ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘন কুয়াশায় ট্রেন চলাচলে ১৪ নির্দেশনা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

চলতি শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঘন কুয়াশার কারণে ট্রেন পরিচালনায় সিগন্যাল, লেভেল ক্রসিং গেইট অথবা রেললাইনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সময়মতো দৃশ্যমান না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রেন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য মোট ১৪টি বিশেষ সতর্কতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি রেলওয়ের ডেপুটি চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম), মোসা. আরফিন নাহার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই নির্দেশনাগুলো জারি করা হয়। চিঠিটি বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) পাকশী ও লালমনিরহাটকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা না হলে জানমাল ও রেলওয়ের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষ করে শীতকালে রাত্রিকালীন সময়ে স্টেশনগুলোতে কর্মরত স্টেশন মাস্টারসহ ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সর্বদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঘন কুয়াশার সময় জিআর–৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ এবং এসআর–২৯, ৩১, ৩২, ৩ সহ সংশ্লিষ্ট উপবিধিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেকশনাল টিআই/জেটিআই, এসএসএই/(এলআই/সিগ) এবং কন্ট্রোল অফিসে কর্মরত সিটিএনএল, ডিটিএনএল ও টিএনএলদেরও এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথা বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো, কুয়াশার কারণে সৃষ্ট দৃষ্টির স্বল্পতা যেন ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস না ঘটায় এবং একটি নিরাপদ রেল পরিষেবা নিশ্চিত করা যায়।

নিরাপদ ট্রেন চলাচলের স্বার্থে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে যে ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—

১. কন্ট্রোল অফিসে কর্মরত টিএনএলরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিটি সেকশনের কুয়াশা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেবেন। কোনো সেকশনে কুয়াশা থাকলে স্টেশন মাস্টারের মাধ্যমে লোকোমাস্টারকে সতর্কতাসহ কশন অর্ডার (ওপিটি-৮০) প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. স্টেশন মাস্টাররা কুয়াশাচ্ছন্ন সেকশনে লেভেল ক্রসিং গেট থাকলে তা উল্লেখ করে কশন অর্ডার ইস্যু করবেন।

৩. কোনো স্টেশন কুয়াশাচ্ছন্ন হলে স্টেশন মাস্টার পাশের দুটি স্টেশনের মাস্টারকে কশন অর্ডার ইস্যুর জন্য জানাবেন এবং কন্ট্রোল অফিসকে অবহিত করবেন।

৪. ঘন কুয়াশায় স্টেশন মাস্টারদের বিধি অনুযায়ী ফগ সিগন্যাল ব্যবহার করতে হবে। স্টেশন লিমিটের মধ্যে লেভেল ক্রসিং গেইট থাকলে গেইটকিপারকে সতর্ক করে রোড ট্রাফিক সম্পূর্ণ বন্ধ আছে নিশ্চিত করতে হবে।

৫. লোকোমাস্টার ও গার্ড যাতে অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়ে ট্রেন পরিচালনা করেন, বিশেষ করে লেভেল ক্রসিং অতিক্রমের সময়— এ বিষয়ে অরিজিনেটিং স্টেশন ও লোকোসেড থেকে বুক অর্ডারের মাধ্যমে নির্দেশনা দিতে হবে।

৬. রাত্রিকালীন ট্রেনের ক্ষেত্রে ট্রেন ছাড়ার আগে এলএম ও গার্ডের মোবাইল নম্বর কন্ট্রোল চার্টে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং ক্রসিং স্টেশনগুলোর পূর্বেই টিএনএল ও ডিটিএনএল তাদের অবহিত করবেন। পিএনএলরা এলএমদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

৭. টিএনএলরা নিশ্চিত করবেন যে, লাইন ক্লিয়ার দেওয়ার কাজ স্টেশন মাস্টার ছাড়া অন্য কেউ করছেন না।

৮. স্টেশন মাস্টার কোনো অবস্থাতেই পার্শ্ববর্তী স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে লাইন ক্লিয়ার আদান–প্রদান করবেন না।

৯. টেইল বোর্ড বা টেইল ল্যাম্পসহ ট্রেন যথাস্থানে প্রবেশ না করলে এবং গার্ড তা প্রত্যয়ন না দিলে ইনরিপোর্ট দেওয়া যাবে না।

১০. নন-ইন্টারলকড স্টেশনে দুটি ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় এসআর ৩১ ই (২) মোতাবেক প্রথম ট্রেন গ্রহণের লাইনের ফেসিং পয়েন্ট ট্রেনের পক্ষে সেটিং করতে হবে এবং বিপরীত প্রান্তের ট্রেইলিং পয়েন্ট রিভার্স অবস্থায় রাখতে হবে, যাতে দুই দিক থেকে দুটি ট্রেন একই লাইনে প্রবেশ না করে।

১১. বিরতিহীন স্টেশনে ক্রসিংয়ের ক্ষেত্রে উভয় ট্রেনকে আউটার সিগন্যালে ডেড স্টপ করিয়ে ট্রেনের গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে বোর্ড কন্ট্রোলারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

১২. শীত মৌসুমে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের ঘন ঘন নৈশ সংকেত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১৩. দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকলে মহাপরিচালকের বার্তা অনুযায়ী বিভাগীয় কন্ট্রোল অফিসে জরুরি সেল খোলার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিরাপদ ট্রেন পরিচালনায় সবাইকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

১৪. স্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফগ সিগন্যাল মজুত রাখতে হবে এবং এর ব্যবহারবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরাপদ ট্রেন চলাচল বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিরাপত্তা বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান অত্যন্ত জরুরি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

ঘন কুয়াশায় ট্রেন চলাচলে ১৪ নির্দেশনা

আপডেট সময় : ০৪:০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

চলতি শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঘন কুয়াশার কারণে ট্রেন পরিচালনায় সিগন্যাল, লেভেল ক্রসিং গেইট অথবা রেললাইনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সময়মতো দৃশ্যমান না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রেন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য মোট ১৪টি বিশেষ সতর্কতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি রেলওয়ের ডেপুটি চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম), মোসা. আরফিন নাহার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই নির্দেশনাগুলো জারি করা হয়। চিঠিটি বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) পাকশী ও লালমনিরহাটকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা না হলে জানমাল ও রেলওয়ের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষ করে শীতকালে রাত্রিকালীন সময়ে স্টেশনগুলোতে কর্মরত স্টেশন মাস্টারসহ ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সর্বদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঘন কুয়াশার সময় জিআর–৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ এবং এসআর–২৯, ৩১, ৩২, ৩ সহ সংশ্লিষ্ট উপবিধিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেকশনাল টিআই/জেটিআই, এসএসএই/(এলআই/সিগ) এবং কন্ট্রোল অফিসে কর্মরত সিটিএনএল, ডিটিএনএল ও টিএনএলদেরও এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথা বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো, কুয়াশার কারণে সৃষ্ট দৃষ্টির স্বল্পতা যেন ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস না ঘটায় এবং একটি নিরাপদ রেল পরিষেবা নিশ্চিত করা যায়।

নিরাপদ ট্রেন চলাচলের স্বার্থে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে যে ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—

১. কন্ট্রোল অফিসে কর্মরত টিএনএলরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিটি সেকশনের কুয়াশা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেবেন। কোনো সেকশনে কুয়াশা থাকলে স্টেশন মাস্টারের মাধ্যমে লোকোমাস্টারকে সতর্কতাসহ কশন অর্ডার (ওপিটি-৮০) প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. স্টেশন মাস্টাররা কুয়াশাচ্ছন্ন সেকশনে লেভেল ক্রসিং গেট থাকলে তা উল্লেখ করে কশন অর্ডার ইস্যু করবেন।

৩. কোনো স্টেশন কুয়াশাচ্ছন্ন হলে স্টেশন মাস্টার পাশের দুটি স্টেশনের মাস্টারকে কশন অর্ডার ইস্যুর জন্য জানাবেন এবং কন্ট্রোল অফিসকে অবহিত করবেন।

৪. ঘন কুয়াশায় স্টেশন মাস্টারদের বিধি অনুযায়ী ফগ সিগন্যাল ব্যবহার করতে হবে। স্টেশন লিমিটের মধ্যে লেভেল ক্রসিং গেইট থাকলে গেইটকিপারকে সতর্ক করে রোড ট্রাফিক সম্পূর্ণ বন্ধ আছে নিশ্চিত করতে হবে।

৫. লোকোমাস্টার ও গার্ড যাতে অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়ে ট্রেন পরিচালনা করেন, বিশেষ করে লেভেল ক্রসিং অতিক্রমের সময়— এ বিষয়ে অরিজিনেটিং স্টেশন ও লোকোসেড থেকে বুক অর্ডারের মাধ্যমে নির্দেশনা দিতে হবে।

৬. রাত্রিকালীন ট্রেনের ক্ষেত্রে ট্রেন ছাড়ার আগে এলএম ও গার্ডের মোবাইল নম্বর কন্ট্রোল চার্টে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং ক্রসিং স্টেশনগুলোর পূর্বেই টিএনএল ও ডিটিএনএল তাদের অবহিত করবেন। পিএনএলরা এলএমদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

৭. টিএনএলরা নিশ্চিত করবেন যে, লাইন ক্লিয়ার দেওয়ার কাজ স্টেশন মাস্টার ছাড়া অন্য কেউ করছেন না।

৮. স্টেশন মাস্টার কোনো অবস্থাতেই পার্শ্ববর্তী স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে লাইন ক্লিয়ার আদান–প্রদান করবেন না।

৯. টেইল বোর্ড বা টেইল ল্যাম্পসহ ট্রেন যথাস্থানে প্রবেশ না করলে এবং গার্ড তা প্রত্যয়ন না দিলে ইনরিপোর্ট দেওয়া যাবে না।

১০. নন-ইন্টারলকড স্টেশনে দুটি ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় এসআর ৩১ ই (২) মোতাবেক প্রথম ট্রেন গ্রহণের লাইনের ফেসিং পয়েন্ট ট্রেনের পক্ষে সেটিং করতে হবে এবং বিপরীত প্রান্তের ট্রেইলিং পয়েন্ট রিভার্স অবস্থায় রাখতে হবে, যাতে দুই দিক থেকে দুটি ট্রেন একই লাইনে প্রবেশ না করে।

১১. বিরতিহীন স্টেশনে ক্রসিংয়ের ক্ষেত্রে উভয় ট্রেনকে আউটার সিগন্যালে ডেড স্টপ করিয়ে ট্রেনের গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে বোর্ড কন্ট্রোলারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

১২. শীত মৌসুমে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের ঘন ঘন নৈশ সংকেত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১৩. দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকলে মহাপরিচালকের বার্তা অনুযায়ী বিভাগীয় কন্ট্রোল অফিসে জরুরি সেল খোলার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিরাপদ ট্রেন পরিচালনায় সবাইকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

১৪. স্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফগ সিগন্যাল মজুত রাখতে হবে এবং এর ব্যবহারবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরাপদ ট্রেন চলাচল বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিরাপত্তা বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান অত্যন্ত জরুরি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।