ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

অবৈধ কর্মীদের বিশেষ বৈধকরণ সুযোগ দিতে লি‌বিয়াকে অনুরোধ

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫২ বার পড়া হয়েছে

লিবিয়ার উপ-শ্রমমন্ত্রী জামাল শাবান-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন দেশ‌টি‌তে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ।

গত রোববার (১৯ এপ্রিল) লিবিয়ার উপ-শ্রমমন্ত্রীর দপ্ত‌রে হওয়া বৈঠ‌কে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে শ্রমখাতে চলমান সহযোগিতা জোরদারকরণ এবং লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও আকামা প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে লিবিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পরিচালক এবং দূতাবাসের প্রথম শ্রমসচিব উপস্থিত ছিলেন।

উপ-শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিরা লিবিয়ার শ্রমবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন যে, লিবিয়া সরকার বর্তমানে শ্রমবাজারকে আরও সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ ছাড়া, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লিবিয়ায় কর্মরত এবং নিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ যৌথ কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়।

রাষ্ট্রদূত জানান, লিবিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি পেশাজীবী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবাখাতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর বৈধকরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে উচ্চ ফি, কর এবং জরিমানা প্রদানকে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে অবহিত করেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ ক্ষমা বা বিশেষ বৈধকরণ সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে ফি ও জরিমানার সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি নাগরিকদের অপহরণ, ডিটেনশনসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিবিয়া কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

এ ছাড়া, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করা হয় এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক সময়ে সফরটি বাস্তবায়নে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া, বৈঠকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমিক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, প্রযোজ্য আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলা এবং শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষ শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে সম্মত হয়। বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে শ্রম ও জনশক্তি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারের ব্যাপারে উভয় পক্ষের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধ কর্মীদের বিশেষ বৈধকরণ সুযোগ দিতে লি‌বিয়াকে অনুরোধ

আপডেট সময় : ১১:০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

লিবিয়ার উপ-শ্রমমন্ত্রী জামাল শাবান-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন দেশ‌টি‌তে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ।

গত রোববার (১৯ এপ্রিল) লিবিয়ার উপ-শ্রমমন্ত্রীর দপ্ত‌রে হওয়া বৈঠ‌কে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে শ্রমখাতে চলমান সহযোগিতা জোরদারকরণ এবং লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও আকামা প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে লিবিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পরিচালক এবং দূতাবাসের প্রথম শ্রমসচিব উপস্থিত ছিলেন।

উপ-শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিরা লিবিয়ার শ্রমবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন যে, লিবিয়া সরকার বর্তমানে শ্রমবাজারকে আরও সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ ছাড়া, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লিবিয়ায় কর্মরত এবং নিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ যৌথ কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়।

রাষ্ট্রদূত জানান, লিবিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি পেশাজীবী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবাখাতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর বৈধকরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে উচ্চ ফি, কর এবং জরিমানা প্রদানকে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে অবহিত করেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ ক্ষমা বা বিশেষ বৈধকরণ সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে ফি ও জরিমানার সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি নাগরিকদের অপহরণ, ডিটেনশনসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিবিয়া কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

এ ছাড়া, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করা হয় এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক সময়ে সফরটি বাস্তবায়নে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া, বৈঠকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমিক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, প্রযোজ্য আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলা এবং শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষ শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে সম্মত হয়। বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে শ্রম ও জনশক্তি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারের ব্যাপারে উভয় পক্ষের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।