ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুপারফ্লুইডের বিস্ময়কর ক্ষমতা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৬১ বার পড়া হয়েছে

সুপারকনডাক্টরের কথা আগের অধ্যায়ে হয়েছে। মুখপাত্র ছিলেন পদার্থবিদ হেইক কামেরলিং ওনেস। তাঁরই আরেকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার সুপারফ্লুইড। হিলিয়ামকে সর্বপ্রথম তরলে রূপান্তর করেছিলেন তিনি।

সাল ১৯১১। পারদের পর হিলিয়ামের তাপ পরিবাহিতা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন ওনেস। ৪.২ কেলভিন তাপমাত্রায় হিলিয়াম তরলে পরিণত হয়। ২.৭ কেলভিন তাপমাত্রায় তরল হিলিয়ামের তাপ পরিবাহিতা এক লাফে বেড়ে যায়।

ওনেস এই তাপমাত্রার নাম দেন ‘ল্যাম্বডা পয়েন্ট’। কিন্তু এমনটা কেন ঘটে, তা ব্যাখ্যা করতে পারেননি তিনি। উত্তর মেলে ২৭ বছর পর।

১৯৩৭ সাল।

রাশিয়ান পদার্থবিদ পিয়োতর কাপিৎসা এবং কানাডিয়ান দুই পদার্থবিদ জন ফ্র্যাঙ্ক অ্যালেন ও ডন মাইসেনার পৃথকভাবে এই রহস্যের জট খোলেন। তাঁরা জানান, ল্যাম্বডা পয়েন্টে এসে তরল হিলিয়ামের সান্দ্রতা শূন্য হয়ে যায়।

সান্দ্রতা কী?

মূলত, তরলের নিজস্ব ঘর্ষণের ফলে এর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। এ বাধাকেই বলে সান্দ্রতা। সান্দ্রতা শূন্য হলে তরলের প্রবাহে কোনো বাধা থাকে না।

কাপিৎসা ও ফ্র্যাঙ্ক এই ধরনের তরলের নাম দেন সুপারফ্লুইড। বাংলায় ‘অতিপ্রবাহী’।

সুপারফ্লুইডকে কেউ হয়তো বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেটের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে পারেন। পদার্থের পঞ্চম অবস্থা বলা হয় এই বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেটকে। বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট ও সুপারফ্লুইড—দুটোর মধ্যে অনেকখানি মিল আছে।

অর্থাৎ সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এক নয়। সুপারফ্লুইড নিয়ে বর্তমানে অনেক গবেষণা চলছে। নিউট্রন তারাতেও সুপারফ্লুইড পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। ভবিষ্যতে হয়তো ভারী গ্যাসের সুপারফ্লুইডও আবিষ্কৃত হবে। বিজ্ঞানী ও আগ্রহীদের জন্য দারুণ এক বিষয় হবে সেটা।

সুপারফ্লুইডিটি বা অতিপ্রবাহীতা কোয়ান্টামের একমাত্র প্রভাব যা খালি চোখে দেখা যায়। ঘর্ষণ না থাকায় সুপারফ্লুইড পাত্রে স্থির থাকে না, বেরিয়ে যেতে চায়। আর যদি চামচ দিয়ে নেড়ে দেওয়া হয়, তা অনন্তকাল ধরে ঘুরতে থাকে।

সুপারফ্লুইডের সান্দ্রতা নেই। ঘর্ষণ নেই। ফলে কয়েক পরমাণুর সমান একটা ছিদ্র  দিয়েও অনায়াসে বেরিয়ে যেতে পারবে সুপারফ্লুইড। ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম সুপারফ্লুইডের ব্যবহার শুরু হয়। মহাশূন্যে থাকা একটা টেলিস্কোপের লেন্স শীতল করা হয় হিলিয়াম সুপারফ্লুইডের সাহায্যে।

সম্পর্কিত তত্ত্ব
সুপারকনডাক্টর
বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট

জীবনী
হেইক কামেরলিং ওনেস
১৮৫৩-১৯২৬
নোবেল বিজয়ী ডাচ পদার্থবিদ, প্রথম ব্যক্তি যিনি হিলিয়ামকে তরলে রূপান্তর করেছিলেন।

পিয়োতর কাপিৎসা
১৮৯৪-১৯৮৪
নোবেল বিজয়ী রাশিয়ান পদার্থবিদ, হিলিয়ামের সুপারফ্লুইড আচরণের রহস্য উদঘাটন করেন।

