ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

এবার নামলো চীন, আরেক সমুদ্রপথে অবরোধ

হরমুজ ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবরো শোল এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। প্রবেশমুখে জাহাজ মোতায়েন ও ভাসমান বাধা বসানোর মাধ্যমে তারা কার্যত ওই অঞ্চলে উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, শোলের প্রবেশপথে চারটি মাছ ধরার নৌকা, একটি চীনা কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি ভাসমান ব্যারিয়ার অবস্থান করছে। ১০ ও ১১ এপ্রিল তোলা ছবিতে এই উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

এ দিকে নিজেদের জেলেদের সুরক্ষায় ফিলিপাইন-ও কোস্টগার্ড ও মৎস্যজীবী সহায়তা জাহাজ মোতায়েন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারের চীনা টহল জাহাজের কারণে প্রায়ই ফিলিপাইনের জেলেদের ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে টারিয়েলা জানান, ১০ ও ১১ এপ্রিল স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ ভাসমান বাধা স্থাপন করে চীন। তিনি বলেন, শোলের ভেতরে ছয়টি এবং বাইরে আরও তিনটি চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ অবস্থান করছিল, যা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছিল।

স্কারবরো শোল, যা ফিলিপাইনে ‘বাহো দে মাসিনলোক’ এবং চীনে ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপ’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার ক্ষেত্র। এটি ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়লেও চীনও এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

গত বছর চীন সেখানে একটি জাতীয় প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়, যা ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘দখলের অজুহাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফিলিপাইন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ১০টি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেছে।

দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। যদিও ২০১২ সালের এক অচলাবস্থার পর থেকে চীন কার্যত স্কারবরো শোলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

এ দিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্কারবরো শোল এলাকায় ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া চালায়, যা ছিল তাদের ১১তম যৌথ অনুশীলন। ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র-এর আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের এক রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন বিরোধে ফিলিপাইনের অবস্থান সমর্থন করা হলেও স্কারবরো শোলের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি সে রায়ের আওতার বাইরে ছিল। আদালত তখন বলেছিল, ওই এলাকায় চীনের অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবার নামলো চীন, আরেক সমুদ্রপথে অবরোধ

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবরো শোল এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। প্রবেশমুখে জাহাজ মোতায়েন ও ভাসমান বাধা বসানোর মাধ্যমে তারা কার্যত ওই অঞ্চলে উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, শোলের প্রবেশপথে চারটি মাছ ধরার নৌকা, একটি চীনা কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি ভাসমান ব্যারিয়ার অবস্থান করছে। ১০ ও ১১ এপ্রিল তোলা ছবিতে এই উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

এ দিকে নিজেদের জেলেদের সুরক্ষায় ফিলিপাইন-ও কোস্টগার্ড ও মৎস্যজীবী সহায়তা জাহাজ মোতায়েন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারের চীনা টহল জাহাজের কারণে প্রায়ই ফিলিপাইনের জেলেদের ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে টারিয়েলা জানান, ১০ ও ১১ এপ্রিল স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ ভাসমান বাধা স্থাপন করে চীন। তিনি বলেন, শোলের ভেতরে ছয়টি এবং বাইরে আরও তিনটি চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ অবস্থান করছিল, যা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছিল।

স্কারবরো শোল, যা ফিলিপাইনে ‘বাহো দে মাসিনলোক’ এবং চীনে ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপ’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার ক্ষেত্র। এটি ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়লেও চীনও এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

গত বছর চীন সেখানে একটি জাতীয় প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়, যা ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘দখলের অজুহাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফিলিপাইন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ১০টি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেছে।

দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। যদিও ২০১২ সালের এক অচলাবস্থার পর থেকে চীন কার্যত স্কারবরো শোলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

এ দিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্কারবরো শোল এলাকায় ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া চালায়, যা ছিল তাদের ১১তম যৌথ অনুশীলন। ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র-এর আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের এক রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন বিরোধে ফিলিপাইনের অবস্থান সমর্থন করা হলেও স্কারবরো শোলের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি সে রায়ের আওতার বাইরে ছিল। আদালত তখন বলেছিল, ওই এলাকায় চীনের অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

সূত্র: রয়টার্স