ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

‘মেলিসা’র তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড উপকূল, প্রাণ গেল ৩০ জনের

আটলান্টিক মহাসাগরে অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় ‘মেলিসা’। ঘূর্ণিঝড়টি ২৯৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে এসে ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। 

মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) তথ্যমতে, এটি ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ঝড়, যা প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা সৃষ্টি করে বহু এলাকা প্লাবিত করেছে। খবর  বিবিসি ও রয়টার্সের।

এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে শত শত গ্রামীণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, জ্যামাইকাতে ব্যাপক ধ্বংসও ঘটেছে এবং হাইতিতে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

জ্যামাইকা সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি সহায়তা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল খোলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, জ্যামাইকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে, যা আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়কে ক্যাটাগরি-৫ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৭৪ বছরে এত ভয়ঙ্কর ঝড় দেখেনি জামাইকা। এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় হিসাবেও বর্ণনা করা হচ্ছে একে।

জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস হারিকেনের প্রভাবকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মেলিসার মোকাবিলা করতে পারে এমন পরিকাঠামো দেশে নেই। তাই তিনি বাসিন্দাদের সাবধান থাকার অনুরোধ করেছিলেন।

জ্যামাইকায় মেলিসার ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকাজও পুরোদমে শুরু করা যায়নি। বহু মানুষ ঘরছাড়া। নিখোঁজ অনেকে। মেলিসা আঘাত হানার সময় প্রায় ২৫ হাজার পর্যটক জ্যামাইকায় ছিলেন।

বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে বার্বাডোজের একটি ত্রাণ সরবরাহ শিবির থেকে জ্যামাইকায় প্রায় ২ হাজার ত্রাণ সরঞ্জাম বিমানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কিউবা এবং হাইতিসহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এমন সব দেশেই সহায়তার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কিউবা সরকার ৭ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, বাহামা দ্বীপপুঞ্জের সরকার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে সরিয়ে নেয়।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। সারা দেশে ১ হাজারের বেশি বাড়ি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ১২ হাজার মানুষ জরুরি আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘মেলিসা’র তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড উপকূল, প্রাণ গেল ৩০ জনের

আপডেট সময় : ০৩:২২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

আটলান্টিক মহাসাগরে অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় ‘মেলিসা’। ঘূর্ণিঝড়টি ২৯৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে এসে ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। 

মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) তথ্যমতে, এটি ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ঝড়, যা প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা সৃষ্টি করে বহু এলাকা প্লাবিত করেছে। খবর  বিবিসি ও রয়টার্সের।

এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে শত শত গ্রামীণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, জ্যামাইকাতে ব্যাপক ধ্বংসও ঘটেছে এবং হাইতিতে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

জ্যামাইকা সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি সহায়তা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল খোলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, জ্যামাইকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে, যা আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়কে ক্যাটাগরি-৫ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৭৪ বছরে এত ভয়ঙ্কর ঝড় দেখেনি জামাইকা। এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় হিসাবেও বর্ণনা করা হচ্ছে একে।

জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস হারিকেনের প্রভাবকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মেলিসার মোকাবিলা করতে পারে এমন পরিকাঠামো দেশে নেই। তাই তিনি বাসিন্দাদের সাবধান থাকার অনুরোধ করেছিলেন।

জ্যামাইকায় মেলিসার ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকাজও পুরোদমে শুরু করা যায়নি। বহু মানুষ ঘরছাড়া। নিখোঁজ অনেকে। মেলিসা আঘাত হানার সময় প্রায় ২৫ হাজার পর্যটক জ্যামাইকায় ছিলেন।

বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে বার্বাডোজের একটি ত্রাণ সরবরাহ শিবির থেকে জ্যামাইকায় প্রায় ২ হাজার ত্রাণ সরঞ্জাম বিমানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কিউবা এবং হাইতিসহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এমন সব দেশেই সহায়তার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কিউবা সরকার ৭ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, বাহামা দ্বীপপুঞ্জের সরকার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে সরিয়ে নেয়।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। সারা দেশে ১ হাজারের বেশি বাড়ি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ১২ হাজার মানুষ জরুরি আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিয়েছেন।