ঢাকা ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

তিস্তা নিয়ে চীনের ঘনিষ্ঠতায় ভারতের উদ্বেগ!

চীনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির নিরাপত্তা-স্বার্থের পরিপন্থী বলে জানাচ্ছে ভারত। 

দীর্ঘদিন ধরেই চীনের তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহের বিষয়টি ভারতের কাছে উদ্বেগজনক, কারণ এটি বাস্তবায়িত হলে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলবে চীন।

নয়াদিল্লি মনে করে, সেটাই আসল উদ্দেশ্য চীনের। আর সেই কারণে চীনের পাশাপাশি ভারতও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে ভারতে পলাতক)  শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে তিস্তার সংরক্ষণে এবং প্রকৌশলগত সহায়তার ক্ষেত্রে হাত বাড়িয়েছিল।

প্রসঙ্গত, হাসিনার সরকার তিস্তা মহাসেচ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভার ভারতকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে সবই কার্যত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশের নয়া সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তিস্তা প্রকল্প।

তিস্তা নিয়ে যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ নিয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’।

এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১০২ কিলোমিটার নদী খনন করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর দু’পাশে ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের মতো বেশ কিছু কাজ।

চীন যদি এই প্রকল্পে হাত বাড়ায়, তা হলে ভূকৌশলগত ভাবেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল চীনের নিশানার মধ্যে চলে আসবে।

নয়াদিল্লির মনে করছে, ঢাকার বরং উচিত বেইজিংয়ের ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলা। ইয়ারলুং সাংপো (ব্রহ্মপুত্রের তিব্বতি নাম) নদীতে চীনের তৈরি বাঁধে ভারত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই তাতে বাংলাদেশেরও ক্ষতি। ভারত চায়, বিষয়টি নিয়ে কড়া ভাবে আপত্তি করুক বাংলাদেশের বর্তমান সরকার।

নদীটি ভারতে ভাটিতে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের জীবিকার উৎস এবং বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে টিকিয়ে রাখে।

এর আগে মেকং নদীতে ১২টি ধাপে চীনের তৈরি বাঁধ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভাটিতে পানির প্রবাহ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্রহ্মপুত্রকে একটি জলবোমায় পরিণত করতে পারে, যেখানে হঠাৎ জল ছেড়ে দেওয়া হলে আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে বন্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশেও ঝুঁকি আছে। ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, গঙ্গা অববাহিকার মাত্র সাত শতাংশ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত। ফলে দেশটি পুরোপুরি উজানের পানির ওপর নির্ভরশীল।

নয়াদিল্লির একাংশ মনে করছে, ঢাকার আগে উচিত ইয়ারলুং সাংপো বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করার জন্য চীনের ওপরে চাপ বাড়িয়ে তার পর তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতায় রাজি হওয়া।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিস্তা নিয়ে চীনের ঘনিষ্ঠতায় ভারতের উদ্বেগ!

আপডেট সময় : ১২:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

চীনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির নিরাপত্তা-স্বার্থের পরিপন্থী বলে জানাচ্ছে ভারত। 

দীর্ঘদিন ধরেই চীনের তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহের বিষয়টি ভারতের কাছে উদ্বেগজনক, কারণ এটি বাস্তবায়িত হলে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলবে চীন।

নয়াদিল্লি মনে করে, সেটাই আসল উদ্দেশ্য চীনের। আর সেই কারণে চীনের পাশাপাশি ভারতও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে ভারতে পলাতক)  শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে তিস্তার সংরক্ষণে এবং প্রকৌশলগত সহায়তার ক্ষেত্রে হাত বাড়িয়েছিল।

প্রসঙ্গত, হাসিনার সরকার তিস্তা মহাসেচ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভার ভারতকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে সবই কার্যত ভেস্তে যায়।

বাংলাদেশের নয়া সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তিস্তা প্রকল্প।

তিস্তা নিয়ে যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ নিয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’।

এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১০২ কিলোমিটার নদী খনন করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর দু’পাশে ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের মতো বেশ কিছু কাজ।

চীন যদি এই প্রকল্পে হাত বাড়ায়, তা হলে ভূকৌশলগত ভাবেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল চীনের নিশানার মধ্যে চলে আসবে।

নয়াদিল্লির মনে করছে, ঢাকার বরং উচিত বেইজিংয়ের ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলা। ইয়ারলুং সাংপো (ব্রহ্মপুত্রের তিব্বতি নাম) নদীতে চীনের তৈরি বাঁধে ভারত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই তাতে বাংলাদেশেরও ক্ষতি। ভারত চায়, বিষয়টি নিয়ে কড়া ভাবে আপত্তি করুক বাংলাদেশের বর্তমান সরকার।

নদীটি ভারতে ভাটিতে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের জীবিকার উৎস এবং বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে টিকিয়ে রাখে।

এর আগে মেকং নদীতে ১২টি ধাপে চীনের তৈরি বাঁধ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভাটিতে পানির প্রবাহ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্রহ্মপুত্রকে একটি জলবোমায় পরিণত করতে পারে, যেখানে হঠাৎ জল ছেড়ে দেওয়া হলে আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে বন্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশেও ঝুঁকি আছে। ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, গঙ্গা অববাহিকার মাত্র সাত শতাংশ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত। ফলে দেশটি পুরোপুরি উজানের পানির ওপর নির্ভরশীল।

নয়াদিল্লির একাংশ মনে করছে, ঢাকার আগে উচিত ইয়ারলুং সাংপো বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করার জন্য চীনের ওপরে চাপ বাড়িয়ে তার পর তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতায় রাজি হওয়া।