ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন মির্জাপুর শাহি মসজিদ

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর অন্যতম মির্জাপুর শাহি মসজিদ। নির্মাণ সালে মতপার্থক্য থাকলেও ধারণা মতে প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো এ মসজিদ দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় অবস্থিত। তথ্যমতে, মির্জাপুর শাহি মসজিদটি ১৬৫৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কে নির্মাণ করেছেন এটি নিয়ে ঐতিহাসিক মতপার্থক্য রয়েছে।

কেউ কেউ মনে করেন, মালিক উদ্দিন নামে মির্জাপুর গ্রামেরই এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। এই মালিক উদ্দিন মির্জাপুর গ্রামও প্রতিষ্ঠা করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, দোস্ত মোহাম্মদ নামের জনৈক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। তবে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করেন, মোগল শাসক শাহ সুজার শাসনামলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এই মসজিদের আশপাশের মুসল্লিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারেন এবং সেই সঙ্গে মসজিদের পাশেই আছে একটি মাদরাসা। সেখানকার ছাত্ররাও এই মসজিদে প্রতিদিন নামাজ আদায় করে থাকেন।

টেরাকোটা ফুল ও লতাপাতার নকশা খোদাই করা রয়েছে মসজিদটির দেয়ালে। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থ আয়তাকার এই মসজিদের ছাদে পাশাপাশি তিনটি গম্বুজ ও চার কোণে চারটি চিকন মিনার স্থাপন করা হয়েছে।

মসজিদের নির্মাণশৈলীর নিপুণতা ও দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। চুন ও সুড়কি দিয়ে তৈরি মির্জাপুর শাহি মসজিদের সামনের দেয়ালে রয়েছে সুশোভন লতাপাতা ও ইসলামী ঐতিহ্যপূর্ণ টেরাকোটা নকশাখচিত মাঝারি আকৃতির তিনটি দরজা। তিনটি দরজায়ই ছাদ ও দরজার উপরিভাগের মাঝামাঝি স্থানে বাইরের দিকে উভয় পাশে ঢালু তোরণ আকৃতির একটি অতিরিক্ত স্ফীত অংশ সংযুক্ত হওয়ায় অলংকরণ বিন্যাসে সৃষ্টি হয়েছে নতুনত্ব। বর্তমানে এই মসজিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। দৃষ্টিনন্দন মির্জাপুর শাহি মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য পর্যটক আসে।

দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যখচিত মার্বেল পাথরের এই শৈল্পিক স্থাপনাটি দেখতে হলে দেশের যেকোনো জেলা থেকে যেতে হবে পঞ্চগড় জেলা শহরে। সেখান থেকে একটি ইজি বাইক নিয়ে ১৮-২০ কিলোমিটার পূর্বে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে গেলেই দেখা মিলবে এই মসজিদের।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন মির্জাপুর শাহি মসজিদ

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর অন্যতম মির্জাপুর শাহি মসজিদ। নির্মাণ সালে মতপার্থক্য থাকলেও ধারণা মতে প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো এ মসজিদ দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় অবস্থিত। তথ্যমতে, মির্জাপুর শাহি মসজিদটি ১৬৫৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কে নির্মাণ করেছেন এটি নিয়ে ঐতিহাসিক মতপার্থক্য রয়েছে।

কেউ কেউ মনে করেন, মালিক উদ্দিন নামে মির্জাপুর গ্রামেরই এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। এই মালিক উদ্দিন মির্জাপুর গ্রামও প্রতিষ্ঠা করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, দোস্ত মোহাম্মদ নামের জনৈক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন। তবে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করেন, মোগল শাসক শাহ সুজার শাসনামলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এই মসজিদের আশপাশের মুসল্লিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারেন এবং সেই সঙ্গে মসজিদের পাশেই আছে একটি মাদরাসা। সেখানকার ছাত্ররাও এই মসজিদে প্রতিদিন নামাজ আদায় করে থাকেন।

টেরাকোটা ফুল ও লতাপাতার নকশা খোদাই করা রয়েছে মসজিদটির দেয়ালে। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থ আয়তাকার এই মসজিদের ছাদে পাশাপাশি তিনটি গম্বুজ ও চার কোণে চারটি চিকন মিনার স্থাপন করা হয়েছে।

মসজিদের নির্মাণশৈলীর নিপুণতা ও দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। চুন ও সুড়কি দিয়ে তৈরি মির্জাপুর শাহি মসজিদের সামনের দেয়ালে রয়েছে সুশোভন লতাপাতা ও ইসলামী ঐতিহ্যপূর্ণ টেরাকোটা নকশাখচিত মাঝারি আকৃতির তিনটি দরজা। তিনটি দরজায়ই ছাদ ও দরজার উপরিভাগের মাঝামাঝি স্থানে বাইরের দিকে উভয় পাশে ঢালু তোরণ আকৃতির একটি অতিরিক্ত স্ফীত অংশ সংযুক্ত হওয়ায় অলংকরণ বিন্যাসে সৃষ্টি হয়েছে নতুনত্ব। বর্তমানে এই মসজিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। দৃষ্টিনন্দন মির্জাপুর শাহি মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য পর্যটক আসে।

দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যখচিত মার্বেল পাথরের এই শৈল্পিক স্থাপনাটি দেখতে হলে দেশের যেকোনো জেলা থেকে যেতে হবে পঞ্চগড় জেলা শহরে। সেখান থেকে একটি ইজি বাইক নিয়ে ১৮-২০ কিলোমিটার পূর্বে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে গেলেই দেখা মিলবে এই মসজিদের।