বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে গত ৩০ মে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শুরুতেই বলেছিলেন, তিনি নেমেছেন ‘টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে’। কারণ, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে অক্টোবরেই। কিন্তু তিন মাসের পথচলায় তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। এখন তিনি মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বোর্ডে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবেন।
নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে বুলবুল স্পষ্টভাবে বলেন, আমি তো বলেছি আমি কখনো নির্বাচন করব না। আমি কীভাবে নির্বাচন করব? নির্বাচন করতে যে রসদগুলো লাগে সেটা আমার নেই। আমি ফ্রি ফ্রি ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল থেকে এসেছি। তারা যদি আমাকে কন্টিনিউ করে, থাকব, চেষ্টা করব।
পদ ধরে রাখার বিষয়টি নির্ভর করছে সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
দায়িত্ব নেয়ার সময় নিজেকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারের সঙ্গে তুলনা করলেও এখন তা বদলে গেছে। তিনি বলেন, বিভ্রান্তি আছে অনেক। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তো ১২০ বলে খেলতে হয়। সেটাতো তো দুই ওভারে শেষ হয়ে যায় না। সবকিছু নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর। এখন লম্বা ইনিংস খেলার চেষ্টা করছি।
সাম্প্রতিক সময়ে শোনা যাচ্ছিল, বিসিবির নির্বাচন সময়মতো নাও হতে পারে। এ বিষয়ে বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন চার বছর পরপর হয়। সময় যেহেতু চলে এসেছে, সেটা ঠিক সময়েই হবে। আমরা সিরিয়াসলি নেই, কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এ নিয়ে তেমন কিছু হয় না। আমাদের নির্বাচন কমিশন আছে, আনুষঙ্গিক কাজগুলো দ্রুত জানতে পারবেন।
দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ৩০ তারিখে সন্ধ্যা ৭টায় আমাকে সভাপতি করা হয়। বাসায় ফিরতে রাত ১২টা বাজে। সকাল ছয়টা থেকে আমি সারারাত বসে একটি চার্ট তৈরি করেছি। সেটা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এখন তার সুফল দেখতে পাচ্ছি। এমনকি ৮ বছরের একটি শিশু পর্যন্ত আজ খেলছে, এটাই আসল সাফল্য।
নিজের দায়িত্বের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বুলবুল বলেন, যে শিশু ক্রিকেট খেলতে চায়, তার পথ কতটা মসৃণ করতে পারছি সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। এই কাজের জন্যই আমি দেশের সেবা করতে এসেছি, অন্য সব ছেড়ে। যদি বিসিবি মনে করে আমাকে আরও কিছুদিন রাখতে, আমি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 






































