ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

দুর্নীতি ও গুপ্তচরবৃত্তি: ২৩৫২ বছরের কারাদণ্ডের মুখে ইস্তানবুলের মেয়র

তুরস্কের বিরোধী দল সিএইচপি’র প্রভাবশালী নেতা ও ইস্তানবুল শহরের মেয়র একরেম ইমামওলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৪২টি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তাকে ২ হাজার বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।

যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমামওলু। বুধবার (১২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, তুরস্কের বিরোধী রাজনীতিক ও ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামওলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৪২টি অভিযোগ এনেছেন দেশটির প্রধান প্রসিকিউটর। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৫২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ইমামওলু প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। গত মার্চ থেকে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক-বিচারিক আটক অবস্থায় রয়েছেন।

ইমামওলু এবং তার দল বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় সরকার রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে এই মামলা দায়ের করেছে।

তবে ইস্তানবুলের প্রধান প্রসিকিউটর শুধু ইমামওলুকে নয় আরও ৪০১ জনকে অভিযুক্ত করেছেন। প্রসিকিউটর আকিন গুরলেক বলেন, আট মাসের তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১০৫ জন ইতোমধ্যে আটক রয়েছেন। তারা ঘুষ নেওয়া, অর্থ পাচার এবং অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ১৬০ বিলিয়ন লিরা (প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতি করেছেন।

৫৪ বছর বয়সী ইমামওলুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ১২টি, অর্থপাচারের ৭টি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জালিয়াতির আরও ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আনাদোলু সংবাদ সংস্থার হিসাবে, এসব অভিযোগে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৪৩০ বছর পর্যন্ত।

গত মার্চে ইমামওলুর গ্রেপ্তারের পর তুরস্কজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শত শত মানুষকে সেসময় আটক করা হয় এবং পুলিশের দমন অভিযান চলে। এরপর থেকে তিনি ইস্তানবুলের মারমারা কারাগারে আটক আছেন।

দুর্নীতি মামলার পাশাপাশি ইমামওলুর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি, জাল সনদ ব্যবহারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বাতিলও করা হয়েছে। ফলে, আইন অনুযায়ী, তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

ইমামওলু ২০১৯ সালে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন একে পার্টির প্রার্থীকে প্রায় দশ লাখ ভোটে পরাজিত করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতি ও গুপ্তচরবৃত্তি: ২৩৫২ বছরের কারাদণ্ডের মুখে ইস্তানবুলের মেয়র

আপডেট সময় : ০২:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

তুরস্কের বিরোধী দল সিএইচপি’র প্রভাবশালী নেতা ও ইস্তানবুল শহরের মেয়র একরেম ইমামওলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৪২টি অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তাকে ২ হাজার বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।

যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমামওলু। বুধবার (১২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, তুরস্কের বিরোধী রাজনীতিক ও ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামওলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৪২টি অভিযোগ এনেছেন দেশটির প্রধান প্রসিকিউটর। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৫২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ইমামওলু প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। গত মার্চ থেকে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক-বিচারিক আটক অবস্থায় রয়েছেন।

ইমামওলু এবং তার দল বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় সরকার রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে এই মামলা দায়ের করেছে।

তবে ইস্তানবুলের প্রধান প্রসিকিউটর শুধু ইমামওলুকে নয় আরও ৪০১ জনকে অভিযুক্ত করেছেন। প্রসিকিউটর আকিন গুরলেক বলেন, আট মাসের তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১০৫ জন ইতোমধ্যে আটক রয়েছেন। তারা ঘুষ নেওয়া, অর্থ পাচার এবং অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ১৬০ বিলিয়ন লিরা (প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতি করেছেন।

৫৪ বছর বয়সী ইমামওলুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ১২টি, অর্থপাচারের ৭টি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জালিয়াতির আরও ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আনাদোলু সংবাদ সংস্থার হিসাবে, এসব অভিযোগে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৪৩০ বছর পর্যন্ত।

গত মার্চে ইমামওলুর গ্রেপ্তারের পর তুরস্কজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শত শত মানুষকে সেসময় আটক করা হয় এবং পুলিশের দমন অভিযান চলে। এরপর থেকে তিনি ইস্তানবুলের মারমারা কারাগারে আটক আছেন।

দুর্নীতি মামলার পাশাপাশি ইমামওলুর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি, জাল সনদ ব্যবহারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বাতিলও করা হয়েছে। ফলে, আইন অনুযায়ী, তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

ইমামওলু ২০১৯ সালে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন একে পার্টির প্রার্থীকে প্রায় দশ লাখ ভোটে পরাজিত করেন।