ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘৮ শতাংশের পরিচয় যাচাই-বাছাই না করেই ভোট গ্রহণ করা হয়েছে’

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩০ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটারের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ৪ শতাংশ কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছে জালভোট। সিরাজগঞ্জ-১, রাজবাড়ী-২ ও ঢাকা-৫ আসনে ভোটারের ভোট অন্য কেউ দিয়েছে। ৫.৮ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে হুমকি বা ভীতির শিকার হয়ে ভোট দিতে না পেরে ফিরে গেছেন। তবে সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভয়েস নেটওয়ার্ক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রায় ৭ শতাংশ কেন্দ্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে ও পর্যবেক্ষণ কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পর্যবেক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় আইডি কার্ড ও অনুমোদন সরবরাহ করতে যথেষ্ট বিলম্ব হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ কাজকে বিঘ্নিত করেছে। প্রায় ৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে বাইরে থেকে সনাক্ত করার মতো অবস্থা ছিল না। অর্থাৎ জীর্ণশীর্ণ স্থানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ১১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে সক্ষম নয় এমন ভোটারদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা ছিল না। গর্ভবতী নারীর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না প্রায় ২০ শতাংশ কেন্দ্রে।

ভয়েস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, প্রায় ১১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি পর্যাপ্ত ছিল না, ফলে অনিরাপদ পরিস্থিতিতে কোনো তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার আয়োজন ছিল না বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে প্রায় ১৫.৫ শতাংশ নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে পক্ষ নিয়েছেন বা হস্তক্ষেপ করেছে বলে পর্যবেক্ষণ করা গেছে। পর্যবেক্ষণকৃত কেন্দ্রসমূহের প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে অনুমোদিত নয় এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যা সামগ্রিক নির্বাচন পরিবেশের জন্য একটি বড় অসঙ্গতি বলে দৃশ্যমান হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, পর্যবেক্ষণের সময় দেখা গেছে প্রায় ৪ শতাংশ কেন্দ্রে যেকোনো একটি পক্ষের পোলিং এজেন্ট ছিল না। ঢাকা-৮ আসনের একাধিক কেন্দ্রে এক পক্ষের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা-১০ আসনের নাঙ্গলকোট পেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পক্ষের এজেন্টকে বুথ থেকে উঠিয়ে নিয়ে নেমে এসেছে। এ ছাড়া ভোলা-২, ভোলা-৪, ঢাকা-৪, গাজীপুর-৩, বাগেরহাট-৪, ফরিদপুর-২, নরসিংদী-৩, চট্টগ্রাম-১২, নোয়াখালী-৬, লক্ষীপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-২, লক্ষীপুর-২ ইত্যাদি আসনে এরূপ ব্যত্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যালট ছিনতাই ও চুরির মতো ঘটনা লক্ষ করা গেছে। আমরা গণমাধ্যমেও দেখেছি যে, শেরপুর-১ আসনে প্রায় শতাধিক ব্যালট সিলমারা অবস্থায় উদ্ধারও হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ কভারেজ সীমিত ছিল, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জনগণের তথ্যের অধিকারকে প্রভাবিত করেছে। কিছু সংবাদমাধ্যম পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনি দলের বা প্রার্থীর পক্ষে/বিপক্ষে ভুল তথ্য বা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর ঘটনা লক্ষ করা গেছে। গণমাধ্যমের এই ধরনের দায়িত্বশীলতার অভাব নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি ভোটার সচেতনতা কমিয়ে, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আস্থা হ্রাস করতে পারে। স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন না থাকলে ভোটাররা তথ্যের ওপর নির্ভরশীলতা হারায় এবং প্রার্থীদের মধ্যে পক্ষপাতমূলক ধারণা তৈরি হতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই দেশের প্রায় সকল বিভাগে সহিংসতা, হামলা, বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। এ পর্যন্ত আমাদের পর্যবেক্ষকরা প্রায় ৪০টি জেলায় অন্তত ৭০টি সহিংসতার তথ্য রিপোর্ট করেছেন। এর মধ্যে বাগেরহাট ও মুন্সিগঞ্জে দুজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নোয়াখালীতে নির্দিষ্ট দলের প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে একজন নারীর ওপর যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া দিনাজপুর, নাটোর, পঞ্চগড়, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, বরিশাল, বরগুনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, হবিগঞ্জে সহিংসতার তথ্য রয়েছে। সারা দেশে এহেন সহিংসতার দৃশ্য নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার যে আশাবাদ, তাকে ম্লান করছে।

