ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে অভিনব কায়দায় মোটর সাইকেল চুরি-বিকাশে টাকা আদায়

  • সোহেল কান্তি নাথ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪
  • ৪৫৮ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবানে মোটর সাইকেল চুরি করে অভিনব কায়দায় মালিকের কাছ থেকে বিকাশে টাকা আদায় করছে চোর চক্রের সিন্ডিকেট। টাকা দেয়ার পর বাড়ীর পাশের পুকুর জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে মোটর সাইকেল পাওয়া গেলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে চোর চক্রের সদস্যরা। গেল কয়েক মাস ধরে বান্দরবান শহরে ঘটেছে এমন বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

বুধবার (২১ নভেম্বর) গভীর রাতে জেলা শহরের মেম্বার পাড়া এলাকায় আবু সাঈদ এর ৫ তলা বিল্ডিং এর পার্কিং থেকে গেইট ভেঙ্গে ২টি দামী মোটর সাইকেল চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্রের সিন্ডিকেটরা। বিষয়টি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়। পরে মোটর সাইকেল ২টি বাড়ীর গ্যারেজ থেকে বের  পুকুরে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে মালিক গ্যারেজে গিয়ে মোটর সাইকেল না পেয়ে খোজাখুজি শুরু করলে দেয়ালে দেখতে পায় একটি মোবাইল নাম্বার। সে নাম্বারে কল দিলে টাকার বিনিময়ে গাড়ীর সন্ধান দেয়া হবে বলে জানায় চোর চক্রের সদস্য। বিকাশে টাকা নেয়ার পর চোর চক্রের সদস্যের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুকুর থেকে মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়। এভাবে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটর সাইকেল চুরি করে দেয়ালে নাম্বার দিয়ে যায় চক্রটি। গেল কয়েকদিনে শহরের মধ্যম পাড়া মেম্বার পাড়া ও চেয়ারম্যান পাড়া থেকে ৮টিরও বেশি মোটর সাইকেল চুরি করে নাম্বার দিয়ে যায় এই চক্রটি। পরে রফাদফা শেষে টাকা বিকাশ করলে বাড়ীর পাশের পুকুর জঙ্গল কিংবা ঝোপঝাড়ে পাওয়া যাচ্ছে চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল। ইতোমধ্যে টাকা বিকাশ করে বাড়ীর পাশে পুকুরে ৪টি মোটর সাইকেলের সন্ধান পায় মালিকরা। এর আগে শহর থেকে অসংখ্য বার মোটর সাইকেল চুরি হলেও চুরি করার পর লুকিয়ে রেখে বিকাশে টাকা আদায়ের ঘটনায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে মোটর সাইকেল চালকসহ স্থানীয়দের মাঝে।

চুরি হয়ে যাওয়া মোটর সাইকেল এর মালিক মো: সজিব বলেন, আমাদের বিল্ডিং এর পার্কিং এ প্রতিদিনের মত মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখি। সকালে উঠে দেখি বিল্ডিং এর অধিকাংশ রুমের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করা। পরে পার্কিং এ এসে দেখি আমার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলসহ ২টি মোটর সাইকেল কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। খেঁাজাখুজির এক পর্যায়ে দেখি দেয়ালে একটি মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে এবং মোটর সাইকেল ফেরত পাওয়ার জন্য নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সে নাম্বারে কল দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর পর একটি পুকুর থেকে ও অন্যটি কেরানিহাট থেকে উদ্ধার করি। তিনি আরও বলেন, আমাদের শখের মোটর সাইকেল এভাবে চুরি হয়ে যাচ্ছে, অথচ এখনো পর্যন্ত কাউকে ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমরা চাই দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই চোর চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হোক।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় ট্রেকিং চালাচ্ছি, এ বিষয়ে আমাদের টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে চোর চক্রের সিন্ডিকেটের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, বিআরটিএ এর তথ্য মতে জেলায় ১ হাজারের বেশী মোটর সাইকেল ব্যবহার কারী রয়েছে।

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের ২৫ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা বায়রার একাংশের

বান্দরবানে অভিনব কায়দায় মোটর সাইকেল চুরি-বিকাশে টাকা আদায়

আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

বান্দরবানে মোটর সাইকেল চুরি করে অভিনব কায়দায় মালিকের কাছ থেকে বিকাশে টাকা আদায় করছে চোর চক্রের সিন্ডিকেট। টাকা দেয়ার পর বাড়ীর পাশের পুকুর জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে মোটর সাইকেল পাওয়া গেলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে চোর চক্রের সদস্যরা। গেল কয়েক মাস ধরে বান্দরবান শহরে ঘটেছে এমন বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

বুধবার (২১ নভেম্বর) গভীর রাতে জেলা শহরের মেম্বার পাড়া এলাকায় আবু সাঈদ এর ৫ তলা বিল্ডিং এর পার্কিং থেকে গেইট ভেঙ্গে ২টি দামী মোটর সাইকেল চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্রের সিন্ডিকেটরা। বিষয়টি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়। পরে মোটর সাইকেল ২টি বাড়ীর গ্যারেজ থেকে বের  পুকুরে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে মালিক গ্যারেজে গিয়ে মোটর সাইকেল না পেয়ে খোজাখুজি শুরু করলে দেয়ালে দেখতে পায় একটি মোবাইল নাম্বার। সে নাম্বারে কল দিলে টাকার বিনিময়ে গাড়ীর সন্ধান দেয়া হবে বলে জানায় চোর চক্রের সদস্য। বিকাশে টাকা নেয়ার পর চোর চক্রের সদস্যের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুকুর থেকে মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়। এভাবে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটর সাইকেল চুরি করে দেয়ালে নাম্বার দিয়ে যায় চক্রটি। গেল কয়েকদিনে শহরের মধ্যম পাড়া মেম্বার পাড়া ও চেয়ারম্যান পাড়া থেকে ৮টিরও বেশি মোটর সাইকেল চুরি করে নাম্বার দিয়ে যায় এই চক্রটি। পরে রফাদফা শেষে টাকা বিকাশ করলে বাড়ীর পাশের পুকুর জঙ্গল কিংবা ঝোপঝাড়ে পাওয়া যাচ্ছে চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল। ইতোমধ্যে টাকা বিকাশ করে বাড়ীর পাশে পুকুরে ৪টি মোটর সাইকেলের সন্ধান পায় মালিকরা। এর আগে শহর থেকে অসংখ্য বার মোটর সাইকেল চুরি হলেও চুরি করার পর লুকিয়ে রেখে বিকাশে টাকা আদায়ের ঘটনায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে মোটর সাইকেল চালকসহ স্থানীয়দের মাঝে।

চুরি হয়ে যাওয়া মোটর সাইকেল এর মালিক মো: সজিব বলেন, আমাদের বিল্ডিং এর পার্কিং এ প্রতিদিনের মত মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখি। সকালে উঠে দেখি বিল্ডিং এর অধিকাংশ রুমের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করা। পরে পার্কিং এ এসে দেখি আমার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলসহ ২টি মোটর সাইকেল কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। খেঁাজাখুজির এক পর্যায়ে দেখি দেয়ালে একটি মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে এবং মোটর সাইকেল ফেরত পাওয়ার জন্য নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সে নাম্বারে কল দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর পর একটি পুকুর থেকে ও অন্যটি কেরানিহাট থেকে উদ্ধার করি। তিনি আরও বলেন, আমাদের শখের মোটর সাইকেল এভাবে চুরি হয়ে যাচ্ছে, অথচ এখনো পর্যন্ত কাউকে ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমরা চাই দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই চোর চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হোক।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় ট্রেকিং চালাচ্ছি, এ বিষয়ে আমাদের টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে চোর চক্রের সিন্ডিকেটের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, বিআরটিএ এর তথ্য মতে জেলায় ১ হাজারের বেশী মোটর সাইকেল ব্যবহার কারী রয়েছে।