ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘মৃত্যফাঁদ” লেগুনা।

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর সড়কে দাপিয়ে বেড়ানো ‘হিউম্যান হলার’ বা লেগুনার পেছনে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের জালিয়াতি। বিআরটিএর নথিতে যে গাড়িগুলো মাইক্রোবাস বা পিকআপ হিসেবে তালিকাভুক্ত, সেগুলোই বাস্তবে যাত্রী টানছে অবৈধ লেগুনা সেজে। অদক্ষ কারিগরের হাতে কাটাছেঁড়া করে তৈরি এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ এখন রাজপথের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। 

ঢাকা মেট্রো-ম ৫১-৭৫২২, ঢাকা মেট্রো-গ ১১-১৩৯৩, ঢাকা মেট্রো-চ ১৪-০০২৪ সারিবদ্ধ গাড়িগুলো রাখা হলে দেখে যে কোনো যাত্রী বা পথচারী সহজেই হিউম্যান হলার বা লেগুনা মনে করতে পারে। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর জালিয়াতি। দেখতে লেগুনার মতো হলেও বিআরটিএর তথ্য বলছে, কাগজে-কলমে এগুলো আসলে লেগুনা নয়।

প্রকৃতপক্ষে, পুরানো মাইক্রোবাস বা পিকআপকে কেটে লেগুনা বা হিউম্যান হলারের আকৃতি দেয়া হয়েছে। এই ফিটনেস বিহীন অবৈধ যানগুলো প্রশাসনের ঠিক নাকের ডগায় রাজধানীর রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চালকরা বলছেন, মাইক্রো ক্যাটাগরির সব ধরনের লেগুনা আছে।
 
প্রশ্ন উঠছে এই অবৈধ, ঝুঁকিপূর্ণ বাহন তৈরি হচ্ছে কোথায়? কারা বানাচ্ছে এসব ‘মৃত্যুফাঁদ’? উত্তর মিলছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গাপ্রেস আর কেনাপাড়া এলাকায়। অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এই বাহনগুলো তৈরি হচ্ছে এখানেই। পুরানো মাইক্রোবাস কেটে, পিকআপের ওপর জোড়াতালি দিয়ে অদক্ষ কারিগরের হাতেই তৈরি হচ্ছে কথিত লেগুনা। কারিগররা জানান, লেগুনা তৈরি করতে পিকআপ হলে বডির জন্য ৫০ হাজার টাকা, সিট লাগাতে ১০ হাজার এবং রঙের খরচ আলাদা।
 
অভিযোগ শুধু নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, সড়কেও এই যানগুলো নিয়ে আছে অনেক সমস্যা। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, মর্জিমাফিক ভাড়া আদায়-সবেই এ বাহনকে দায়ী করা হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, ১০ টাকার ভাড়া কখনও ২০ টাকা, আবার জ্যামের কারণে ৩০ টাকাও নেয়া হয়। গাদাগাদি করে বসতে হয়, তবু বাধ্য হয়েই চলাচল করতে হয়।
 
প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই নৈরাজ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ডিএমপির (ট্রাফিক) অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, এগুলো কাগজপত্রহীন, এটা শতভাগ সত্য। এই লেগুনাগুলো চলার প্রধান কারণ হলো স্থানীয় চাহিদা। প্রত্যেক সমস্যা ট্রাফিক পুলিশকে জানালে সমাধান সম্ভব নয়।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ ফিটনেস ও কাঠামোগত নকশা ছাড়া এসব বাহন মূলত চলন্ত ‘মৃত্যুফাঁদ’। সামান্য আঘাতেও জোড়াতালির বডি চুরমার হয়ে যেতে পারে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সড়কে সুশাসন বা গুড গভর্নেন্স না থাকার কারণে নতুন ধরনের ইম্প্রোভাইজেশন বা মডিফিকেশনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গাড়িকে চাইলেই মডিফাই করা যাবে না। সিটের পুনর্বিন্যাস করা ভয়ংকর অপরাধ। প্রশাসন নজরদারি না করলে এটি কালের পরিক্রমায় নিয়মে পরিণত হতে পারে।
 
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অনুমোদিত হিউম্যান হলার রয়েছে ৪ হাজার ৭৫২টি। মাঠের পরিসংখ্যানের সঙ্গে এ সংখ্যার ফারাক বিস্তর। অবৈধভাবে দাপিয়ে বেড়ানো এই যানগুলো শুধু শৃঙ্খলা ভাঙছে না, প্রতিনিয়ত জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। 
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

রাজধানীর রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘মৃত্যফাঁদ” লেগুনা।

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর সড়কে দাপিয়ে বেড়ানো ‘হিউম্যান হলার’ বা লেগুনার পেছনে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের জালিয়াতি। বিআরটিএর নথিতে যে গাড়িগুলো মাইক্রোবাস বা পিকআপ হিসেবে তালিকাভুক্ত, সেগুলোই বাস্তবে যাত্রী টানছে অবৈধ লেগুনা সেজে। অদক্ষ কারিগরের হাতে কাটাছেঁড়া করে তৈরি এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ এখন রাজপথের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। 

ঢাকা মেট্রো-ম ৫১-৭৫২২, ঢাকা মেট্রো-গ ১১-১৩৯৩, ঢাকা মেট্রো-চ ১৪-০০২৪ সারিবদ্ধ গাড়িগুলো রাখা হলে দেখে যে কোনো যাত্রী বা পথচারী সহজেই হিউম্যান হলার বা লেগুনা মনে করতে পারে। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর জালিয়াতি। দেখতে লেগুনার মতো হলেও বিআরটিএর তথ্য বলছে, কাগজে-কলমে এগুলো আসলে লেগুনা নয়।

প্রকৃতপক্ষে, পুরানো মাইক্রোবাস বা পিকআপকে কেটে লেগুনা বা হিউম্যান হলারের আকৃতি দেয়া হয়েছে। এই ফিটনেস বিহীন অবৈধ যানগুলো প্রশাসনের ঠিক নাকের ডগায় রাজধানীর রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চালকরা বলছেন, মাইক্রো ক্যাটাগরির সব ধরনের লেগুনা আছে।
 
প্রশ্ন উঠছে এই অবৈধ, ঝুঁকিপূর্ণ বাহন তৈরি হচ্ছে কোথায়? কারা বানাচ্ছে এসব ‘মৃত্যুফাঁদ’? উত্তর মিলছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গাপ্রেস আর কেনাপাড়া এলাকায়। অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এই বাহনগুলো তৈরি হচ্ছে এখানেই। পুরানো মাইক্রোবাস কেটে, পিকআপের ওপর জোড়াতালি দিয়ে অদক্ষ কারিগরের হাতেই তৈরি হচ্ছে কথিত লেগুনা। কারিগররা জানান, লেগুনা তৈরি করতে পিকআপ হলে বডির জন্য ৫০ হাজার টাকা, সিট লাগাতে ১০ হাজার এবং রঙের খরচ আলাদা।
 
অভিযোগ শুধু নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, সড়কেও এই যানগুলো নিয়ে আছে অনেক সমস্যা। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, মর্জিমাফিক ভাড়া আদায়-সবেই এ বাহনকে দায়ী করা হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, ১০ টাকার ভাড়া কখনও ২০ টাকা, আবার জ্যামের কারণে ৩০ টাকাও নেয়া হয়। গাদাগাদি করে বসতে হয়, তবু বাধ্য হয়েই চলাচল করতে হয়।
 
প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই নৈরাজ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ডিএমপির (ট্রাফিক) অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, এগুলো কাগজপত্রহীন, এটা শতভাগ সত্য। এই লেগুনাগুলো চলার প্রধান কারণ হলো স্থানীয় চাহিদা। প্রত্যেক সমস্যা ট্রাফিক পুলিশকে জানালে সমাধান সম্ভব নয়।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ ফিটনেস ও কাঠামোগত নকশা ছাড়া এসব বাহন মূলত চলন্ত ‘মৃত্যুফাঁদ’। সামান্য আঘাতেও জোড়াতালির বডি চুরমার হয়ে যেতে পারে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সড়কে সুশাসন বা গুড গভর্নেন্স না থাকার কারণে নতুন ধরনের ইম্প্রোভাইজেশন বা মডিফিকেশনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গাড়িকে চাইলেই মডিফাই করা যাবে না। সিটের পুনর্বিন্যাস করা ভয়ংকর অপরাধ। প্রশাসন নজরদারি না করলে এটি কালের পরিক্রমায় নিয়মে পরিণত হতে পারে।
 
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অনুমোদিত হিউম্যান হলার রয়েছে ৪ হাজার ৭৫২টি। মাঠের পরিসংখ্যানের সঙ্গে এ সংখ্যার ফারাক বিস্তর। অবৈধভাবে দাপিয়ে বেড়ানো এই যানগুলো শুধু শৃঙ্খলা ভাঙছে না, প্রতিনিয়ত জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।