ভয়েস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ১১০টি আসন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে ১০৬৯ জন পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করেছে। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৫৪১টি। নির্বাচনের পূর্বে ৬৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা হয়েছে ৪৫টি।

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য বলা যায়। তবে নির্বাচনের পরপরই দেশের প্রায় সব বিভাগে যেভাবে সহিংসতা শুরু হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের সাফল্যকে তা ম্নান করে দিয়েছে। সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ছিল, তবুও ফলাফল প্রকাশ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি বিদ্যমান।

ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ারপারসন জসিম উদ্দিন বলেন, ভয়েস নেটওয়ার্ক এর অধীনে পাঁচটি নিবন্ধিত সংস্থা রয়েছে। এই পাঁচটি সংস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন আসনে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমরা মনে করি, কোনো ব্যবস্থাই শতভাগ নিখুঁত হতে পারে না। কিছু না কিছু ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের আজকের যে প্রতিবেদন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে, তা বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের মূল্যায়নে এই নির্বাচনকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণে নির্বাচনি ব্যবস্থার যেসব ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি বা দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলোও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আপনারা সেগুলো পর্যালোচনা করবেন। আমরা আশা করি, এসব সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে উঠবে। নির্বাচন কমিশন আমাদের সুপারিশগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও আমরা প্রত্যাশা করি।

সংগঠনটির ইকরামুল হক সায়েম বলেন, নির্বাচন অবাধ মুক্ত পরিবেশে, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সরকার একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়েছে জাতিকে।

এ সময় ভয়েস নেটওয়ার্কের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এনায়েত হোসেন, বাকেরগঞ্জ ফোরামের শাহ আলম হাওলাদার, এইচআরএইচএইচআরএসএসের প্রধান এজাজ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

‘৮ শতাংশের পরিচয় যাচাই-বাছাই না করেই ভোট গ্রহণ করা হয়েছে’

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটারের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ৪ শতাংশ কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছে জালভোট। সিরাজগঞ্জ-১, রাজবাড়ী-২ ও ঢাকা-৫ আসনে ভোটারের ভোট অন্য কেউ দিয়েছে। ৫.৮ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে হুমকি বা ভীতির শিকার হয়ে ভোট দিতে না পেরে ফিরে গেছেন। তবে সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভয়েস নেটওয়ার্ক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রায় ৭ শতাংশ কেন্দ্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে ও পর্যবেক্ষণ কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পর্যবেক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় আইডি কার্ড ও অনুমোদন সরবরাহ করতে যথেষ্ট বিলম্ব হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ কাজকে বিঘ্নিত করেছে। প্রায় ৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে বাইরে থেকে সনাক্ত করার মতো অবস্থা ছিল না। অর্থাৎ জীর্ণশীর্ণ স্থানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ১১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে সক্ষম নয় এমন ভোটারদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা ছিল না। গর্ভবতী নারীর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না প্রায় ২০ শতাংশ কেন্দ্রে।

