ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজরতের পর নবীজি (সা.) প্রথম যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

মদিনার মাটিতে যখন রহমতের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পা রাখলেন, তখন চারদিক থেকে ছুটে এল মানুষ। প্রিয়জনকে একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান তৎকালীন ইহুদি পণ্ডিত ও পরবর্তী সময়ে বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)।

নবীজির পবিত্র মুখমণ্ডলের দিকে তাকিয়েই তার মনে হয়েছিল, এ চেহারা কখনো কোনো মিথ্যাবাদীর হতে পারে না। সেই প্রথম সম্মিলনে নবীজি (সা.) উম্মতকে যে অমূল্য বাণী ও চারিত্রিক নির্দেশিকা দিয়েছিলেন, তা মানবজাতির শান্তি ও মুক্তির চিরন্তন সোপান।

নবীজির প্রথম ঐতিহাসিক উপদেশ ও তার পটভূমি

একজন আদর্শ সমাজ সংস্কারক হিসেবে নবীজি (সা.) কেবল তত্ত্বের কথা বলেননি, বরং যা বলতেন তা নিজের জীবনে শতভাগ বাস্তবায়ন করে দেখাতেন। তার সেই সচ্ছল ও আন্তরিক আচার-আচরণই মদিনার নতুন সমাজে মানুষের মনে গভীর আস্থা তৈরি করেছিল। মদিনায় পৌঁছানোর পর তিনি যে সোনালি উপদেশগুলো দিয়েছিলেন, তা মানবকল্যাণ ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনবদ্য দলিল। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সেদিন ইরশাদ করেছিলেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَفْشُوا السَّلَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصِلُوا الْأَرْحَامَ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ

‘হে মানুষ! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে নামাজ আদায় কর; তাহলে তোমরা নিরাপদে ও শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (তিরমিজি ২৪৮৫, মুসনাদে আহমাদ ২৩৪০৮)

১. ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো: মানবতা ও শান্তির প্রথম সোপান

খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান। মানুষের ক্ষুধার কষ্ট দূর না করে কখনোই একটি সুন্দর, অপরাধমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। পেটে ক্ষুধা থাকলে মানুষের মধ্যে যেমন অশান্তি দানা বাঁধে, তেমনি সমাজের অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়ে। তাই পারস্পরিক দয়া ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত হলো ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সৎ ও জান্নাতি বান্দাদের এই গুণের প্রশংসা করে ইরশাদ করেছেন—

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَْتِيمًا وَأَسِيرًا

‘আর তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে খাবার খাওয়ায়।’ (সুরা আল-ইনসান: আয়াত ৮)

২. সালামের প্রচলন: পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি

রাস্তায়, কর্মস্থলে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে আন্তরিকভাবে সালাম দেওয়া মানুষের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে দেয়। অজ্ঞতা ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই মূলত সমাজে বিদ্বেষের জন্ম হয়। অথচ সালামের মাধ্যমে একে অপরের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তার দোয়া করা হয়, যা মনের জমে থাকা বরফ গলিয়ে দেয় এবং পারস্পরিক ভালোবাসার সেতুবন্ধন তৈরি করে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন—

لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَبَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ

‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ইমান আনবে, আর ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে? তা হলো—তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম ৫৪)

 

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা: পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা

পরিবার ও আত্মীয়স্বজন হলো সামাজিক নিরাপত্তার প্রথম ভিত্তি। সময়ের ব্যবধানে বড় পরিবারগুলোতে দূরত্ব তৈরি হওয়া, অহংকার কিংবা পার্থিব প্রতিযোগিতার কারণে মানুষ আজ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে অনেকে নিজেকে অসহায় ভাবতে শুরু করেন। অথচ ইসলামের জোরালো নির্দেশ হলো রক্তসম্পর্ক ও আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যোগাযোগ সহজ হলেও মনের দূরত্ব কমানো জরুরি। নবীজি (সা.) আত্মীয়তার সম্পর্কের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেছেন—

مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি ২০৬৭)

৪. রাতের নামাজ: আত্মিক শক্তি ও রবের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ

ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো, সালাম দেওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মতো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বগুলোর পাশাপাশি রাতের নীরবতায় ইবাদত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নবীজি (সা.) পার্থিব ও পরকালীন জীবনের চমৎকার এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। রাতের শেষ প্রহরে যখন গোটা দুনিয়া ঘুমে বিভোর থাকে, তখন একজন মুমিন তার রবের দরবারে দাঁড়িয়ে একান্তে সিজদায় অবনমিত হন। এই আত্মিক সংযোগই মানুষের অন্তরে অন্য মানুষের কল্যাণে কাজ করার অফুরন্ত শক্তি ও ধৈর্য জোগায়। এ বিষয়ে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

‘তাদের পার্শ্ব বিছানা থেকে দূরে থাকে (তারা ঘুমের মোহ ত্যাগ করে ইবাদতে মশগুল থাকে), তারা তাদের রবকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সুরা আস-সাজদাহ: আয়াত ১৬)

মদিনায় পা রেখে নবীজি (সা.) যে সুমহান আদর্শের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা কেবল বাহ্যিক কোনো আচার-অনুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণরাষ্ট্র ও মানবিক সমাজ গঠনের রূপরেখা। ক্ষুধার অন্ন জোগানো, সালাম ও ভালোবাসার চাদরে সমাজকে মোড়ানো, রক্তের সম্পর্ককে জোরালো করা এবং রাতের আঁধারে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মধ্য দিয়েই একজন মুমিন প্রকৃত শান্তির ঠিকানা খুঁজে পান। এই অমূল্য উপদেশগুলো মেনে চলাই আজকের অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ও সাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

ইসলাম   কুরআন   হাদিস   আমল   ইবাদত   নামাজ

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাউস অব লর্ডসের সদস্য হলেন লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র সাদিক খান

হিজরতের পর নবীজি (সা.) প্রথম যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মদিনার মাটিতে যখন রহমতের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পা রাখলেন, তখন চারদিক থেকে ছুটে এল মানুষ। প্রিয়জনকে একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান তৎকালীন ইহুদি পণ্ডিত ও পরবর্তী সময়ে বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)।

নবীজির পবিত্র মুখমণ্ডলের দিকে তাকিয়েই তার মনে হয়েছিল, এ চেহারা কখনো কোনো মিথ্যাবাদীর হতে পারে না। সেই প্রথম সম্মিলনে নবীজি (সা.) উম্মতকে যে অমূল্য বাণী ও চারিত্রিক নির্দেশিকা দিয়েছিলেন, তা মানবজাতির শান্তি ও মুক্তির চিরন্তন সোপান।

নবীজির প্রথম ঐতিহাসিক উপদেশ ও তার পটভূমি

একজন আদর্শ সমাজ সংস্কারক হিসেবে নবীজি (সা.) কেবল তত্ত্বের কথা বলেননি, বরং যা বলতেন তা নিজের জীবনে শতভাগ বাস্তবায়ন করে দেখাতেন। তার সেই সচ্ছল ও আন্তরিক আচার-আচরণই মদিনার নতুন সমাজে মানুষের মনে গভীর আস্থা তৈরি করেছিল। মদিনায় পৌঁছানোর পর তিনি যে সোনালি উপদেশগুলো দিয়েছিলেন, তা মানবকল্যাণ ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনবদ্য দলিল। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সেদিন ইরশাদ করেছিলেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَفْشُوا السَّلَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصِلُوا الْأَرْحَامَ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ

‘হে মানুষ! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে নামাজ আদায় কর; তাহলে তোমরা নিরাপদে ও শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (তিরমিজি ২৪৮৫, মুসনাদে আহমাদ ২৩৪০৮)

১. ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো: মানবতা ও শান্তির প্রথম সোপান

খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান। মানুষের ক্ষুধার কষ্ট দূর না করে কখনোই একটি সুন্দর, অপরাধমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। পেটে ক্ষুধা থাকলে মানুষের মধ্যে যেমন অশান্তি দানা বাঁধে, তেমনি সমাজের অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়ে। তাই পারস্পরিক দয়া ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত হলো ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সৎ ও জান্নাতি বান্দাদের এই গুণের প্রশংসা করে ইরশাদ করেছেন—

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَْتِيمًا وَأَسِيرًا

‘আর তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে খাবার খাওয়ায়।’ (সুরা আল-ইনসান: আয়াত ৮)

২. সালামের প্রচলন: পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি

রাস্তায়, কর্মস্থলে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে আন্তরিকভাবে সালাম দেওয়া মানুষের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে দেয়। অজ্ঞতা ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই মূলত সমাজে বিদ্বেষের জন্ম হয়। অথচ সালামের মাধ্যমে একে অপরের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তার দোয়া করা হয়, যা মনের জমে থাকা বরফ গলিয়ে দেয় এবং পারস্পরিক ভালোবাসার সেতুবন্ধন তৈরি করে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন—

لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَبَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ

‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ইমান আনবে, আর ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে? তা হলো—তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম ৫৪)

 

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা: পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা

পরিবার ও আত্মীয়স্বজন হলো সামাজিক নিরাপত্তার প্রথম ভিত্তি। সময়ের ব্যবধানে বড় পরিবারগুলোতে দূরত্ব তৈরি হওয়া, অহংকার কিংবা পার্থিব প্রতিযোগিতার কারণে মানুষ আজ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে অনেকে নিজেকে অসহায় ভাবতে শুরু করেন। অথচ ইসলামের জোরালো নির্দেশ হলো রক্তসম্পর্ক ও আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যোগাযোগ সহজ হলেও মনের দূরত্ব কমানো জরুরি। নবীজি (সা.) আত্মীয়তার সম্পর্কের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেছেন—

مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি ২০৬৭)

৪. রাতের নামাজ: আত্মিক শক্তি ও রবের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ

ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো, সালাম দেওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মতো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বগুলোর পাশাপাশি রাতের নীরবতায় ইবাদত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নবীজি (সা.) পার্থিব ও পরকালীন জীবনের চমৎকার এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। রাতের শেষ প্রহরে যখন গোটা দুনিয়া ঘুমে বিভোর থাকে, তখন একজন মুমিন তার রবের দরবারে দাঁড়িয়ে একান্তে সিজদায় অবনমিত হন। এই আত্মিক সংযোগই মানুষের অন্তরে অন্য মানুষের কল্যাণে কাজ করার অফুরন্ত শক্তি ও ধৈর্য জোগায়। এ বিষয়ে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

‘তাদের পার্শ্ব বিছানা থেকে দূরে থাকে (তারা ঘুমের মোহ ত্যাগ করে ইবাদতে মশগুল থাকে), তারা তাদের রবকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সুরা আস-সাজদাহ: আয়াত ১৬)

মদিনায় পা রেখে নবীজি (সা.) যে সুমহান আদর্শের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা কেবল বাহ্যিক কোনো আচার-অনুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণরাষ্ট্র ও মানবিক সমাজ গঠনের রূপরেখা। ক্ষুধার অন্ন জোগানো, সালাম ও ভালোবাসার চাদরে সমাজকে মোড়ানো, রক্তের সম্পর্ককে জোরালো করা এবং রাতের আঁধারে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মধ্য দিয়েই একজন মুমিন প্রকৃত শান্তির ঠিকানা খুঁজে পান। এই অমূল্য উপদেশগুলো মেনে চলাই আজকের অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ও সাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

ইসলাম   কুরআন   হাদিস   আমল   ইবাদত   নামাজ