ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রচলিত মহিলা মাদরাসায় পড়ার বিধান।

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে নারীদের দ্বিনি শিক্ষা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম কওমি ধারার মহিলা মাদরাসাগুলো। দেশের সাধারণ মুসলমানদের বড় একটি অংশই মেয়েদের দ্বিনি শিক্ষা অর্জনে এসব মাদরাসার ওপর নির্ভর করে থাকে।

তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা মহিলা মাদরাসাগুলোর সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, প্রশ্নবিদ্ধ করছে তার ব্যবস্থাপনা নিয়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছে, যে মহিলা মাদরাসায় নারীর ইজ্জত-আব্রু নিরাপদ নয়, সেখানে মেয়েদের পড়তে দেওয়ার শরয়ি বিধান কি?

যেকোনো পরিস্থিতিতে কি মেয়েদের মাদরাসায় পড়া অপরিহার্য? আজকের লেখায় সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।

ইসলাম নারীকে মান, সম্মান, ইজ্জত ও আব্রু রক্ষা করে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। সাধারণ অবস্থা ইসলাম নারীকে ঘরমুখী জীবন যাপনে উত্সাহিত করে। তবে এটা এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নয় যে, নারীরা কখনো কোনো অবস্থাতেই ঘর থেকে বের হতে পারবে না। শরিয়তের মূল উদ্দেশ্য হলো ফেতনা থেকে নিজে আত্মরক্ষা করা এবং সমাজকে রক্ষা করা।

ইসলাম নারীর ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে চায় না। ইসলামের দৃষ্টিতে পুরুষের জন্য যেমন ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরজ, তেমনি নারীর জন্যও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। তবে ঘরে যদি পরিবেশ এমন হয় যে, ঘরে বসেই নারী প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারবে তবে ঘরে বসেই সে নিজের পিতা, ভাই, স্বামী বা অন্য কোনো মাহরাম পুরুষের কাছ থেকে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করবে। কিন্তু যদি ঘরে থেকে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা না যায় এবং নানা ধরনের প্রতিবন্ধকার কারণে যদি তাদের দ্বিনি শিক্ষা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় তবে নিম্নোক্ত শর্তে মেয়েরা মহিলা মাদরাসায় পড়তে পারবে।

শর্তগুলো হচ্ছে—
১. পরিপূর্ণভাবে পর্দা পালন ও তার গুরুত্ব প্রদান।
২. গাইরে মাহরাম পুরুষের সঙ্গে মেশার ভয় না থাকা।
৩. নারী শিক্ষিকাদের মাধ্যমে পাঠ দান।
৪. পুরুষ শিক্ষকরা পাঠদানে বাধ্য হলে ছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে পর্দা থাকা এবং নির্জনে উভয়ের মেশার সুযোগ না থাকা।
৫. মাদরাসায় যাওয়া আসার রাস্তা নিরাপদ হওয়া এবং ফেতনার আশংকা না থাকা।
৬. কেবল প্রয়োজনীয় সময়টুকুই মাদরাসায় অবস্থা করা।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) নারীদের শিক্ষার জন্য একটি দিন নির্ধারণ করেছিলেন। সেদিন তিনি তাদেরকে উপদেশ দিতেন এবং আদেশ করতেন (শরিয়তের বিধান শেখাতেন)। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০১)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নারীরা গোপন জিনিস। সে যখন ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান প্রতারিত করে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৭৩)

ইমাম সুয়ুতি (রহ.) উল্লিখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘শয়তান তাকে মানুষের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করে যে তারা ফেতনায় পড়ে যায় এবং মানুষকে তার দিকে প্রলুব্ধ করে।’ (হাশিয়াতুস সিন্ধি : ২/১৭৯)

ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, (মাহরাম) পুরুষ যদি নারীর শিক্ষা দানে সক্ষম হয়, তবে নারীরা আলেমদের প্রশ্ন করতে বাইরে যাবে না। যদি পুরুষের জ্ঞান কম হয় কিন্তু সে নারীর পক্ষ থেকে আলেমদের প্রশ্ন করতে সক্ষম হয়, তবুও নারীরা ঘর থেকে বের হবে না। পুরুষই আলেমদের কাছ থেকে নারীর প্রশ্নের উত্তর জেনে আসবে। আর যদি পুরুষ প্রশ্নের উত্তর জেনে আসতেও সক্ষম না হয় তবে নারীর দায়িত্ব হলো নিজে প্রশ্ন করে তা জেনে নেওয়া। এ ক্ষেত্রে পুরুষ তাঁকে বাধা দিলে গুনাহগার হবে। (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন : ২/৪৮)

বিস্তারিত দেখুন : মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা কুয়েতিয়্যা : ৭/৭৬

