ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

বরাদ্ধ স্বল্পতা ও ঠিকাদার আত্মগোপনে থাকায় বান্দরবানে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ

সরকার পতনের পর বান্দরবানের অধিকাংশ আওয়ামীলীগ সমর্থিত ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার কাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পর্যাপ্ত বরাদ্ধ না থাকায় কাজ চালিয়ে যেতে পারছেনা অনেক ঠিকাদার। এর ফলে থমকে আছে পাহাড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ, ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়রা।

জানা যায়, বান্দরবান জেলাতে বেশিরভাগ ঠিকাদারই আওয়ামীলীগের নেতা বা সমর্থক ছিলেন। যার কারণে উন্নয়ন বোর্ডের অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ আওয়ামীলীগ সমর্থিত ঠিকাদাররা বাস্তবায়ন করতেন। কিন্তু ৫ আগষ্ট এর পর থেকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হওয়ার আত্মগোপনে চলে যায় বান্দরবানের অধিকাংশ ঠিকাদার। ফলে বান্দরবানের সাত উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কাজের ৫০ শতাংশ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্ধ ও মালামাল সংকটের কারণে কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না অনেক ঠিকাদার। এতে ফলে থমকে আছে পাহাড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। তাই বিকল্প ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের দাবী স্থানীয় বাসিন্দাদের।

বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার থানচি বলিপাড়া সাঙ্গু নদী উপর ব্রীজ নির্মাণ, বান্দরবান সদর উপজেলার লেমুঝিড়ি সড়ক ও রোয়াংছড়ি হতে রুমা সড়কও, রোয়াংছড়ি উপজেলার ত্রিশটিলা নামক স্থানে রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ, বান্দরবান পৌরসভা বাস টার্মিনাল নির্মাণসহ কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। ঠিকাদারের অনুপস্থিত, বরাদ্ধ স্বল্পতা ও মালামাল সংকটের কারণে বর্তমানে এসব কাজগুলো বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায়।

সদর উপজেলার লেমুঝিরি এলাকা বাসিন্দা অংথোয়াইপ্রম্ন মারমা বলেন, শুরুতেই লেমুঝিড়ি পাড়া সড়ক নির্মাণের কাজ চলছিল। হঠাৎ সরকার পতনের পর থেকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় বর্তমানে ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এই রাস্তার কাজ শেষ করা হোক।

বলিপাড়া এলাকার আরেক বাসিন্দা রুমা চাকমা বলেন, বহু বছর পর আমাদের এলাকায় একটি ব্রীজ হয়েছে। কিন্তু ব্রিজের দুপাশে সড়ক নির্মাণ না হওয়ার কারণে ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে পারতেছিনা। আমাদের এখনো নৌকায় করে মালামাল পারাপার করতে হয়। আমরা চাই আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বলিপাড়া বাজার এলাকার ব্রীজটি সড়কের কাজ শেষ করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন— পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বান্দরবান জেলার সাত উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কাজের অধিকাংশ কাজের ঠিকাদার বর্তমানে পলাতক রয়েছে। যার কারণে অধিকাংশ কাজ বন্ধ, এছাড়াও মালমাল সংকট ও বরাদ্ধ না থাকায় সাত উপজেলায় প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বরাদ্দের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি, বরাদ্ধ পেলে শীঘ্রই কাজ গুলো চালু করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বরাদ্ধ স্বল্পতা ও ঠিকাদার আত্মগোপনে থাকায় বান্দরবানে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪

সরকার পতনের পর বান্দরবানের অধিকাংশ আওয়ামীলীগ সমর্থিত ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার কাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পর্যাপ্ত বরাদ্ধ না থাকায় কাজ চালিয়ে যেতে পারছেনা অনেক ঠিকাদার। এর ফলে থমকে আছে পাহাড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ, ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়রা।

জানা যায়, বান্দরবান জেলাতে বেশিরভাগ ঠিকাদারই আওয়ামীলীগের নেতা বা সমর্থক ছিলেন। যার কারণে উন্নয়ন বোর্ডের অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ আওয়ামীলীগ সমর্থিত ঠিকাদাররা বাস্তবায়ন করতেন। কিন্তু ৫ আগষ্ট এর পর থেকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হওয়ার আত্মগোপনে চলে যায় বান্দরবানের অধিকাংশ ঠিকাদার। ফলে বান্দরবানের সাত উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কাজের ৫০ শতাংশ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্ধ ও মালামাল সংকটের কারণে কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না অনেক ঠিকাদার। এতে ফলে থমকে আছে পাহাড়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। তাই বিকল্প ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের দাবী স্থানীয় বাসিন্দাদের।

বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার থানচি বলিপাড়া সাঙ্গু নদী উপর ব্রীজ নির্মাণ, বান্দরবান সদর উপজেলার লেমুঝিড়ি সড়ক ও রোয়াংছড়ি হতে রুমা সড়কও, রোয়াংছড়ি উপজেলার ত্রিশটিলা নামক স্থানে রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ, বান্দরবান পৌরসভা বাস টার্মিনাল নির্মাণসহ কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। ঠিকাদারের অনুপস্থিত, বরাদ্ধ স্বল্পতা ও মালামাল সংকটের কারণে বর্তমানে এসব কাজগুলো বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায়।

সদর উপজেলার লেমুঝিরি এলাকা বাসিন্দা অংথোয়াইপ্রম্ন মারমা বলেন, শুরুতেই লেমুঝিড়ি পাড়া সড়ক নির্মাণের কাজ চলছিল। হঠাৎ সরকার পতনের পর থেকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় বর্তমানে ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এই রাস্তার কাজ শেষ করা হোক।

বলিপাড়া এলাকার আরেক বাসিন্দা রুমা চাকমা বলেন, বহু বছর পর আমাদের এলাকায় একটি ব্রীজ হয়েছে। কিন্তু ব্রিজের দুপাশে সড়ক নির্মাণ না হওয়ার কারণে ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে পারতেছিনা। আমাদের এখনো নৌকায় করে মালামাল পারাপার করতে হয়। আমরা চাই আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বলিপাড়া বাজার এলাকার ব্রীজটি সড়কের কাজ শেষ করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন— পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বান্দরবান জেলার সাত উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কাজের অধিকাংশ কাজের ঠিকাদার বর্তমানে পলাতক রয়েছে। যার কারণে অধিকাংশ কাজ বন্ধ, এছাড়াও মালমাল সংকট ও বরাদ্ধ না থাকায় সাত উপজেলায় প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বরাদ্দের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি, বরাদ্ধ পেলে শীঘ্রই কাজ গুলো চালু করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।