ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

দেশ বাঁচাতে দ্রুত নির্বাচন দরকার: মির্জা ফখরুল।

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের গণসংযোগে বিএনপি মহাসচিব ।

সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আর বিভাজন করবেন না, আর কোনো দাবি তুলে বিভেদ তৈরি করবেন না। গণভোট, পিআর নিয়ে আর আন্দোলন করবেন না। নির্বাচনটা হতে দেন, দেশের মানুষ বাঁচুক। দেশের মানুষকে বাঁচাতে তাড়াতাড়ি ভোট হতে দেন।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের গণসংযোগের অংশ হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ঠাকুরগাঁওয়ের বাইরে থাকতে হয়েছে, জেলখানায় থাকতে হয়েছে। ১১ বার জেলে গেছি, সাড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করতেন আমি ভয়ের লোক, তাই কারাগারে যেতে হতো।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ যে প্রার্থীকে ভোট দেবেন তিনি সংসদে গিয়ে আপনাদের জন্য কথা বলবেন সেটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। সে নিয়মে ভোট হয়ে এসেছে। তবে এবারের নির্বাচন একটু ভিন্ন, যেখানে পার্লামেন্টে দুইটা কক্ষ থাকবে, উচ্চ ও নিম্নকক্ষ। নিম্নকক্ষে দল থেকে মনোনীত ও আপনাদের ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।

আর উচ্চেকক্ষে যারা প্রতিনিধি হবেন তারা আলেম সমাজের মানুষ, বিজ্ঞ সমাজ, হিন্দু-বৌদ্ধ সবাই থাকবেন সেখানে। যারা আপনাদের নিয়ে কাজ ও কথা করবেন। সবাই মিলে থাকাটাই বাংলাদেশ। শত ফুল ফুটতে দাও৷ সকল ফুল ফুটলে সৌরভটা ছড়ায় যাবে।

তিনি আরও বলেন, হিংসার রাজনীতি চাই না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বিভেদ চাই না সবাই মিলে থাকতে চাই। শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রই বিএনপির চাওয়া। ভাগাভাগি আর না করেন, ক্ষতি অনেক হয়েছে। ক্ষতি আর চাই না। সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকতে চাই সবাই।

জনগণ যাকে ভোট দিবে তিনি নির্বাচিত হবেন৷ মানসিকতা ঠিক রাখতে হবে। তাহলে সুন্দর দেশ গঠন সম্ভব এ কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবাইকে মনে রাখতে বললেন দেশটাকে সুন্দর করতে ছুটছি আমরা।

ভোট হবে আমার ভোট আমি দিবো যাকে খুশি তাকে দিবো। ভোট সবাই দিবে, সঠিক প্রতিনিধি পাবে জনগণে। বিভাজন যেন না থাকে বলেও জানান তিনি।

জুলাই সনদ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,  শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) এ সনদে স্বাক্ষর করা হবে। কঠিন শব্দ জনগণ কম বোঝে, তারপরও এটা করা হবে, সবাই যারা একমত হয়েছে তা নিয়ে সনদ হবে।

সনদ হচ্ছে, ঘরের নতুন টিন লাগানোর মতো। ঘরের চালে নতুন টিন লাগানো হচ্ছে, দরজায় কব্জা লাগাতে হবে জং ধরেছে সংস্কারও তাই। দেশের রাজনীতি সংস্কার করতে হবে সেজন্যই সংস্কার করছি আমরা

সংস্কার প্রস্তাবে যেগুলোতে একমত হয়েছি সেগুলোতে স্বাক্ষর হবে আর যেগুলো হয়নি সেগুলো জনগণের কাছে যেতে হবে তাদের সমর্থন লাগবে বলেও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১ কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। স্বাস্থ্য-শিক্ষাখাতে গুরুত্ব দেয়া হবে।

তিনি বলেন,  সব দলের প্রতি আহ্বান আর বিভাজন করবেন না, আর কোনো দাবি তুলে বিভেদ তৈরি করবেন না। গণভোট, পিআর নিয়ে আর আন্দোলন করবেন না। পিআর নিয়ে তর্ক বিতর্ক হতে পারে, যেটা পরবর্তী সংসদে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু না, তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। নির্বাচনটা হতে দেন, দেশের মানুষ বাঁচুক। দেশের মানুষকে বাঁচতে তাড়াতাড়ি ভোট হতে দেন।

যারা আন্দোলন করছেন তাদের উদ্দেশ্যটা ভালো না, তারা ভণ্ডুল করতে চায় নির্বাচনকে। সবাই ভোট দিতে চায়। দয়া করে নির্বাচনটা করতে দেন, নির্বাচিত সংসদ আসুক পরে এগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। হিংসার রাজনীতি করতে চাই না। একটা মানুষও যেনো গুলি খেয়ে না মরে বলেও জানান বিএনপির এ নেতা।

বিএনপির এ নেতা এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে ছুটে বেড়াচ্ছেন উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন প্রান্তরে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ধানের শীষের পক্ষে ভোট টানতে নিজ সংসদীয় আসনে জনসংযোগ করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের গড়েয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশ বাঁচাতে দ্রুত নির্বাচন দরকার: মির্জা ফখরুল।

