান করা যায়৷ এছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না৷ আমাদের দেশের উত্তরপূর্ব অঞ্চলটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আমাদের চেয়েও ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা জাপান। সেখানে তাদের বিল্ডিং ও অন্যান্য স্থাপনা ভূমিকম্পের বিষয় মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়। ফলে মানুষও খুব বেশি আতঙ্কিত হয় না৷

দেশের নগরায়ন ও ভূমিকম্পে বিশাল প্রাণহানির কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, ভূমিকম্প হবেই। আজ না হয় কাল। আমাদের ভাবা উচিত প্রাণহানি কীভাবে কমানো যায় বা ভূমিকম্প পরবর্তী সময় কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়৷ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। এটা একটা বাস্তবতা যে ঢাকার নগরায়নের যা অবস্থা তাতে বড় ভূমিকম্প হলে ম্যাসাকার হয়ে যাবে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, যে পরামর্শ ঢাবি অধ্যাপকের

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

চলতি মাসে দুটি ভূমিকম্পে কেঁপেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক অঞ্চল। যদিও ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ও চীনের তিব্বত অঞ্চল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। এখানকার ঘনবসতি, পুরোনো অবকাঠামো এবং বিল্ডিং কোডের দুর্বল প্রয়োগ এই বিপদগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতের জন্য একটি ভয়াবহ দৃশ্য অপেক্ষা করছে।

প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট সময় পরপর বৃহৎ আকারের ভূমিকম্প হয় কিন্তু সব শেষ বৃহৎ ভূমিকম্পও প্রায় ১০০ বছর আগে হওয়াতে নতুন করে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। গত ৯০ দিনে বাংলাদেশের আশপাশে মৃদু ও তীব্র মাত্রার ৫০টির বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। আর গত ১৫ বছরে ১৫০টির বেশি ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়েছে।

১৮৮৫ সালের বাংলার ভূমিকম্প এবং ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গলে ভূমিকম্পের প্রতিটিরই কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের মধ্যে এবং এতে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৭ এরও অধিক।

গত ৭ জানুয়ারি সকাল ৭টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তারও আগে ৩ জানুয়ারি রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রায় বাংলাদেশের ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়

ভূমিকম্প দুটিরই উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের বাইরে। শেষেরটির উৎপত্তিস্থল ৬১৮ কিলোমিটার দূরে চীনের তিব্বত অঞ্চলে। আর ৩ জানুয়ারির ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ থেকে ৪৮২ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের হোমালিন নামের একটি স্থান।

বাংলাদেশ ভূমিকম্পের কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তা নিয়ে এই প্রতিবেদকের কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ববিদ্যার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা মিয়ার সঙ্গে। সম্প্রতি ঘটা দুটি ভূমিকম্প ও বাংলাদেশে এর ঝুঁকি বিষয়ে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, এটা বিতর্কমূলক বিষয় যে এসব ছোট ছোট ভূমিকম্প ভালো নাকি খারাপ। একদল মনে করে এভাবে যদি ছোট ছোট ভূমিকম্প হয় তাহলে বড় ভূমিকম্পের শক্তি কমে আসবে। আবার অনেকে মনে করে সব ছোট ছোট ভূমিকম্পই বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সবশেষ বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ১২০ বছর আগে। ঐতিহাসিকভাবে আমরা দেখি ১০০-১৫০ বছর পর পর বড় ভূমিকম্প হয়৷ সে হিসাবে আমরা এখন বেশ ঝুঁকিতেই আছি। আমরা তো মূলত যেই জায়গায় আছি সেটা তিনটা মহাদেশীয় প্লেটের সংযোগস্থল- ইউরেশিয়ান প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট আর বার্মিজ প্লেট। এই তিনটিই ক্রমাগত একে অপরকে ঠেলছে। এই বিশাল শক্তি দিয়ে ঠেলার দরুণ এভাবে ভূমিকম্প হয়। যত শক্তি দিয়ে ধাক্কা খাবে তত বড় ভূমিকম্প হবে৷

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় শঙ্কা হলো ভূমিকম্পের সেভাবে কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না৷ ভূমিকম্পের আগে কিছু কিছু অনুমান করা যায়৷ এছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না৷ আমাদের দেশের উত্তরপূর্ব অঞ্চলটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আমাদের চেয়েও ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা জাপান। সেখানে তাদের বিল্ডিং ও অন্যান্য স্থাপনা ভূমিকম্পের বিষয় মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়। ফলে মানুষও খুব বেশি আতঙ্কিত হয় না৷

দেশের নগরায়ন ও ভূমিকম্পে বিশাল প্রাণহানির কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, ভূমিকম্প হবেই। আজ না হয় কাল। আমাদের ভাবা উচিত প্রাণহানি কীভাবে কমানো যায় বা ভূমিকম্প পরবর্তী সময় কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়৷ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। এটা একটা বাস্তবতা যে ঢাকার নগরায়নের যা অবস্থা তাতে বড় ভূমিকম্প হলে ম্যাসাকার হয়ে যাবে।