আল্লাহই সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

প্রচলিত মহিলা মাদরাসায় পড়ার বিধান।

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বর্তমানে নারীদের দ্বিনি শিক্ষা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম কওমি ধারার মহিলা মাদরাসাগুলো। দেশের সাধারণ মুসলমানদের বড় একটি অংশই মেয়েদের দ্বিনি শিক্ষা অর্জনে এসব মাদরাসার ওপর নির্ভর করে থাকে।

তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা মহিলা মাদরাসাগুলোর সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, প্রশ্নবিদ্ধ করছে তার ব্যবস্থাপনা নিয়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছে, যে মহিলা মাদরাসায় নারীর ইজ্জত-আব্রু নিরাপদ নয়, সেখানে মেয়েদের পড়তে দেওয়ার শরয়ি বিধান কি?

যেকোনো পরিস্থিতিতে কি মেয়েদের মাদরাসায় পড়া অপরিহার্য? আজকের লেখায় সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।

ইসলাম নারীকে মান, সম্মান, ইজ্জত ও আব্রু রক্ষা করে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। সাধারণ অবস্থা ইসলাম নারীকে ঘরমুখী জীবন যাপনে উত্সাহিত করে। তবে এটা এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নয় যে, নারীরা কখনো কোনো অবস্থাতেই ঘর থেকে বের হতে পারবে না। শরিয়তের মূল উদ্দেশ্য হলো ফেতনা থেকে নিজে আত্মরক্ষা করা এবং সমাজকে রক্ষা করা।

ইসলাম নারীর ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে চায় না। ইসলামের দৃষ্টিতে পুরুষের জন্য যেমন ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরজ, তেমনি নারীর জন্যও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। তবে ঘরে যদি পরিবেশ এমন হয় যে, ঘরে বসেই নারী প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারবে তবে ঘরে বসেই সে নিজের পিতা, ভাই, স্বামী বা অন্য কোনো মাহরাম পুরুষের কাছ থেকে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করবে। কিন্তু যদি ঘরে থেকে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা না যায় এবং নানা ধরনের প্রতিবন্ধকার কারণে যদি তাদের দ্বিনি শিক্ষা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় তবে নিম্নোক্ত শর্তে মেয়েরা মহিলা মাদরাসায় পড়তে পারবে।

শর্তগুলো হচ্ছে—
১. পরিপূর্ণভাবে পর্দা পালন ও তার গুরুত্ব প্রদান।
২. গাইরে মাহরাম পুরুষের সঙ্গে মেশার ভয় না থাকা।
৩. নারী শিক্ষিকাদের মাধ্যমে পাঠ দান।
৪. পুরুষ শিক্ষকরা পাঠদানে বাধ্য হলে ছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে পর্দা থাকা এবং নির্জনে উভয়ের মেশার সুযোগ না থাকা।
৫. মাদরাসায় যাওয়া আসার রাস্তা নিরাপদ হওয়া এবং ফেতনার আশংকা না থাকা।
৬. কেবল প্রয়োজনীয় সময়টুকুই মাদরাসায় অবস্থা করা।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) নারীদের শিক্ষার জন্য একটি দিন নির্ধারণ করেছিলেন। সেদিন তিনি তাদেরকে উপদেশ দিতেন এবং আদেশ করতেন (শরিয়তের বিধান শেখাতেন)। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০১)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নারীরা গোপন জিনিস। সে যখন ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান প্রতারিত করে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৭৩)

ইমাম সুয়ুতি (রহ.) উল্লিখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘শয়তান তাকে মানুষের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করে যে তারা ফেতনায় পড়ে যায় এবং মানুষকে তার দিকে প্রলুব্ধ করে।’ (হাশিয়াতুস সিন্ধি : ২/১৭৯)

ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, (মাহরাম) পুরুষ যদি নারীর শিক্ষা দানে সক্ষম হয়, তবে নারীরা আলেমদের প্রশ্ন করতে বাইরে যাবে না। যদি পুরুষের জ্ঞান কম হয় কিন্তু সে নারীর পক্ষ থেকে আলেমদের প্রশ্ন করতে সক্ষম হয়, তবুও নারীরা ঘর থেকে বের হবে না। পুরুষই আলেমদের কাছ থেকে নারীর প্রশ্নের উত্তর জেনে আসবে। আর যদি পুরুষ প্রশ্নের উত্তর জেনে আসতেও সক্ষম না হয় তবে নারীর দায়িত্ব হলো নিজে প্রশ্ন করে তা জেনে নেওয়া। এ ক্ষেত্রে পুরুষ তাঁকে বাধা দিলে গুনাহগার হবে। (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন : ২/৪৮)

বিস্তারিত দেখুন : মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা কুয়েতিয়্যা : ৭/৭৬

আল্লাহই সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।