ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

আফগান-পাকিস্তান সংঘাত দুই মুসলিম প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি : ইরান

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চলমান সীমান্তসংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দুই মুসলিম প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, শনিবার আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে এক ফোনালাপে আরাগচি। এসময় আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, সংঘাত বন্ধ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি সতর্ক করে বলেন, দুই মুসলিম প্রতিবেশীর মধ্যে এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে কেবল মানবিক ক্ষয়ক্ষতি করবে না, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং গঠনমূলক সংলাপ সহজতর করতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি আরাগচিকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, তালেবান সরকার সামরিক সংঘাতের চেয়ে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেয়।

মেহর নিউজ আরও জানিয়েছে, ফোনালাপে দুই মন্ত্রী হেলমান্দ নদীর পানির অধিকারের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেছেন। এসময় বিদ্যমান পানি চুক্তি বহাল রাখার, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করার এবং যৌথভাবে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ পরামর্শ এবং সমন্বয় অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর রাতে পাকিস্তানি তালেবানপন্থি রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যদের লক্ষ্য করে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান অভিযান চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। সেই অভিযানে নিহত হন টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ. দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ টিটিপির বেশ কয়েক জন সম্মুখ সারির নেতা। এ অভিযানের ২ দিন পর ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি সেনা চৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী। পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলে এই সংঘাত।

চার দিন সংঘাতের পর গত ১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে যায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয় গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহনী। হামলায় দুই প্রদেশে নিহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি এবং আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। এরপর রাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয় কাবুল ও ইসলামাবাদ।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আফগান-পাকিস্তান সংঘাত দুই মুসলিম প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি : ইরান

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চলমান সীমান্তসংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দুই মুসলিম প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, শনিবার আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে এক ফোনালাপে আরাগচি। এসময় আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, সংঘাত বন্ধ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি সতর্ক করে বলেন, দুই মুসলিম প্রতিবেশীর মধ্যে এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে কেবল মানবিক ক্ষয়ক্ষতি করবে না, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং গঠনমূলক সংলাপ সহজতর করতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি আরাগচিকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, তালেবান সরকার সামরিক সংঘাতের চেয়ে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেয়।

মেহর নিউজ আরও জানিয়েছে, ফোনালাপে দুই মন্ত্রী হেলমান্দ নদীর পানির অধিকারের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেছেন। এসময় বিদ্যমান পানি চুক্তি বহাল রাখার, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করার এবং যৌথভাবে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ পরামর্শ এবং সমন্বয় অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর রাতে পাকিস্তানি তালেবানপন্থি রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যদের লক্ষ্য করে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান অভিযান চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। সেই অভিযানে নিহত হন টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ. দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ টিটিপির বেশ কয়েক জন সম্মুখ সারির নেতা। এ অভিযানের ২ দিন পর ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি সেনা চৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী। পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলে এই সংঘাত।

চার দিন সংঘাতের পর গত ১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে যায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয় গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহনী। হামলায় দুই প্রদেশে নিহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি এবং আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। এরপর রাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয় কাবুল ও ইসলামাবাদ।