আপডেট সময় : ০৫:৪২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের গণসংযোগে বিএনপি মহাসচিব ।

সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আর বিভাজন করবেন না, আর কোনো দাবি তুলে বিভেদ তৈরি করবেন না। গণভোট, পিআর নিয়ে আর আন্দোলন করবেন না। নির্বাচনটা হতে দেন, দেশের মানুষ বাঁচুক। দেশের মানুষকে বাঁচাতে তাড়াতাড়ি ভোট হতে দেন।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের গণসংযোগের অংশ হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ঠাকুরগাঁওয়ের বাইরে থাকতে হয়েছে, জেলখানায় থাকতে হয়েছে। ১১ বার জেলে গেছি, সাড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করতেন আমি ভয়ের লোক, তাই কারাগারে যেতে হতো।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ যে প্রার্থীকে ভোট দেবেন তিনি সংসদে গিয়ে আপনাদের জন্য কথা বলবেন সেটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। সে নিয়মে ভোট হয়ে এসেছে। তবে এবারের নির্বাচন একটু ভিন্ন, যেখানে পার্লামেন্টে দুইটা কক্ষ থাকবে, উচ্চ ও নিম্নকক্ষ। নিম্নকক্ষে দল থেকে মনোনীত ও আপনাদের ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।

আর উচ্চেকক্ষে যারা প্রতিনিধি হবেন তারা আলেম সমাজের মানুষ, বিজ্ঞ সমাজ, হিন্দু-বৌদ্ধ সবাই থাকবেন সেখানে। যারা আপনাদের নিয়ে কাজ ও কথা করবেন। সবাই মিলে থাকাটাই বাংলাদেশ। শত ফুল ফুটতে দাও৷ সকল ফুল ফুটলে সৌরভটা ছড়ায় যাবে।

তিনি আরও বলেন, হিংসার রাজনীতি চাই না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বিভেদ চাই না সবাই মিলে থাকতে চাই। শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রই বিএনপির চাওয়া। ভাগাভাগি আর না করেন, ক্ষতি অনেক হয়েছে। ক্ষতি আর চাই না। সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকতে চাই সবাই।

জনগণ যাকে ভোট দিবে তিনি নির্বাচিত হবেন৷ মানসিকতা ঠিক রাখতে হবে। তাহলে সুন্দর দেশ গঠন সম্ভব এ কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবাইকে মনে রাখতে বললেন দেশটাকে সুন্দর করতে ছুটছি আমরা।

ভোট হবে আমার ভোট আমি দিবো যাকে খুশি তাকে দিবো। ভোট সবাই দিবে, সঠিক প্রতিনিধি পাবে জনগণে। বিভাজন যেন না থাকে বলেও জানান তিনি।

জুলাই সনদ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,  শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) এ সনদে স্বাক্ষর করা হবে। কঠিন শব্দ জনগণ কম বোঝে, তারপরও এটা করা হবে, সবাই যারা একমত হয়েছে তা নিয়ে সনদ হবে।

সনদ হচ্ছে, ঘরের নতুন টিন লাগানোর মতো। ঘরের চালে নতুন টিন লাগানো হচ্ছে, দরজায় কব্জা লাগাতে হবে জং ধরেছে সংস্কারও তাই। দেশের রাজনীতি সংস্কার করতে হবে সেজন্যই সংস্কার করছি আমরা

সংস্কার প্রস্তাবে যেগুলোতে একমত হয়েছি সেগুলোতে স্বাক্ষর হবে আর যেগুলো হয়নি সেগুলো জনগণের কাছে যেতে হবে তাদের সমর্থন লাগবে বলেও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১ কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। স্বাস্থ্য-শিক্ষাখাতে গুরুত্ব দেয়া হবে।

তিনি বলেন,  সব দলের প্রতি আহ্বান আর বিভাজন করবেন না, আর কোনো দাবি তুলে বিভেদ তৈরি করবেন না। গণভোট, পিআর নিয়ে আর আন্দোলন করবেন না। পিআর নিয়ে তর্ক বিতর্ক হতে পারে, যেটা পরবর্তী সংসদে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু না, তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। নির্বাচনটা হতে দেন, দেশের মানুষ বাঁচুক। দেশের মানুষকে বাঁচতে তাড়াতাড়ি ভোট হতে দেন।

যারা আন্দোলন করছেন তাদের উদ্দেশ্যটা ভালো না, তারা ভণ্ডুল করতে চায় নির্বাচনকে। সবাই ভোট দিতে চায়। দয়া করে নির্বাচনটা করতে দেন, নির্বাচিত সংসদ আসুক পরে এগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। হিংসার রাজনীতি করতে চাই না। একটা মানুষও যেনো গুলি খেয়ে না মরে বলেও জানান বিএনপির এ নেতা।

বিএনপির এ নেতা এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে ছুটে বেড়াচ্ছেন উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন প্রান্তরে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ধানের শীষের পক্ষে ভোট টানতে নিজ সংসদীয় আসনে জনসংযোগ করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের গড়েয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।