ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ইসরায়েলের সঙ্গে না পেরে পদ ছাড়লেন ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান দখলদার ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসপার ফেল্ডক্যাম্প।

গতকাল শুক্রবার (২২ আগস্ট) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্র-ডানপন্থি নিউ সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট (এনএসসি) দলের এই নেতা বলেন, আমি গাজায় ইসরায়েলি হামলা, পশ্চিম তীরে অবৈধ ই১ বসতি নির্মাণ এবং পূর্ব জেরুজালেম দখলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া আর দায়িত্ব পালন করতে পারছি না।

ফেল্ডক্যাম্প জানান, তিনি মন্ত্রিসভায় গঠনমূলক নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন, বরং তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন। তার পদত্যাগের পর দলটির অন্যান্য মন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সংহতি জানিয়ে পদত্যাগ করেন। যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভেতরে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে— বিশেষ করে ইউক্রেন সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্ক আলোচনা ঘিরে।

প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা

পদত্যাগের আগে ফেল্ডক্যাম্প ইসরায়েলের চরমপন্থি দুই মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেন। পাশাপাশি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জন্য তিনটি অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ রপ্তানির অনুমতি বাতিল করেন। তার ভাষায়, গাজার পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই অস্ত্র সরবরাহ অবাঞ্ছিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হতে পারে।

ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞায় অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা

ফেল্ডক্যাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইসরায়েলের বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের প্রস্তাব দেন, কিন্তু জার্মানির বিরোধিতায় তা পাস হয়নি। এ অবস্থায় তিনি নেদারল্যান্ডসকে এককভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। কিন্তু সেই উদ্যোগেও ব্যর্থ হন, যার ফলে হতাশ হয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

বিরোধীদের চাপ ও গোপন তথ্য ফাঁস

ডাচ পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে আসছিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে আসে, রটারডাম বন্দরে প্রায়ই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ বহনকারী জাহাজ ভিড়ছে, যা পরে ইসরায়েলি হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফেল্ডক্যাম্পের ভাষায়, গাজা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। এই অস্ত্র রপ্তানি অব্যাহত রাখা আমাদের নীতিবিরোধী।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেদারল্যান্ডস ২১ দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়। তবে, কূটনৈতিক কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি ফেল্ডক্যাম্পের মতো অনেক নেতাকেই হতাশ করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের সঙ্গে না পেরে পদ ছাড়লেন ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:১১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান দখলদার ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসপার ফেল্ডক্যাম্প।

গতকাল শুক্রবার (২২ আগস্ট) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্র-ডানপন্থি নিউ সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট (এনএসসি) দলের এই নেতা বলেন, আমি গাজায় ইসরায়েলি হামলা, পশ্চিম তীরে অবৈধ ই১ বসতি নির্মাণ এবং পূর্ব জেরুজালেম দখলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া আর দায়িত্ব পালন করতে পারছি না।

ফেল্ডক্যাম্প জানান, তিনি মন্ত্রিসভায় গঠনমূলক নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন, বরং তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন। তার পদত্যাগের পর দলটির অন্যান্য মন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সংহতি জানিয়ে পদত্যাগ করেন। যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভেতরে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে— বিশেষ করে ইউক্রেন সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্ক আলোচনা ঘিরে।

প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা

পদত্যাগের আগে ফেল্ডক্যাম্প ইসরায়েলের চরমপন্থি দুই মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেন। পাশাপাশি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জন্য তিনটি অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ রপ্তানির অনুমতি বাতিল করেন। তার ভাষায়, গাজার পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই অস্ত্র সরবরাহ অবাঞ্ছিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হতে পারে।

ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞায় অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা

ফেল্ডক্যাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইসরায়েলের বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের প্রস্তাব দেন, কিন্তু জার্মানির বিরোধিতায় তা পাস হয়নি। এ অবস্থায় তিনি নেদারল্যান্ডসকে এককভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। কিন্তু সেই উদ্যোগেও ব্যর্থ হন, যার ফলে হতাশ হয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

বিরোধীদের চাপ ও গোপন তথ্য ফাঁস

ডাচ পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে আসছিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে আসে, রটারডাম বন্দরে প্রায়ই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ বহনকারী জাহাজ ভিড়ছে, যা পরে ইসরায়েলি হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফেল্ডক্যাম্পের ভাষায়, গাজা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। এই অস্ত্র রপ্তানি অব্যাহত রাখা আমাদের নীতিবিরোধী।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেদারল্যান্ডস ২১ দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানায়। তবে, কূটনৈতিক কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি ফেল্ডক্যাম্পের মতো অনেক নেতাকেই হতাশ করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা