ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ভোগ্যপণ্য মানেই আমদানিনির্ভরতা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে
দেশে ভোগ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। চাহিদা পূরণে ডাল, গম, ভুট্টা, ছোলা, মটর ডাল, দুগ্ধজাত খাবার, মধুসহ ১০ ধরনের বেশি ভোগ্যপণ্য আমদানি করতে হয়। সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চিনি শতভাগই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে বাকি পণ্যগুলোর উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতি বছর হুহু করে ভোগ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে মোট আমদানির ৬৮ শতাংশেই ভারত, চীন ও নিউজল্যান্ডের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ২০২৪ সালে ২১১ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের কনজিউমার রিলেটেড পণ্য আমদানি করেছে। ২০২৩-এ এর পরিমাণ ছিল ২০১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের ৬৮ শতাংশই তিন দেশের। এর মধ্যে ভারত থেকে ৩৫ শতাংশ, চীন থেকে ২২ ও নিউজিল্যান্ড থেকে ১১ ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে।

এর মধ্যে ২০২২-২৩ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব থেকে বেশি চাল, গম, ডাল, চিনি, আদা, শিশু খাদ্য, শুকনো মরিচের আমদানি হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত থেকে ৩২৭ মিলিয়ন ডলারের চাল, ২২৪ মিলিয়নের গম, ৭৫ মিলিয়ন ডলারের ছোলা, ১২১ মিলিয়ন ডলারের শুকনো মরিচ আমদানি হয়েছে। দুই বছর পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৫৬ মিলিয়ন ডলারের চাল, ১২০ মিলিয়ন ডলারের চিনি, ২০০ মিলিয়ন ডলারের পিঁয়াজ ও ১১৩ মিলিয়ন ডলারের শুকনো মরিচের আমদানি বাড়ে।

অন্যদিকে চীন থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪৫ মিলিয়ন ডলারের রসুন, ২৭ মিলিয়ন ডলারের আদা, প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলারের জিরা ও ১২ মিলিয়ন ডলারের দারুচিনির আমদানি হয়। আগের অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ এ ৩৪ মিলিয়ন ডলারের রসুন আমদানি বাড়ে। একইভাবে ৩০ মিলিয়ন ডলারের আদা, ৯ মিলিয়ন ডলারের দারুচিনি আমদানি করতে হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, কৃষিজমি বিলুপ্তি, সঠিক গবেষণার অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাসসহ নানা জটিলতায় দেশের ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। বিপরীতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে প্রতি বছর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে জমির পরিমাণ তিন কোটি ৬৪ লাখ ৬৫ হাজার একর। এর মধ্যে দুই কোটি ৮১ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হয়। এ ছাড়া প্রায় ছয় লাখ ৭১ হাজার একর জমি আবাদযোগ্য হওয়ার পরও তা চাষের আওতায় আসেনি। তাছাড়া ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে আবাদি জমি ১৯ দশমিক ৮৩ লাখ একরে নেমে এসেছে, যা আগে ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৮ লাখ একর। তিন বছরে আবাদি জমি কমেছে ১ শতাংশ, যা গত এক দশকে সর্বোচ্চ হ্রাসের ঘটনা।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের কৃষিজমি বিলুপ্তির প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সাল পরবর্তী ১২ বছরে দেশে প্রতিবছর ৬৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর আবাদি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, চাহিদামতো ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদেরই শুধু নয়, বরং বিশ্বের কোনো দেশের পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা নেই। কোনো দেশের সক্ষমতা থাকলে তাদেরও উচিত হবে না সব ধরনের পণ্যের উৎপাদন করা। পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়লে কম খরচে আমদানি করে খাদ্যের চাহিটা মেটানো সঠিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি আর বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্য আমাদের চাহিদার জন্য যথেষ্ট নয়। তাছাড়া উৎপাদন খরচ বাড়ায়, কম খরচে একই পণ্য আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা উত্তম। তবে খেয়াল রাখতে হবে- রপ্তানি ও আমদানিতে আমাদের ভারসাম্য বজায় থাকতে হবে। এমন যেন না হয়, খাদ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমদানি খরচে যাতে ঋণে বোঝায় ডুবে না যাই।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভোগ্যপণ্য মানেই আমদানিনির্ভরতা

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
দেশে ভোগ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। চাহিদা পূরণে ডাল, গম, ভুট্টা, ছোলা, মটর ডাল, দুগ্ধজাত খাবার, মধুসহ ১০ ধরনের বেশি ভোগ্যপণ্য আমদানি করতে হয়। সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চিনি শতভাগই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে বাকি পণ্যগুলোর উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতি বছর হুহু করে ভোগ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে মোট আমদানির ৬৮ শতাংশেই ভারত, চীন ও নিউজল্যান্ডের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ২০২৪ সালে ২১১ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের কনজিউমার রিলেটেড পণ্য আমদানি করেছে। ২০২৩-এ এর পরিমাণ ছিল ২০১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের ৬৮ শতাংশই তিন দেশের। এর মধ্যে ভারত থেকে ৩৫ শতাংশ, চীন থেকে ২২ ও নিউজিল্যান্ড থেকে ১১ ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে।

এর মধ্যে ২০২২-২৩ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব থেকে বেশি চাল, গম, ডাল, চিনি, আদা, শিশু খাদ্য, শুকনো মরিচের আমদানি হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত থেকে ৩২৭ মিলিয়ন ডলারের চাল, ২২৪ মিলিয়নের গম, ৭৫ মিলিয়ন ডলারের ছোলা, ১২১ মিলিয়ন ডলারের শুকনো মরিচ আমদানি হয়েছে। দুই বছর পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৫৬ মিলিয়ন ডলারের চাল, ১২০ মিলিয়ন ডলারের চিনি, ২০০ মিলিয়ন ডলারের পিঁয়াজ ও ১১৩ মিলিয়ন ডলারের শুকনো মরিচের আমদানি বাড়ে।

অন্যদিকে চীন থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪৫ মিলিয়ন ডলারের রসুন, ২৭ মিলিয়ন ডলারের আদা, প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলারের জিরা ও ১২ মিলিয়ন ডলারের দারুচিনির আমদানি হয়। আগের অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ এ ৩৪ মিলিয়ন ডলারের রসুন আমদানি বাড়ে। একইভাবে ৩০ মিলিয়ন ডলারের আদা, ৯ মিলিয়ন ডলারের দারুচিনি আমদানি করতে হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, কৃষিজমি বিলুপ্তি, সঠিক গবেষণার অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাসসহ নানা জটিলতায় দেশের ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। বিপরীতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে প্রতি বছর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে জমির পরিমাণ তিন কোটি ৬৪ লাখ ৬৫ হাজার একর। এর মধ্যে দুই কোটি ৮১ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হয়। এ ছাড়া প্রায় ছয় লাখ ৭১ হাজার একর জমি আবাদযোগ্য হওয়ার পরও তা চাষের আওতায় আসেনি। তাছাড়া ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে আবাদি জমি ১৯ দশমিক ৮৩ লাখ একরে নেমে এসেছে, যা আগে ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৮ লাখ একর। তিন বছরে আবাদি জমি কমেছে ১ শতাংশ, যা গত এক দশকে সর্বোচ্চ হ্রাসের ঘটনা।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের কৃষিজমি বিলুপ্তির প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সাল পরবর্তী ১২ বছরে দেশে প্রতিবছর ৬৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর আবাদি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, চাহিদামতো ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদেরই শুধু নয়, বরং বিশ্বের কোনো দেশের পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা নেই। কোনো দেশের সক্ষমতা থাকলে তাদেরও উচিত হবে না সব ধরনের পণ্যের উৎপাদন করা। পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়লে কম খরচে আমদানি করে খাদ্যের চাহিটা মেটানো সঠিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি আর বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্য আমাদের চাহিদার জন্য যথেষ্ট নয়। তাছাড়া উৎপাদন খরচ বাড়ায়, কম খরচে একই পণ্য আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা উত্তম। তবে খেয়াল রাখতে হবে- রপ্তানি ও আমদানিতে আমাদের ভারসাম্য বজায় থাকতে হবে। এমন যেন না হয়, খাদ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমদানি খরচে যাতে ঋণে বোঝায় ডুবে না যাই।