ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

পলাতক অভিযুক্ত ৮৭ পুলিশ কর্মকর্তা, ইন্টারপোল দিচ্ছে না রেড নোটিশে সাড়া

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১২ বার পড়া হয়েছে

হারুন-অর-রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার ও মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে আছেন দলটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছেন ৮৭ জন পুলিশ সদস্য। এদের মধ্যে রয়েছেন ডিআইজি, এসপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি শহরে আলোচিত সাবেক ডিআইজি হারুন অর রশিদের অবস্থানের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান রয়েছেন যুক্তরাজ্যে। আর প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম অবস্থান করছেন ভারতে।

তবে এত তথ্য জানা থাকলেও পলাতকদের দেশে ফেরানো অনিশ্চিত। রেড নোটিশের আবেদন করা হলেও ইন্টারপোল এখনও সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশের এআইজি শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমাদের দেশে যে অপরাধ করেছে, তা তাদের দেশে হয়তো অপরাধ হিসেবে গণ্য নয়। কেউ কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় (Political Asylum) পেয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের মানবাধিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়। এজন্য আমরা আবেদন করলেও রেড নোটিশ অনেক সময় জারি হয় না। ইন্টারপোল তখন সংশ্লিষ্ট দেশকে জানায়, কিন্তু পরে অন্যান্য আইনি ও রাজনৈতিক বিষয় কাজ করে। এজন্য রেড নোটিশের মাধ্যমে আসামি আনা অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।’

সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী, কর্মস্থল ত্যাগ বা আত্মগোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনজীবীরা বলছেন, এদের দেশে ফেরাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সোহেল রানা বলেন, ‘তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তারা অপরাধে জড়িত থাকলে অনুপস্থিতির সুযোগে পালিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাক্ট ১৮৬১-এর ২৯ ধারায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।’

এরই মধ্যে গত ৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিআইজি থেকে পরিদর্শক পর্যায়ের ৪০ কর্মকর্তার পদক প্রত্যাহারসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে আরও ৫৫ জনকে।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের ওপর গুলি চালানো এবং গুলির নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। একই সঙ্গে প্রশাসনে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পলাতক অভিযুক্ত ৮৭ পুলিশ কর্মকর্তা, ইন্টারপোল দিচ্ছে না রেড নোটিশে সাড়া

আপডেট সময় : ০৭:২৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

হারুন-অর-রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার ও মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে আছেন দলটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছেন ৮৭ জন পুলিশ সদস্য। এদের মধ্যে রয়েছেন ডিআইজি, এসপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি শহরে আলোচিত সাবেক ডিআইজি হারুন অর রশিদের অবস্থানের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান রয়েছেন যুক্তরাজ্যে। আর প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম অবস্থান করছেন ভারতে।

তবে এত তথ্য জানা থাকলেও পলাতকদের দেশে ফেরানো অনিশ্চিত। রেড নোটিশের আবেদন করা হলেও ইন্টারপোল এখনও সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশের এআইজি শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমাদের দেশে যে অপরাধ করেছে, তা তাদের দেশে হয়তো অপরাধ হিসেবে গণ্য নয়। কেউ কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় (Political Asylum) পেয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের মানবাধিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়। এজন্য আমরা আবেদন করলেও রেড নোটিশ অনেক সময় জারি হয় না। ইন্টারপোল তখন সংশ্লিষ্ট দেশকে জানায়, কিন্তু পরে অন্যান্য আইনি ও রাজনৈতিক বিষয় কাজ করে। এজন্য রেড নোটিশের মাধ্যমে আসামি আনা অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।’

সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী, কর্মস্থল ত্যাগ বা আত্মগোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনজীবীরা বলছেন, এদের দেশে ফেরাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সোহেল রানা বলেন, ‘তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তারা অপরাধে জড়িত থাকলে অনুপস্থিতির সুযোগে পালিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাক্ট ১৮৬১-এর ২৯ ধারায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।’

এরই মধ্যে গত ৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিআইজি থেকে পরিদর্শক পর্যায়ের ৪০ কর্মকর্তার পদক প্রত্যাহারসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে আরও ৫৫ জনকে।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের ওপর গুলি চালানো এবং গুলির নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। একই সঙ্গে প্রশাসনে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।