ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

বাড়ছে নানা ধরনের ভাতা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে কয়েক লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার তাদের কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবে।

বর্তমানে দেশে ৬১ লাখ বয়স্ক নাগরিক মাসিক ৬৫০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯০ বছরের কম বয়সি বয়স্করা মাসিক ৭০০ টাকা ভাতা পাবেন, যা বর্তমানের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি। অন্যদিকে ৯০ বছর বা তদূর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার প্রবীণ নাগরিক মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে তারা মাসিক ৬৫০ টাকা পেলেও আগামী অর্থবছর থেকে তা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি ২৫ হাজার নারী মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এই খাতে সরকারের ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ২৭৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ব্যক্তি মাসিক ৯০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। আগামী বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করা হচ্ছে। যদিও মূল ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে, তবে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রতিবন্ধীরা মাসিক ১ হাজার টাকা করে পাবেন।

শিক্ষা উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তি আসছে। উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও প্রাথমিক থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীর ভাতা মাসিক ৫০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবেন ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা ১ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরের শিক্ষার্থীরা পাবেন ১ হাজার ৩৫০ টাকা।

এছাড়া হিজড়া, বেদে, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের জন্য ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি বাড়ানো হলেও ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন বাজেটের বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এর আওতায় নারীপ্রধান প্রতিটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে। সরকার ধাপে ধাপে এই কর্মসূচির পরিধি বাড়াবে। চলতি অর্থবছরসহ পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নগদ সহায়তায় ব্যয় হবে ১ লাখ ২১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা এবং জরিপ ও অন্যান্য প্রশাসনিক খাতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার এখন বড় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিমুখী কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি বাজার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাড়ছে নানা ধরনের ভাতা

আপডেট সময় : ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে কয়েক লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার তাদের কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরবে।

বর্তমানে দেশে ৬১ লাখ বয়স্ক নাগরিক মাসিক ৬৫০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯০ বছরের কম বয়সি বয়স্করা মাসিক ৭০০ টাকা ভাতা পাবেন, যা বর্তমানের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি। অন্যদিকে ৯০ বছর বা তদূর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার প্রবীণ নাগরিক মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে তারা মাসিক ৬৫০ টাকা পেলেও আগামী অর্থবছর থেকে তা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি ২৫ হাজার নারী মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এই খাতে সরকারের ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ২৭৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ব্যক্তি মাসিক ৯০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। আগামী বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করা হচ্ছে। যদিও মূল ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে, তবে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রতিবন্ধীরা মাসিক ১ হাজার টাকা করে পাবেন।

শিক্ষা উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তি আসছে। উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও প্রাথমিক থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীর ভাতা মাসিক ৫০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবেন ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা ১ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরের শিক্ষার্থীরা পাবেন ১ হাজার ৩৫০ টাকা।

এছাড়া হিজড়া, বেদে, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের জন্য ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি বাড়ানো হলেও ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন বাজেটের বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এর আওতায় নারীপ্রধান প্রতিটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে। সরকার ধাপে ধাপে এই কর্মসূচির পরিধি বাড়াবে। চলতি অর্থবছরসহ পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নগদ সহায়তায় ব্যয় হবে ১ লাখ ২১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা এবং জরিপ ও অন্যান্য প্রশাসনিক খাতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার এখন বড় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিমুখী কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি বাজার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।