ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকারী ইসরায়েলিদের বিচারের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানো ইসরায়েলিদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকবেন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, সোমবার বেথলেহেমের কাছে জাবা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরায়েলিরা। এর আগে পাশ্ববর্তী সাই’র গ্রামেও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গত সোমবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘পশ্চিম তীরে (ইসরায়েলিদের) একটি ছোটো, চরমপন্থি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ছড়ানো এবং আইন নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রচেষ্টা আমি গভীরভাবে লক্ষ্য করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিম তীরের দাঙ্গাকারীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিপূর্ণভাবে আইনের প্রয়োগ করতে আমি ইতোমধ্যে সেখানাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখব এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা এক্ষেত্রে আমাকে সহযোগিতা করবেন। শিগগিরই এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকা হবে।’

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাবাতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারে তল্লাশি অভিযান চলছে।

পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধে আলাদাভাবে রসদ বরাদ্দ এবং অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইসরায়েরের সরকার। এটি সহিংসতা মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করেন তিনি।

এদিকে সোমবার জাবায় দাঙ্গার পর জরুরি বৈঠকে ফিলিস্তিনের মন্ত্রিসভা ইসরায়েলি সরকারের সুরক্ষা ও সমর্থনে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এসব হামলা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দফতরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর রেকর্ড ২৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা, যা ২০০৬ সালের পর এক মাসে সর্বোচ্চ।

উল্লেখ্য, প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনির আবাসস্থল পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের পাশে ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই ভূমির সঙ্গে বাইবেলের সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে ব্যাপকভাবে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় পাঁচ লক্ষ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করে এবং প্রায় সেখানকার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় ও তাদের সম্পদ নষ্ট করে।

জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনি সরকার এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এসব বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের ২৫ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা বায়রার একাংশের

ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকারী ইসরায়েলিদের বিচারের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানো ইসরায়েলিদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকবেন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, সোমবার বেথলেহেমের কাছে জাবা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরায়েলিরা। এর আগে পাশ্ববর্তী সাই’র গ্রামেও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গত সোমবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘পশ্চিম তীরে (ইসরায়েলিদের) একটি ছোটো, চরমপন্থি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ছড়ানো এবং আইন নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রচেষ্টা আমি গভীরভাবে লক্ষ্য করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিম তীরের দাঙ্গাকারীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিপূর্ণভাবে আইনের প্রয়োগ করতে আমি ইতোমধ্যে সেখানাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখব এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা এক্ষেত্রে আমাকে সহযোগিতা করবেন। শিগগিরই এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকা হবে।’

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাবাতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারে তল্লাশি অভিযান চলছে।

পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধে আলাদাভাবে রসদ বরাদ্দ এবং অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইসরায়েরের সরকার। এটি সহিংসতা মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করেন তিনি।

এদিকে সোমবার জাবায় দাঙ্গার পর জরুরি বৈঠকে ফিলিস্তিনের মন্ত্রিসভা ইসরায়েলি সরকারের সুরক্ষা ও সমর্থনে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এসব হামলা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দফতরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর রেকর্ড ২৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা, যা ২০০৬ সালের পর এক মাসে সর্বোচ্চ।

উল্লেখ্য, প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনির আবাসস্থল পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের পাশে ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই ভূমির সঙ্গে বাইবেলের সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে ব্যাপকভাবে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় পাঁচ লক্ষ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করে এবং প্রায় সেখানকার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় ও তাদের সম্পদ নষ্ট করে।

জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনি সরকার এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এসব বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স