ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরে প্রস্তুত ইরান: সৌদি গণমাধ্যম

ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে দাবি করেছে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এআই হাদাথ। সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একটি ফাঁস হওয়া নথির বরাতে এ তথ্য জানানো হয় গণমাধ্যমটিতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এ ধারণা উপস্থাপন করেছে তেহরান।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের পরোক্ষ আলোচনা এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে স্থবির হয়ে আছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে প্রায় এক মাস ধরে সংঘাত চলেছিল। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করলেও সংঘাত শেষ করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে আসছে।

প্রতিবেদনটি বলছে, ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে রাজি হতে পারে, তবে শর্ত হলো—উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের বদলে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তবে তেহরান এখনো তাদের পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার বিরোধিতা করছে।

আইএইএ’র হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।

মস্কো বারবার এই সংঘাত নিরসনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শুধু এমন প্রস্তাবই দিইনি; ২০১৫ সালে আমরা এটি বাস্তবায়নও করেছিলাম। ইরান আমাদের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখে এবং তার যথেষ্ট কারণও আছে।”

পুতিন আরও বলেন, মস্কো কখনোই তার চুক্তি ভঙ্গ করেনি এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সোমবার জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে “অপর্যাপ্ত” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, তেহরান আগের প্রস্তাবের তুলনায় কেবল “সামান্য” পরিবর্তন এনেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা উচিত।

গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এই বিষয়টি “মূলত জনসংযোগের ব্যাপার” এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এলে তা তাকে “আরও স্বস্তি” দেবে।

সূত্র: আরটি

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরে প্রস্তুত ইরান: সৌদি গণমাধ্যম

আপডেট সময় : ০১:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে দাবি করেছে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এআই হাদাথ। সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একটি ফাঁস হওয়া নথির বরাতে এ তথ্য জানানো হয় গণমাধ্যমটিতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এ ধারণা উপস্থাপন করেছে তেহরান।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের পরোক্ষ আলোচনা এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে স্থবির হয়ে আছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে প্রায় এক মাস ধরে সংঘাত চলেছিল। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করলেও সংঘাত শেষ করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে আসছে।

প্রতিবেদনটি বলছে, ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে রাজি হতে পারে, তবে শর্ত হলো—উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের বদলে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তবে তেহরান এখনো তাদের পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার বিরোধিতা করছে।

আইএইএ’র হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।

মস্কো বারবার এই সংঘাত নিরসনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শুধু এমন প্রস্তাবই দিইনি; ২০১৫ সালে আমরা এটি বাস্তবায়নও করেছিলাম। ইরান আমাদের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখে এবং তার যথেষ্ট কারণও আছে।”

পুতিন আরও বলেন, মস্কো কখনোই তার চুক্তি ভঙ্গ করেনি এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সোমবার জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে “অপর্যাপ্ত” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, তেহরান আগের প্রস্তাবের তুলনায় কেবল “সামান্য” পরিবর্তন এনেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা উচিত।

গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এই বিষয়টি “মূলত জনসংযোগের ব্যাপার” এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এলে তা তাকে “আরও স্বস্তি” দেবে।

সূত্র: আরটি