ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেনাডার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের যাত্রা শুরু

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪১ বার পড়া হয়েছে

গ্রেনাডার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এ সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম এবং গ্রেনাডার পক্ষে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা উভয় দেশই ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন যোগাযোগ ও আদান-প্রদান থাকলেও এতদিন দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদিত এ পদক্ষেপ দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এটি কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্য বৈশ্বিক ব্যবস্থার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর এ সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে আবিদা ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা একসঙ্গে আরও জোরালো কণ্ঠে কথা বলবে। দুর্যোগ সহনশীলতায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গ্রেনাডার প্রভাবশালী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের ওষুধ ও বস্ত্র খাতে বৈশ্বিক সক্ষমতা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে গ্রেনাডার কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

গ্রেনাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি বলেন, বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা উভয়ই কমনওয়েলথভুক্ত দেশ এবং গণতন্ত্র, উন্নয়ন, আইনের শাসন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার অভিন্ন নীতিতে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহনশীলতার মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

আপলোডকারীর তথ্য

অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়?

গ্রেনাডার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের যাত্রা শুরু

আপডেট সময় : ১২:০৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গ্রেনাডার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এ সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম এবং গ্রেনাডার পক্ষে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা উভয় দেশই ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন যোগাযোগ ও আদান-প্রদান থাকলেও এতদিন দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদিত এ পদক্ষেপ দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এটি কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্য বৈশ্বিক ব্যবস্থার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর এ সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে আবিদা ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা একসঙ্গে আরও জোরালো কণ্ঠে কথা বলবে। দুর্যোগ সহনশীলতায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গ্রেনাডার প্রভাবশালী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের ওষুধ ও বস্ত্র খাতে বৈশ্বিক সক্ষমতা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে গ্রেনাডার কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

গ্রেনাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি বলেন, বাংলাদেশ ও গ্রেনাডা উভয়ই কমনওয়েলথভুক্ত দেশ এবং গণতন্ত্র, উন্নয়ন, আইনের শাসন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার অভিন্ন নীতিতে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহনশীলতার মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।