ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

পাকিস্তানে মুষলধারে বৃষ্টি: পাঞ্জাবে একদিনে প্রাণহানি ৬৩

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যু ও ২৯০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষ দালান ধসে মারা গেছেন। এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও জলাবদ্ধতায় ডুবে মারা গেছেন অনেকে।

রাজধানী ইসলামাবাদের পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে যাতে মানুষ ঘরে থাকতে পারেন। শহরজুড়ে প্রবাহিত নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে, ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে প্রাণহানি প্রায় ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের অর্ধেকই শিশু।

বৃষ্টির কারণে পাঞ্জাব প্রদেশের একাধিক এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এক টুইট বার্তায় জানান, একাধিক জেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি লেখেন, সরকারি সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সবাইকে অনুরোধ করছি সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে চলার জন্য।

প্রদেশের চকওয়াল শহরে মাত্র এক দিনে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধারকারী নৌকা দিয়ে পানিবন্দি মানুষদের খোঁজ চলছে। আকাশপথে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে।

পাঞ্জাব সরকার আগামী সপ্তাহান্তে আরও ভারী বৃষ্টিপাত ও হঠাৎ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। পুরো প্রদেশজুড়ে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রায় ২৫ কোটি মানুষের দেশ পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। দেশটি প্রতি বছর দুটি মৌসুমি প্রভাবের সম্মুখীন হয়—একটি চরম গরম ও খরার জন্য, আরেকটি বর্ষার জন্য।

পাকিস্তানে রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি হিমবাহ, যেগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে।

২০২২ সালে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যায় দেশের এক-তৃতীয়াংশ প্লাবিত হয়েছিল, মারা যান প্রায় ১,৭০০ জন, আর অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

২০২৩ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব ‘পাকিস্তানকে দ্বিগুণভাবে জলবায়ুর শিকার’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে মুষলধারে বৃষ্টি: পাঞ্জাবে একদিনে প্রাণহানি ৬৩

আপডেট সময় : ০৬:৫১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যু ও ২৯০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষ দালান ধসে মারা গেছেন। এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও জলাবদ্ধতায় ডুবে মারা গেছেন অনেকে।

রাজধানী ইসলামাবাদের পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে যাতে মানুষ ঘরে থাকতে পারেন। শহরজুড়ে প্রবাহিত নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে, ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে প্রাণহানি প্রায় ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের অর্ধেকই শিশু।

বৃষ্টির কারণে পাঞ্জাব প্রদেশের একাধিক এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এক টুইট বার্তায় জানান, একাধিক জেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি লেখেন, সরকারি সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সবাইকে অনুরোধ করছি সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে চলার জন্য।

প্রদেশের চকওয়াল শহরে মাত্র এক দিনে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধারকারী নৌকা দিয়ে পানিবন্দি মানুষদের খোঁজ চলছে। আকাশপথে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে।

পাঞ্জাব সরকার আগামী সপ্তাহান্তে আরও ভারী বৃষ্টিপাত ও হঠাৎ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। পুরো প্রদেশজুড়ে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রায় ২৫ কোটি মানুষের দেশ পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। দেশটি প্রতি বছর দুটি মৌসুমি প্রভাবের সম্মুখীন হয়—একটি চরম গরম ও খরার জন্য, আরেকটি বর্ষার জন্য।

পাকিস্তানে রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি হিমবাহ, যেগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে।

২০২২ সালে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যায় দেশের এক-তৃতীয়াংশ প্লাবিত হয়েছিল, মারা যান প্রায় ১,৭০০ জন, আর অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

২০২৩ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব ‘পাকিস্তানকে দ্বিগুণভাবে জলবায়ুর শিকার’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন।