ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ ধরনের জমির খাজনা স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২২৩ বার পড়া হয়েছে

সরকার দেশের চার ধরনের জমির ওপর থেকে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের আর কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না, যা দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দেবে।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিম্নোক্ত চার শ্রেণির জমির মালিকদের খাজনা আর নেওয়া হবে না:

সরকারি বা জাতীয় খালাস জমি – এই খতিয়ানভুক্ত জমির খাজনা সম্পূর্ণরূপে বাতিল।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি – মসজিদ, মন্দির, মঠসহ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সম্পত্তি খাজনা থেকে মুক্ত থাকবে, তবে এসব জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

পুনর্বাসন বা আবাসন প্রকল্পের জমি – সরকার বাস্তবায়িত পুনর্বাসন ও আবাসন প্রকল্পের আওতায় পাওয়া জমির খাজনা স্থায়ীভাবে মওকুফ।

অধিগ্রহণকৃত জমি – সরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অসচ্ছল জমি মালিক ও প্রান্তিক কৃষকরা চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাজনা মওকুফের আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে করতে পারবেন। যাচাই-বাছাই শেষে উপযুক্তদের আবেদন অনুমোদন করা হবে। সাধারণ জমির মালিক যদি তিন বছর ধারাবাহিকভাবে খাজনা না দেন, তবে আইন অনুযায়ী সেই জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু নতুন বিধান অনুযায়ী অব্যাহতিপ্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি আর নেই।

প্রক্রিয়াতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে খাজনা প্রদানের পুরো ব্যবস্থা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন করা যাবে। নাগরিকদের আর জমি অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ভূমি সেবার ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহজেই অনলাইনে খাজনা পরিশোধ সম্ভব।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশাবাদী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা ও কর বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে ভূমি অফিসে ঘুষ, হয়রানি ও অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে সাধারণ নাগরিকের জন্য স্বচ্ছতা এবং সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

৪ ধরনের জমির খাজনা স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০১:৩০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

সরকার দেশের চার ধরনের জমির ওপর থেকে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের আর কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না, যা দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দেবে।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিম্নোক্ত চার শ্রেণির জমির মালিকদের খাজনা আর নেওয়া হবে না:

সরকারি বা জাতীয় খালাস জমি – এই খতিয়ানভুক্ত জমির খাজনা সম্পূর্ণরূপে বাতিল।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি – মসজিদ, মন্দির, মঠসহ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সম্পত্তি খাজনা থেকে মুক্ত থাকবে, তবে এসব জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

পুনর্বাসন বা আবাসন প্রকল্পের জমি – সরকার বাস্তবায়িত পুনর্বাসন ও আবাসন প্রকল্পের আওতায় পাওয়া জমির খাজনা স্থায়ীভাবে মওকুফ।

অধিগ্রহণকৃত জমি – সরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অসচ্ছল জমি মালিক ও প্রান্তিক কৃষকরা চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাজনা মওকুফের আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে করতে পারবেন। যাচাই-বাছাই শেষে উপযুক্তদের আবেদন অনুমোদন করা হবে। সাধারণ জমির মালিক যদি তিন বছর ধারাবাহিকভাবে খাজনা না দেন, তবে আইন অনুযায়ী সেই জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু নতুন বিধান অনুযায়ী অব্যাহতিপ্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি আর নেই।

প্রক্রিয়াতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে খাজনা প্রদানের পুরো ব্যবস্থা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন করা যাবে। নাগরিকদের আর জমি অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ভূমি সেবার ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহজেই অনলাইনে খাজনা পরিশোধ সম্ভব।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশাবাদী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা ও কর বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে ভূমি অফিসে ঘুষ, হয়রানি ও অনিয়ম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে সাধারণ নাগরিকের জন্য স্বচ্ছতা এবং সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।