ভয়েস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, প্রায় ১১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি পর্যাপ্ত ছিল না, ফলে অনিরাপদ পরিস্থিতিতে কোনো তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার আয়োজন ছিল না বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে প্রায় ১৫.৫ শতাংশ নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে পক্ষ নিয়েছেন বা হস্তক্ষেপ করেছে বলে পর্যবেক্ষণ করা গেছে। পর্যবেক্ষণকৃত কেন্দ্রসমূহের প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে অনুমোদিত নয় এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যা সামগ্রিক নির্বাচন পরিবেশের জন্য একটি বড় অসঙ্গতি বলে দৃশ্যমান হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, পর্যবেক্ষণের সময় দেখা গেছে প্রায় ৪ শতাংশ কেন্দ্রে যেকোনো একটি পক্ষের পোলিং এজেন্ট ছিল না। ঢাকা-৮ আসনের একাধিক কেন্দ্রে এক পক্ষের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা-১০ আসনের নাঙ্গলকোট পেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পক্ষের এজেন্টকে বুথ থেকে উঠিয়ে নিয়ে নেমে এসেছে। এ ছাড়া ভোলা-২, ভোলা-৪, ঢাকা-৪, গাজীপুর-৩, বাগেরহাট-৪, ফরিদপুর-২, নরসিংদী-৩, চট্টগ্রাম-১২, নোয়াখালী-৬, লক্ষীপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-২, লক্ষীপুর-২ ইত্যাদি আসনে এরূপ ব্যত্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যালট ছিনতাই ও চুরির মতো ঘটনা লক্ষ করা গেছে। আমরা গণমাধ্যমেও দেখেছি যে, শেরপুর-১ আসনে প্রায় শতাধিক ব্যালট সিলমারা অবস্থায় উদ্ধারও হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ কভারেজ সীমিত ছিল, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জনগণের তথ্যের অধিকারকে প্রভাবিত করেছে। কিছু সংবাদমাধ্যম পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনি দলের বা প্রার্থীর পক্ষে/বিপক্ষে ভুল তথ্য বা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর ঘটনা লক্ষ করা গেছে। গণমাধ্যমের এই ধরনের দায়িত্বশীলতার অভাব নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি ভোটার সচেতনতা কমিয়ে, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আস্থা হ্রাস করতে পারে। স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন না থাকলে ভোটাররা তথ্যের ওপর নির্ভরশীলতা হারায় এবং প্রার্থীদের মধ্যে পক্ষপাতমূলক ধারণা তৈরি হতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই দেশের প্রায় সকল বিভাগে সহিংসতা, হামলা, বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। এ পর্যন্ত আমাদের পর্যবেক্ষকরা প্রায় ৪০টি জেলায় অন্তত ৭০টি সহিংসতার তথ্য রিপোর্ট করেছেন। এর মধ্যে বাগেরহাট ও মুন্সিগঞ্জে দুজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নোয়াখালীতে নির্দিষ্ট দলের প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে একজন নারীর ওপর যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া দিনাজপুর, নাটোর, পঞ্চগড়, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, পটুয়াখালী, বরিশাল, বরগুনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, হবিগঞ্জে সহিংসতার তথ্য রয়েছে। সারা দেশে এহেন সহিংসতার দৃশ্য নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার যে আশাবাদ, তাকে ম্লান করছে।

ভয়েস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ১১০টি আসন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে ১০৬৯ জন পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করেছে। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৫৪১টি। নির্বাচনের পূর্বে ৬৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা হয়েছে ৪৫টি।

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য বলা যায়। তবে নির্বাচনের পরপরই দেশের প্রায় সব বিভাগে যেভাবে সহিংসতা শুরু হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের সাফল্যকে তা ম্নান করে দিয়েছে। সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ছিল, তবুও ফলাফল প্রকাশ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি বিদ্যমান।

ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ারপারসন জসিম উদ্দিন বলেন, ভয়েস নেটওয়ার্ক এর অধীনে পাঁচটি নিবন্ধিত সংস্থা রয়েছে। এই পাঁচটি সংস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন আসনে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমরা মনে করি, কোনো ব্যবস্থাই শতভাগ নিখুঁত হতে পারে না। কিছু না কিছু ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের আজকের যে প্রতিবেদন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে, তা বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের মূল্যায়নে এই নির্বাচনকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণে নির্বাচনি ব্যবস্থার যেসব ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি বা দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলোও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আপনারা সেগুলো পর্যালোচনা করবেন। আমরা আশা করি, এসব সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে উঠবে। নির্বাচন কমিশন আমাদের সুপারিশগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও আমরা প্রত্যাশা করি।

সংগঠনটির ইকরামুল হক সায়েম বলেন, নির্বাচন অবাধ মুক্ত পরিবেশে, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সরকার একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়েছে জাতিকে।

এ সময় ভয়েস নেটওয়ার্কের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এনায়েত হোসেন, বাকেরগঞ্জ ফোরামের শাহ আলম হাওলাদার, এইচআরএইচএইচআরএসএসের প্রধান এজাজ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।