ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ফেনীতে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার ৬

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

প্রতীকী ছবি

ফেনীর দাগনভূঞায় এক গৃহবধূকে (২৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে দাগনভূঞা থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম থেকে নিজ মালিকানাধীন অটোরিকশা যোগে নোয়াখালীর চরজব্বার উপজেলার মধ্য বাগ্যা গ্রামের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী। রাতে দাগনভূঞায় পৌঁছলে অটোরিকশার চার্জ কমে যাওয়ায় ফাজিলেঘাট রোডের অটোরিকশা গ্যারেজ জুয়েলের দোকানে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে চার্জ দেওয়ার জন্য থামেন তারা। স্বামী মাসুদ দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসায় স্ত্রীকে গ্যারেজে বসিয়ে রেখে খাবার আনতে হোটেলে যান।

এ সুযোগে উপজেলার জগতপুর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে আবুল বাশার (৪২), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ, নোয়াখালীর রামগতি উপজেলার জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (১৯), ফেনী সদর উপজেলার আমান উল্যাহ গ্রামের মো. হারুনের ছেলে আবদুল মান্নান (২৯), ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরদরবেশ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), দাগনভূঞার উত্তর চণ্ডীপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে শাহেদুল ইসলাম (১৯), দাগনভূঞা পৌরসভার জগতপুর গ্রামের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে শাহরিয়ার নোমান (১৯), একই গ্রামের মো. খোকনের ছেলে জাকের হোসেন (১৯) ও কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার কদমতলী গ্রামের মো. নবীর ছেলে মো. শাকিলসহ (১৮) আরও অজ্ঞাতরা সংঘবদ্ধ হয়ে গৃহবধূ ও তার স্বামীকে অপহরণ করে জগতপুরের শাহজালাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যান।

এ সময় গৃহবধূর স্বামীকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীর বস্ত্র খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তার কাকুতি-মিনতি উপেক্ষা করে স্বামীসহ তাদের জগতপুর গ্রামের আবুল কালামের নির্মাণাধীন দালানে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত দেড়টার দিকে বাশারকে দিয়ে ধর্ষণের সহায়তা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণের সংঘবদ্ধ চক্রটি গৃহবধূর স্মার্টফোন, তার স্বামীর স্মার্টফোন, গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার, ১টি সাউন্ডবক্স ও ১টি টেবিল ফ্যান নিয়ে যায়। তারা অটোরিকশার ব্যাটারির তারের কানেকশন ছিঁড়ে ফেলে। উপরন্তু, ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এ ঘটনা প্রকাশ হলে পুলিশ ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে। পরে ওই গৃহবধূ ৯ জনসহ আরও অনেককে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান যুগান্তরকে জানান, ঘটনাটি শোনামাত্র ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় ৬ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর ধর্ষণের আলামত পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এজাহারে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং থানায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার কোনো জবানবন্দি দেননি বিধায় পরীক্ষা করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

 

দাগনভূঞা  ধর্ষণ

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফেনীতে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার ৬

আপডেট সময় : ০৪:০০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞায় এক গৃহবধূকে (২৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে দাগনভূঞা থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম থেকে নিজ মালিকানাধীন অটোরিকশা যোগে নোয়াখালীর চরজব্বার উপজেলার মধ্য বাগ্যা গ্রামের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী। রাতে দাগনভূঞায় পৌঁছলে অটোরিকশার চার্জ কমে যাওয়ায় ফাজিলেঘাট রোডের অটোরিকশা গ্যারেজ জুয়েলের দোকানে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে চার্জ দেওয়ার জন্য থামেন তারা। স্বামী মাসুদ দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসায় স্ত্রীকে গ্যারেজে বসিয়ে রেখে খাবার আনতে হোটেলে যান।

এ সুযোগে উপজেলার জগতপুর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে আবুল বাশার (৪২), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ, নোয়াখালীর রামগতি উপজেলার জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (১৯), ফেনী সদর উপজেলার আমান উল্যাহ গ্রামের মো. হারুনের ছেলে আবদুল মান্নান (২৯), ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরদরবেশ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), দাগনভূঞার উত্তর চণ্ডীপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে শাহেদুল ইসলাম (১৯), দাগনভূঞা পৌরসভার জগতপুর গ্রামের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে শাহরিয়ার নোমান (১৯), একই গ্রামের মো. খোকনের ছেলে জাকের হোসেন (১৯) ও কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার কদমতলী গ্রামের মো. নবীর ছেলে মো. শাকিলসহ (১৮) আরও অজ্ঞাতরা সংঘবদ্ধ হয়ে গৃহবধূ ও তার স্বামীকে অপহরণ করে জগতপুরের শাহজালাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যান।

এ সময় গৃহবধূর স্বামীকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীর বস্ত্র খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তার কাকুতি-মিনতি উপেক্ষা করে স্বামীসহ তাদের জগতপুর গ্রামের আবুল কালামের নির্মাণাধীন দালানে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত দেড়টার দিকে বাশারকে দিয়ে ধর্ষণের সহায়তা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণের সংঘবদ্ধ চক্রটি গৃহবধূর স্মার্টফোন, তার স্বামীর স্মার্টফোন, গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার, ১টি সাউন্ডবক্স ও ১টি টেবিল ফ্যান নিয়ে যায়। তারা অটোরিকশার ব্যাটারির তারের কানেকশন ছিঁড়ে ফেলে। উপরন্তু, ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এ ঘটনা প্রকাশ হলে পুলিশ ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে। পরে ওই গৃহবধূ ৯ জনসহ আরও অনেককে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান যুগান্তরকে জানান, ঘটনাটি শোনামাত্র ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় ৬ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর ধর্ষণের আলামত পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এজাহারে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং থানায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার কোনো জবানবন্দি দেননি বিধায় পরীক্ষা করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

 

দাগনভূঞা  ধর্ষণ