ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ট্রাম্পকে মোকাবিলায় ভারতকে পাশে চায় চীন

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫
  • ৩০৮ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের অনেক দেশের ওপর অরোপিত শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করলেও চীনের ওপর শুল্ক আরেক দফা বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে পাল্টা জবাব দিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে বেইজিং। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বাণিজ্যযুদ্ধে ভারতকে নিজেদের পাশে চায় চীন।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ কথা জানান দেশটিতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং।

তিনি বলেন, চীন-ভারত সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিপূরকতা এবং পারস্পরিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। আমেরিকার এমন অযৌক্তিক শুল্কনীতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোকে উন্নত হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। চীন ও ভারতের মতো বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশের উচিত এসব সমস্যা একসঙ্গে মোকাবিলা করা।

ইউ জিং আরও বলেন, চীনের অর্থনীতি ধারাবাহিক ও ইতিবাচকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং আমাদের শিল্পখাতের উৎপাদন পুরোপুরি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক। চীন অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং বহুপাক্ষিকতাবাদেরও দৃঢ় সমর্থক। বৈশ্বিক অর্থনীতির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ৩০ শতাংশই আসে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নির্দেশিত বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, চীন এবং ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পরিপূরকতা এবং পারস্পরিক লাভের ওপরও নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কনীতি, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোকে উন্নত হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের দুই বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ চীন এবং ভারত একাট্টা হতে পারে এবং একসঙ্গে যাবতীয় বাধা অতিক্রম করতে পারে।

পোস্টে চীনা মুখপাত্র আরও বলেন, বাণিজ্য এবং শুল্ক যুদ্ধের কেউ জয়ী হতে পারে না। সব দেশের উচিত ব্যাপক পরামর্শের নীতিগুলো বজায় রাখা, সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতা অনুশীলন করা, যৌথভাবে সকল ধরনের একতরফাবাদ এবং সুরক্ষাবাদের বিরোধিতা করা।

বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক বৃদ্ধি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা জবাব দিয়ে চীন বলছে, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

এর মধ্যে বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি দেশের ওপর আরোপ করা নতুন শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ে দেশগুলোর পণ্যে পাল্টা শুল্ক ন্যূনতম ১০ শতাংশ কার্যকর হবে। তবে চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, চীন বিশ্বের বাজারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার যে ঘাটতি দেখিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ধার্য করছি। এটা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, আশা করি, নিকট ভবিষ্যতে চীন ও অন্যান্য দেশ উপলব্ধি করতে পারবে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার দিন আর নেই।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রাম্পকে মোকাবিলায় ভারতকে পাশে চায় চীন

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

বিশ্বের অনেক দেশের ওপর অরোপিত শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করলেও চীনের ওপর শুল্ক আরেক দফা বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে পাল্টা জবাব দিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে বেইজিং। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বাণিজ্যযুদ্ধে ভারতকে নিজেদের পাশে চায় চীন।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ কথা জানান দেশটিতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং।

তিনি বলেন, চীন-ভারত সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিপূরকতা এবং পারস্পরিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। আমেরিকার এমন অযৌক্তিক শুল্কনীতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোকে উন্নত হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। চীন ও ভারতের মতো বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশের উচিত এসব সমস্যা একসঙ্গে মোকাবিলা করা।

ইউ জিং আরও বলেন, চীনের অর্থনীতি ধারাবাহিক ও ইতিবাচকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং আমাদের শিল্পখাতের উৎপাদন পুরোপুরি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক। চীন অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং বহুপাক্ষিকতাবাদেরও দৃঢ় সমর্থক। বৈশ্বিক অর্থনীতির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ৩০ শতাংশই আসে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নির্দেশিত বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, চীন এবং ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পরিপূরকতা এবং পারস্পরিক লাভের ওপরও নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কনীতি, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোকে উন্নত হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের দুই বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ চীন এবং ভারত একাট্টা হতে পারে এবং একসঙ্গে যাবতীয় বাধা অতিক্রম করতে পারে।

পোস্টে চীনা মুখপাত্র আরও বলেন, বাণিজ্য এবং শুল্ক যুদ্ধের কেউ জয়ী হতে পারে না। সব দেশের উচিত ব্যাপক পরামর্শের নীতিগুলো বজায় রাখা, সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতা অনুশীলন করা, যৌথভাবে সকল ধরনের একতরফাবাদ এবং সুরক্ষাবাদের বিরোধিতা করা।

বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক বৃদ্ধি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা জবাব দিয়ে চীন বলছে, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

এর মধ্যে বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি দেশের ওপর আরোপ করা নতুন শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ে দেশগুলোর পণ্যে পাল্টা শুল্ক ন্যূনতম ১০ শতাংশ কার্যকর হবে। তবে চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, চীন বিশ্বের বাজারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার যে ঘাটতি দেখিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ধার্য করছি। এটা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, আশা করি, নিকট ভবিষ্যতে চীন ও অন্যান্য দেশ উপলব্ধি করতে পারবে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার দিন আর নেই।