ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবার সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করল বুরকিনা ফাসো।

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর সামরিক সমর্থিত সরকার সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি অনুমোদন করে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কার্যক্রম স্থগিত থাকা সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলো। 

সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বুরকিনা ফাসো আল-কায়েদা ও আইএস (আইএসআইএস)-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিদ্রোহ দমনে হিমশিম খাচ্ছে।

একই সঙ্গে ভিন্নমত দমনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমালোচনার মুখে রয়েছে দেশটির সামরিক সরকার।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জার্বো বলেন, বহুদিন ধরে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ‘ব্যাপক অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা’ চলছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সরকারি পর্যালোচনার বরাতে জার্বো বলেন, রাজনৈতিক দলের অতিরিক্ত সংখ্যা দেশে বিভাজন বাড়িয়েছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে।

নতুন ডিক্রি অনুযায়ী, সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক গঠনের কার্যক্রম বন্ধ করা হলো এবং তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় যাবে।

২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বুরকিনা ফাসোয় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল ১০০টির বেশি। ওই নির্বাচনের পর সংসদে ১৫টি দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন।

এর আট মাস আগেই আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রোশ মার্ক কাবোরেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।

ক্ষমতা নেওয়ার পর সামরিক সরকার সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে।

ভিন্নমত দমনের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে সরকার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মিডিয়া ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধের নির্দেশ দেয়।

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার মধ্যেই বুরকিনা ফাসো প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এই তিন সামরিক-শাসিত দেশ মিলে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস (এইএস)’ নামে একটি জোট গঠন করেছে, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা।

আপলোডকারীর তথ্য

মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত

এবার সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করল বুরকিনা ফাসো।

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর সামরিক সমর্থিত সরকার সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি অনুমোদন করে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কার্যক্রম স্থগিত থাকা সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলো। 

সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বুরকিনা ফাসো আল-কায়েদা ও আইএস (আইএসআইএস)-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিদ্রোহ দমনে হিমশিম খাচ্ছে।

একই সঙ্গে ভিন্নমত দমনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমালোচনার মুখে রয়েছে দেশটির সামরিক সরকার।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জার্বো বলেন, বহুদিন ধরে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ‘ব্যাপক অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা’ চলছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সরকারি পর্যালোচনার বরাতে জার্বো বলেন, রাজনৈতিক দলের অতিরিক্ত সংখ্যা দেশে বিভাজন বাড়িয়েছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে।

নতুন ডিক্রি অনুযায়ী, সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক গঠনের কার্যক্রম বন্ধ করা হলো এবং তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় যাবে।

২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বুরকিনা ফাসোয় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল ১০০টির বেশি। ওই নির্বাচনের পর সংসদে ১৫টি দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন।

এর আট মাস আগেই আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রোশ মার্ক কাবোরেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।

ক্ষমতা নেওয়ার পর সামরিক সরকার সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে।

ভিন্নমত দমনের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে সরকার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মিডিয়া ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধের নির্দেশ দেয়।

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার মধ্যেই বুরকিনা ফাসো প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এই তিন সামরিক-শাসিত দেশ মিলে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস (এইএস)’ নামে একটি জোট গঠন করেছে, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা।