ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

ভারতে বিধানসভার নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এল রক্তাক্ত রাজনীতি। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তার মাথায় পরপর তিনটি গুলি লেগেছে।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুসারে, চন্দ্রনাথ মধ্যমগ্রামে থাকতেন। কাজের সূত্রে মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন স্করপিও গাড়িতে করে। দোহাড়িয়ার কাছে যশোর রোড সংলগ্ন এলাকায় একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরবাইক থেকে হেলমেট পরা দুষ্কৃতীরা তার গাড়ির কাচ ভেদ করে পরপর গুলি চালায়। গুলি লাগে মাথা ও পেটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিগত পাঁচ বছর ধরে চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক ও ছায়াসঙ্গী। শুভেন্দুর সব রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজকর্ম, যোগাযোগ, সভা-সমাবেশের তদারকি সবকিছুর দায়িত্ব সামলাতেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন। ৯ মে বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে এবং সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে শুভেন্দুর নাম সবার উপরে। ঠিক এই সময়ে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহকারীর উপর এমন হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। গুলিবিদ্ধ গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক নেতা-বিধায়ক ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান। এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছেন অনেকে।

মধ্যমগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দিনেদুপুরে গাড়ি আটকে গুলি চালানোর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অফ ইন্ডিয়া

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ভারতে বিধানসভার নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এল রক্তাক্ত রাজনীতি। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তার মাথায় পরপর তিনটি গুলি লেগেছে।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুসারে, চন্দ্রনাথ মধ্যমগ্রামে থাকতেন। কাজের সূত্রে মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন স্করপিও গাড়িতে করে। দোহাড়িয়ার কাছে যশোর রোড সংলগ্ন এলাকায় একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরবাইক থেকে হেলমেট পরা দুষ্কৃতীরা তার গাড়ির কাচ ভেদ করে পরপর গুলি চালায়। গুলি লাগে মাথা ও পেটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিগত পাঁচ বছর ধরে চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক ও ছায়াসঙ্গী। শুভেন্দুর সব রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজকর্ম, যোগাযোগ, সভা-সমাবেশের তদারকি সবকিছুর দায়িত্ব সামলাতেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন। ৯ মে বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে এবং সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে শুভেন্দুর নাম সবার উপরে। ঠিক এই সময়ে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহকারীর উপর এমন হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। গুলিবিদ্ধ গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক নেতা-বিধায়ক ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান। এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছেন অনেকে।

মধ্যমগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দিনেদুপুরে গাড়ি আটকে গুলি চালানোর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অফ ইন্ডিয়া