ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ইসরায়েলের অর্থনীতি গুড়িয়ে দিয়েছে ইরান

ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে দখলদার ইসরায়েলের অর্থনীতিতে সরাসরি কেবল ১২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিই হয়নি, এক কথায় তেল আবিবের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে।ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধটি ইসরায়েলের জন্য শুধু নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষতিই বয়ে আনেনি, বরং অর্থনৈতিকভাবেও প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ৩৩ হাজার বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এসব ভবন পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে।

ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয় ও কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রায় ১০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রয়োজন।

এছাড়া, ইসরায়েলি স্টক এক্সচেঞ্জে ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অবৈধ শাসনের মোট রফতানির ৮% বাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শেয়ারবাজারে আঘাত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক শেয়ার বিক্রি ও বাজারের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে, যা ইসরায়েলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলি মিডিয়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট ও হাইফা রিফাইনারিতে যে বিস্তৃত বিলিয়ন-ডলারের ক্ষতি হয়েছে- তা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ইরানের হামলার ফলে ইসরায়েলের ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক অর্থনৈতিক বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) রাম আমিনাচ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের খরচ ইসরায়েলের যুদ্ধ বাজেটকে ২০০ বিলিয়ন শেকেল ছাড়িয়ে ফেলেছে, কারণ ইসরায়েলকে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে যার প্রতিটির মূল্য ৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

এদিকে, গাজা যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের ফলে ইসরায়েলে বিদেশি বিনিয়োগ ৬০%-এর বেশি কমে গেছে।

এছাড়া, এই যুদ্ধের কারণে ৪৬ হাজারের বেশি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রযুক্তি খাতের ৪৯% কোম্পানি বা স্টার্টআপ তাদের বিনিয়োগ ইসরায়েল থেকে প্রত্যাহার করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান বলেছেন, নেতানিয়াহু শুধু সামরিকভাবে ব্যর্থই হননি, বরং ইসরায়েলকে একটি নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

১২ দিন পর যুদ্ধ শেষ হলেও পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান গোপন রাখার চেষ্টা করছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার এবং যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হতো তবে ইসরায়েল সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক পতনের মুখোমুখি হতে পারত।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের অর্থনীতি গুড়িয়ে দিয়েছে ইরান

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে দখলদার ইসরায়েলের অর্থনীতিতে সরাসরি কেবল ১২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিই হয়নি, এক কথায় তেল আবিবের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে।ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধটি ইসরায়েলের জন্য শুধু নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষতিই বয়ে আনেনি, বরং অর্থনৈতিকভাবেও প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ৩৩ হাজার বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এসব ভবন পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে।

ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয় ও কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রায় ১০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রয়োজন।

এছাড়া, ইসরায়েলি স্টক এক্সচেঞ্জে ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অবৈধ শাসনের মোট রফতানির ৮% বাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শেয়ারবাজারে আঘাত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক শেয়ার বিক্রি ও বাজারের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে, যা ইসরায়েলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলি মিডিয়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট ও হাইফা রিফাইনারিতে যে বিস্তৃত বিলিয়ন-ডলারের ক্ষতি হয়েছে- তা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ইরানের হামলার ফলে ইসরায়েলের ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক অর্থনৈতিক বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) রাম আমিনাচ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের খরচ ইসরায়েলের যুদ্ধ বাজেটকে ২০০ বিলিয়ন শেকেল ছাড়িয়ে ফেলেছে, কারণ ইসরায়েলকে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে যার প্রতিটির মূল্য ৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

এদিকে, গাজা যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের ফলে ইসরায়েলে বিদেশি বিনিয়োগ ৬০%-এর বেশি কমে গেছে।

এছাড়া, এই যুদ্ধের কারণে ৪৬ হাজারের বেশি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রযুক্তি খাতের ৪৯% কোম্পানি বা স্টার্টআপ তাদের বিনিয়োগ ইসরায়েল থেকে প্রত্যাহার করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান বলেছেন, নেতানিয়াহু শুধু সামরিকভাবে ব্যর্থই হননি, বরং ইসরায়েলকে একটি নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

১২ দিন পর যুদ্ধ শেষ হলেও পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান গোপন রাখার চেষ্টা করছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার এবং যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হতো তবে ইসরায়েল সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক পতনের মুখোমুখি হতে পারত।