ক্রিকেটে আজ চলছে তিনটি বক্সিং ডে টেস্টের খেলা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় মেলবোর্নে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ নিয়ে। এই ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন স্যাম কনস্টাস, ন্যাথান ম্যাকসুয়েনির বদলে দলে ঢুকে আজ ওপেনার হিসেবে অভিষেক হয়েছে তার। ১৯ বছরের এই তরুণ অভিষেক ম্যাচের সব আলো টেনে নিয়েছেন নিজের দিকে।
প্রথমবারের মত অজিদের হয়ে সাদা পোশাকে খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছেন কনস্টাস। জশপ্রীত বুমরা প্রথম তিন ম্যাচেই অজি ওপেনারদের নাকাল করে ছেড়েছিলেন, সেই বুমরারই আজ পরীক্ষা নিয়েছেন কনস্টাস।
বুমরার চতুর্থ ওভারে স্কুপ করে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে বাউন্ডারির দেখা পান কনস্টাস, পরের বলে অবশ্য রিভার্স স্কুপ করে যে ছক্কা মারেন তিনি। ওই ওভারে ১৪ রান নেন তিনি। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মত এক ওভারে ১৪ বা এর বেশি রান দিয়েছেন বুমরা। এমনকি সাদা পোশাকে ৪৪৮৩ বলের মধ্যে প্রথম ছক্কা হজম করতে হয়েছে ভারতীয় এই পেসারকে।
এরপর বুমরার এক ওভারে ১ ছক্কা ও ২ চারে ১৮ রান নিয়েছেন কনস্টাস, ৪৪ টেস্টের ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম এক ওভারে এত রান দিয়েছেন বুমরা। বুমরার পরীক্ষা নেয়া কনস্টাস ৫২ বলে ফিফটি করে আউট হন ৬৫ বলে ৬০ রান করে।
এদিকে অভিষিক্ত এই ওপেনারকে ধাক্কা দিয়ে এখন সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন ৩৬ বছরের বিরাট কোহলি। ঘটনাটা ম্যাচের ১০ম ওভার শেষে। মোহাম্মদ সিরাজের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ওভারটি শেষ করার পর অন্যপ্রান্তের ব্যাটার উসমান খাজার দিকে যাচ্ছিলেন কনস্টাস।

১৯ বছরের তরুণ এই ওপেনার যখন হাতের গ্লাভস খুলতে খুলতে অন্য প্রান্তের দিকে যাচ্ছিলেন তখন বিপরীত দিক থেকে বল হাতে নিয়ে আসছিলেন কোহলি। এ সময় অনেকটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই কনস্টাসকে ধাক্কা মারেন কোহলি। এরপর কনস্টাস-কোহলি দুজনই কঠার লড়াইয়ে জড়ান। এ সময়ে খাজা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, এমনকি আম্পায়ারও ছুটে এসেছিলেন ঘটনা বুঝতে পারে।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন ফক্স ক্রিকেট ধারাভাষ্য দেওয়া ভন বলেছেন, ‘কোহলি ওই মুহূর্তের কথা মনে করে গর্ব অনুভব করবে না। কনস্টাস স্রেফ হেঁটে যাচ্ছিল। কোহলিকে দেখুন, সে তার পথের দিক পাল্টেছে। যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং সর্বকালের সেরা কিংবদন্তিদের একজন হিসেবে কোহলি অবশ্য কৃতকর্ম নিয়ে ভাববে।’
অজিদের সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং দোষ দিয়েছেন কোহলিকেই। তিনি বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, আম্পায়ার এবং রেফারি বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখবেন। বেশ কিছু অ্যাঙ্গেল থেকে আমরা ঘটনাটি দেখেছি। আমি মানছি, (ওভার শেষে) ওই পর্যায়ে তাদের (ভারতের ফিল্ডার) কোনো অবস্থাতেই ব্যাটসম্যানের ধারেকাছে যাওয়ার কথা নয়। ব্যাটসম্যানরা কোথায় একসঙ্গে দাঁড়ায় সেটা প্রতিটি ফিল্ডারই জানে। আমার কাছে মনে হয়েছে, কনস্টাস অনেক দেরিতে খেয়াল করেছে। কেউ তার সামনে থাকতে পারে সম্ভবত তার ভাবনায় ছিল না। কিন্তু তাকে (কোহলি) বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হতে পারে।’
পন্টিং আরও বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের সময় উইকেট ব্যাটসম্যানের। ক্রিজও তার। বিশেষ করে দুটি ওভারের মাঝের মুহূর্তে। তখন কোনো বোলার বা ফিল্ডারের ব্যাটসম্যানের ধারেকাছে থাকার দরকার নেই। কিন্তু আমরা কনস্টাস ও কোহলির মাঝে শারীরিক সংঘর্ষ হতে দেখলাম। বিরাট কীভাবে হেঁটেছে দেখুন। বিরাট তার ডানে পিচের দিকে হেঁটেছে এবং সংঘর্ষটা উসকে দিয়েছে—এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই।’
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 






