বর্ণনা
আলেক্সান্ডার হেলেমানস

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

সুপারফ্লুইডের বিস্ময়কর ক্ষমতা

আপডেট সময় : ০১:৪৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪

সুপারকনডাক্টরের কথা আগের অধ্যায়ে হয়েছে। মুখপাত্র ছিলেন পদার্থবিদ হেইক কামেরলিং ওনেস। তাঁরই আরেকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার সুপারফ্লুইড। হিলিয়ামকে সর্বপ্রথম তরলে রূপান্তর করেছিলেন তিনি।

সাল ১৯১১। পারদের পর হিলিয়ামের তাপ পরিবাহিতা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন ওনেস। ৪.২ কেলভিন তাপমাত্রায় হিলিয়াম তরলে পরিণত হয়। ২.৭ কেলভিন তাপমাত্রায় তরল হিলিয়ামের তাপ পরিবাহিতা এক লাফে বেড়ে যায়।

ওনেস এই তাপমাত্রার নাম দেন ‘ল্যাম্বডা পয়েন্ট’। কিন্তু এমনটা কেন ঘটে, তা ব্যাখ্যা করতে পারেননি তিনি। উত্তর মেলে ২৭ বছর পর।

১৯৩৭ সাল।

রাশিয়ান পদার্থবিদ পিয়োতর কাপিৎসা এবং কানাডিয়ান দুই পদার্থবিদ জন ফ্র্যাঙ্ক অ্যালেন ও ডন মাইসেনার পৃথকভাবে এই রহস্যের জট খোলেন। তাঁরা জানান, ল্যাম্বডা পয়েন্টে এসে তরল হিলিয়ামের সান্দ্রতা শূন্য হয়ে যায়।

সান্দ্রতা কী?

মূলত, তরলের নিজস্ব ঘর্ষণের ফলে এর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। এ বাধাকেই বলে সান্দ্রতা। সান্দ্রতা শূন্য হলে তরলের প্রবাহে কোনো বাধা থাকে না।

কাপিৎসা ও ফ্র্যাঙ্ক এই ধরনের তরলের নাম দেন সুপারফ্লুইড। বাংলায় ‘অতিপ্রবাহী’।

সুপারফ্লুইডকে কেউ হয়তো বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেটের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে পারেন। পদার্থের পঞ্চম অবস্থা বলা হয় এই বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেটকে। বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট ও সুপারফ্লুইড—দুটোর মধ্যে অনেকখানি মিল আছে।

অর্থাৎ সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এক নয়। সুপারফ্লুইড নিয়ে বর্তমানে অনেক গবেষণা চলছে। নিউট্রন তারাতেও সুপারফ্লুইড পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। ভবিষ্যতে হয়তো ভারী গ্যাসের সুপারফ্লুইডও আবিষ্কৃত হবে। বিজ্ঞানী ও আগ্রহীদের জন্য দারুণ এক বিষয় হবে সেটা।

সুপারফ্লুইডিটি বা অতিপ্রবাহীতা কোয়ান্টামের একমাত্র প্রভাব যা খালি চোখে দেখা যায়। ঘর্ষণ না থাকায় সুপারফ্লুইড পাত্রে স্থির থাকে না, বেরিয়ে যেতে চায়। আর যদি চামচ দিয়ে নেড়ে দেওয়া হয়, তা অনন্তকাল ধরে ঘুরতে থাকে।

সুপারফ্লুইডের সান্দ্রতা নেই। ঘর্ষণ নেই। ফলে কয়েক পরমাণুর সমান একটা ছিদ্র  দিয়েও অনায়াসে বেরিয়ে যেতে পারবে সুপারফ্লুইড। ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম সুপারফ্লুইডের ব্যবহার শুরু হয়। মহাশূন্যে থাকা একটা টেলিস্কোপের লেন্স শীতল করা হয় হিলিয়াম সুপারফ্লুইডের সাহায্যে।

সম্পর্কিত তত্ত্ব
সুপারকনডাক্টর
বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট

জীবনী
হেইক কামেরলিং ওনেস
১৮৫৩-১৯২৬
নোবেল বিজয়ী ডাচ পদার্থবিদ, প্রথম ব্যক্তি যিনি হিলিয়ামকে তরলে রূপান্তর করেছিলেন।

পিয়োতর কাপিৎসা
১৮৯৪-১৯৮৪
নোবেল বিজয়ী রাশিয়ান পদার্থবিদ, হিলিয়ামের সুপারফ্লুইড আচরণের রহস্য উদঘাটন করেন।

বর্ণনা
আলেক্সান্ডার হেলেমানস