ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, তার বিচার হবে

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, নারী নির্যাতনকারী ও ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, বাংলাদেশের আইনে তার বিচার হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে প্রতিটি নারী নির্যাতনের ও ধর্ষণের ঘটনাকে রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নারী নির্যাতনকারীর ও ধর্ষকের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকা উচিত না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর।

রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনো আদালতে অনেক মামলা বিচারাধীন আছে; আর ধর্ষকেরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা সচেষ্ট থাকব যাতে একজন ধর্ষকও বিচারের বাইরে না থাকতে পারে এবং বাইরে ঘুরে বেড়াতে না পারে।

রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদেরকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে হলে তৃণমূল থেকেই তা করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে ৩-৪ জন নারীর ভালো অবস্থান নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে না।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মাঠের একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বলতে পারি, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নির্বাচনে নারীদের বেশি করে সুযোগ দিলে, সংসদ নির্বাচনে সরাসরি নির্বাচিত আরো বেশি নারী প্রতিনিধি আমরা দেখতে পাব।’

শ্রদ্ধাভরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারীর ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক দীপ্তিমান মহাকাব্য রচনা করেছিলেন।

নারী শিক্ষা বিস্তারে তার দূরদর্শী পদক্ষেপ, কন্যাশিশুদের জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা ও বৃত্তির প্রবর্তন ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের সাহসী অঙ্গীকার।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অনন্য এক অগ্রদূত ছিলেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নীতির ফলেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক নতুন দিগন্তে যাত্রা শুরু করে। লাখ লাখ নারী প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন ও কল্যাণে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিতকল্পে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। একইসঙ্গে, দরিদ্র পরিবারের, বিশেষ করে মহিলাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। অনলাইন হয়রানি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন, এসিড আক্রমণ এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, অনানুষ্ঠানিক কর্মে নারীদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের জিডিপিতে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলিত হয়।

গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের সুরক্ষা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ’ উল্লেখ করেন তিনি বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনমতের সুষ্ঠু প্রকাশের জন্য সরকার উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, প্রতিটি সাংবাদিক স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করবে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, তার বিচার হবে

আপডেট সময় : ১১:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, নারী নির্যাতনকারী ও ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, বাংলাদেশের আইনে তার বিচার হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে প্রতিটি নারী নির্যাতনের ও ধর্ষণের ঘটনাকে রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নারী নির্যাতনকারীর ও ধর্ষকের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকা উচিত না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর।

রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনো আদালতে অনেক মামলা বিচারাধীন আছে; আর ধর্ষকেরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা সচেষ্ট থাকব যাতে একজন ধর্ষকও বিচারের বাইরে না থাকতে পারে এবং বাইরে ঘুরে বেড়াতে না পারে।

রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদেরকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে হলে তৃণমূল থেকেই তা করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে ৩-৪ জন নারীর ভালো অবস্থান নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে না।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মাঠের একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বলতে পারি, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নির্বাচনে নারীদের বেশি করে সুযোগ দিলে, সংসদ নির্বাচনে সরাসরি নির্বাচিত আরো বেশি নারী প্রতিনিধি আমরা দেখতে পাব।’

শ্রদ্ধাভরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারীর ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক দীপ্তিমান মহাকাব্য রচনা করেছিলেন।

নারী শিক্ষা বিস্তারে তার দূরদর্শী পদক্ষেপ, কন্যাশিশুদের জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা ও বৃত্তির প্রবর্তন ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের সাহসী অঙ্গীকার।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অনন্য এক অগ্রদূত ছিলেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নীতির ফলেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক নতুন দিগন্তে যাত্রা শুরু করে। লাখ লাখ নারী প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন ও কল্যাণে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিতকল্পে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। একইসঙ্গে, দরিদ্র পরিবারের, বিশেষ করে মহিলাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। অনলাইন হয়রানি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন, এসিড আক্রমণ এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, অনানুষ্ঠানিক কর্মে নারীদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের জিডিপিতে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলিত হয়।

গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের সুরক্ষা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ’ উল্লেখ করেন তিনি বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনমতের সুষ্ঠু প্রকাশের জন্য সরকার উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, প্রতিটি সাংবাদিক স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করবে।