ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

তেজস বিধ্বস্ত হওয়ায় চাহিদা বাড়ল পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের

দুবাই এয়ার শো-২০২৫ -এ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভারতীয় তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর পাইলট নিহত হয়েছেন। 

অন্যদিকে পাকিস্তানের গর্ব জেএফ-১৭ থান্ডার বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তান একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশটির সঙ্গে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির জন্য সমঝোতা স্মারক সই করেছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

শুক্রবার দুবাই থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তবে, কোন কোন দেশে কতটি জেএফ-১৭ বিক্রি করা হবে—এ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আরও কয়েকটি দেশ জেএফ-১৭ কেনার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে, যা পাকিস্তানের বিমান শিল্পের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন।

এর আগে, ২০২৪ সালে আজারবাইজান জেএফ-১৭ ব্লক–৩ কেনার জন্য ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল।

এদিকে এয়ারশোতে অংশ নেওয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিদ্দিকি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর বিমানবাহিনীর প্রধান ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।

তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পাইলট) ইব্রাহিম নাসের আল–আলাওয়ি এবং ইউএই এয়ার ফোর্স অ্যান্ড এয়ার ডিফেন্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল রাশিদ মোহাম্মদ আল–শামসির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে উন্নত প্রশিক্ষণ উদ্যোগ, এয়ারোস্পেস প্রযুক্তি সহযোগিতা, যৌথ পরিচালন সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউএই সামরিক নেতৃত্ব পাকিস্তান বিমানবাহিনীর উদ্ভাবন, পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করে এবং দুই পক্ষই যৌথ মহড়া, পেশাগত বিনিময় ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয়।

দুবাই এয়ার শোতে জেএফ-১৭ ব্লক–৩ ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রে। প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক–৩ এবং সুপার মাশশাক প্রশিক্ষণ বিমান তুলে ধরা হয়।

উন্নত জেএফ-১৭ ব্লক–৩ এয়ারশোর মূল আকর্ষণে পরিণত হয়—এর আধুনিক অ্যাভিওনিক্স, বাড়তি কৌশলগত সক্ষমতা, উন্নত অস্ত্র সংযোজন ক্ষমতা এবং শক্তিশালী রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম দর্শনার্থী ও বিশেষজ্ঞদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এই স্বীকৃতি পাকিস্তানের নিজস্ব এয়ারস্পেস সক্ষমতার বৈশ্বিক সুনাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেএফ-১৭ থান্ডার হলো পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উন্নয়নে তৈরি হালকা, মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর আধুনিক বহরের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং আকাশে লড়াই, ভূমিতে হামলা, নজরদারি—বহুমুখী মিশনে ব্যবহৃত হয়।

কম খরচে, আধুনিক নকশা এবং সহজে প্রযুক্তি অভিযোজনযোগ্যতার কারণে অনেক দেশের জন্য এটি একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত।

দুবাই এয়ার শোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পাকিস্তান বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে নিজ অবস্থান আরও শক্ত করেছে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ প্রকল্পের অগ্রগতি দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি সম্ভাবনাকে বিস্তৃত করেছে এবং জাতীয় গর্ব আরও বাড়িয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তেজস বিধ্বস্ত হওয়ায় চাহিদা বাড়ল পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

দুবাই এয়ার শো-২০২৫ -এ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভারতীয় তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর পাইলট নিহত হয়েছেন। 

অন্যদিকে পাকিস্তানের গর্ব জেএফ-১৭ থান্ডার বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তান একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশটির সঙ্গে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির জন্য সমঝোতা স্মারক সই করেছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

শুক্রবার দুবাই থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তবে, কোন কোন দেশে কতটি জেএফ-১৭ বিক্রি করা হবে—এ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আরও কয়েকটি দেশ জেএফ-১৭ কেনার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে, যা পাকিস্তানের বিমান শিল্পের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন।

এর আগে, ২০২৪ সালে আজারবাইজান জেএফ-১৭ ব্লক–৩ কেনার জন্য ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল।

এদিকে এয়ারশোতে অংশ নেওয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিদ্দিকি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর বিমানবাহিনীর প্রধান ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।

তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পাইলট) ইব্রাহিম নাসের আল–আলাওয়ি এবং ইউএই এয়ার ফোর্স অ্যান্ড এয়ার ডিফেন্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল রাশিদ মোহাম্মদ আল–শামসির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে উন্নত প্রশিক্ষণ উদ্যোগ, এয়ারোস্পেস প্রযুক্তি সহযোগিতা, যৌথ পরিচালন সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউএই সামরিক নেতৃত্ব পাকিস্তান বিমানবাহিনীর উদ্ভাবন, পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করে এবং দুই পক্ষই যৌথ মহড়া, পেশাগত বিনিময় ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হয়।

দুবাই এয়ার শোতে জেএফ-১৭ ব্লক–৩ ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রে। প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক–৩ এবং সুপার মাশশাক প্রশিক্ষণ বিমান তুলে ধরা হয়।

উন্নত জেএফ-১৭ ব্লক–৩ এয়ারশোর মূল আকর্ষণে পরিণত হয়—এর আধুনিক অ্যাভিওনিক্স, বাড়তি কৌশলগত সক্ষমতা, উন্নত অস্ত্র সংযোজন ক্ষমতা এবং শক্তিশালী রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম দর্শনার্থী ও বিশেষজ্ঞদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এই স্বীকৃতি পাকিস্তানের নিজস্ব এয়ারস্পেস সক্ষমতার বৈশ্বিক সুনাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেএফ-১৭ থান্ডার হলো পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উন্নয়নে তৈরি হালকা, মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর আধুনিক বহরের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং আকাশে লড়াই, ভূমিতে হামলা, নজরদারি—বহুমুখী মিশনে ব্যবহৃত হয়।

কম খরচে, আধুনিক নকশা এবং সহজে প্রযুক্তি অভিযোজনযোগ্যতার কারণে অনেক দেশের জন্য এটি একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত।

দুবাই এয়ার শোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পাকিস্তান বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে নিজ অবস্থান আরও শক্ত করেছে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ প্রকল্পের অগ্রগতি দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি সম্ভাবনাকে বিস্তৃত করেছে এবং জাতীয় গর্ব আরও বাড়িয়েছে।