ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

চাইলেও হরমুজ পুরোপুরি খুলে দিতে পারবে না ইরান!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে ইরান। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ইরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু চাইলেও একটি কারণে সেই অবরোধ তুলতে পারবে না ইরান।

সেই কারণটি হলো মাইন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করা অংশ হিসেবে সেখানে জলমাইন পেতেছিল ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

কিন্তু প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন স্থাপন করা হয়েছিল, তা এখন শনাক্ত করতে পারছে না আইআরজিসি। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হরমুজে মাইন পাতার জন্য ছোটো আকারের রণতরী ব্যবহার করেছে আইআরজিসি। কিন্তু প্রণালীর যেসব জায়গায় মাইন পাতা হয়েছে, তার সবগুলো নথিভুক্ত বা রেকর্ড করা হয়েছে কি না— এটি এখনও স্পষ্ট নয়।

অবশ্য মাইন পাতার তথ্য যে একেবারেই নথিভুক্ত করা হয়নি, তা নয়। কিছু এলাকায় মাইন স্থাপনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে আইআরজিসি, কিন্তু সেখানেও সমস্যা আছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির নথিতে যেসব জায়গায় মাইন পাতার রেকর্ড রয়েছে, সেসব মাইনের বেশির ভাগই সরে গেছে কিংবা ভেসে গেছে; অর্থাৎ আগের জায়গায় নেই। এ কারণে এসব মাইন শনাক্ত করা এখন বেশ কঠিন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘হরমুজে এলোমেলোভাবে মাইন পেতেছে ইরান।’

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি হয়। কিন্তু মাইন সমস্যার কারণে দ্রুত জলপথটি নিরাপদ করতে না পারায়, তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের প্রধান অঞ্চলে ‘সমুদ্র মাইনের ঝুঁকি’ উল্লেখ করে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক সকল জাহাজকে জানানো হচ্ছে যে, সামুদ্রিক নিরাপত্তার নীতি মেনে চলতে এবং সমুদ্র মাইনের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে সুরক্ষিত থাকতে…তাদের হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের পরিবর্তে বিকল্প পথ অবলম্বন করা উচিত।’

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এ প্রণালীর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এই তিন দেশের জ্বালানি সরবরাহের ৮০ শতাংশই আসে এই প্রণালি দিয়ে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাইলেও হরমুজ পুরোপুরি খুলে দিতে পারবে না ইরান!

আপডেট সময় : ০৫:১০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে ইরান। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ইরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু চাইলেও একটি কারণে সেই অবরোধ তুলতে পারবে না ইরান।

সেই কারণটি হলো মাইন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করা অংশ হিসেবে সেখানে জলমাইন পেতেছিল ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

কিন্তু প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন স্থাপন করা হয়েছিল, তা এখন শনাক্ত করতে পারছে না আইআরজিসি। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হরমুজে মাইন পাতার জন্য ছোটো আকারের রণতরী ব্যবহার করেছে আইআরজিসি। কিন্তু প্রণালীর যেসব জায়গায় মাইন পাতা হয়েছে, তার সবগুলো নথিভুক্ত বা রেকর্ড করা হয়েছে কি না— এটি এখনও স্পষ্ট নয়।

অবশ্য মাইন পাতার তথ্য যে একেবারেই নথিভুক্ত করা হয়নি, তা নয়। কিছু এলাকায় মাইন স্থাপনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে আইআরজিসি, কিন্তু সেখানেও সমস্যা আছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির নথিতে যেসব জায়গায় মাইন পাতার রেকর্ড রয়েছে, সেসব মাইনের বেশির ভাগই সরে গেছে কিংবা ভেসে গেছে; অর্থাৎ আগের জায়গায় নেই। এ কারণে এসব মাইন শনাক্ত করা এখন বেশ কঠিন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘হরমুজে এলোমেলোভাবে মাইন পেতেছে ইরান।’

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি হয়। কিন্তু মাইন সমস্যার কারণে দ্রুত জলপথটি নিরাপদ করতে না পারায়, তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের প্রধান অঞ্চলে ‘সমুদ্র মাইনের ঝুঁকি’ উল্লেখ করে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক সকল জাহাজকে জানানো হচ্ছে যে, সামুদ্রিক নিরাপত্তার নীতি মেনে চলতে এবং সমুদ্র মাইনের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে সুরক্ষিত থাকতে…তাদের হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের পরিবর্তে বিকল্প পথ অবলম্বন করা উচিত।’

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এ প্রণালীর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এই তিন দেশের জ্বালানি সরবরাহের ৮০ শতাংশই আসে এই প্রণালি দিয়ে।