তুরস্কে ফুটবল বাজি কেলেঙ্কারিতে শুরু হয়েছে বড়সড় তদন্ত। সোমবার একটি শীর্ষ ক্লাবের চেয়ারম্যানসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন শৃঙ্খলাভঙ্গ তদন্তের অংশ হিসেবে ১,০২৪ জন ফুটবলারের খেলার অনুমতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
চলতি মাসের শুরুতেই তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন ১৪৯ জন রেফারি ও সহকারী রেফারিকে বরখাস্ত করেছিল। তদন্তে জানা যায়, তুরস্কের পেশাদার লিগে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেরাই ফুটবল ম্যাচে বাজি ধরছিলেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, আদালতের আদেশে আইয়ুপস্পোর ক্লাব চেয়ারম্যান মুরাত ওজকায়া এবং আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইয়ুপস্পোর তুরস্কের শীর্ষ লিগ ‘সুপার লিগ’-এ খেলে, তবে ক্লাবটি এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সব লিগ মিলিয়ে ১,০২৪ জন খেলোয়াড়কে পেশাদার ফুটবল শৃঙ্খলা পরিষদে পাঠানো হয়েছে তদন্তের জন্য। এর মধ্যে সুপার লিগের ২৭ জন খেলোয়াড়ও রয়েছেন, যারা আপাতত নিষিদ্ধ। এই তালিকায় আছে চ্যাম্পিয়ন গালাতাসারাই ও প্রতিদ্বন্দ্বী বেসিকতাসের কয়েকজন খেলোয়াড়ও।
খেলোয়াড়দের এই বড়সড় স্থগিতাদেশে ক্লাবগুলো স্কোয়াড সংকটে পড়তে পারে। তাই তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, “১,০২৪ ফুটবলারকে শৃঙ্খলা পরিষদে পাঠানোর কারণে ক্লাবগুলোর দল গঠনে সমস্যা হতে পারে। এজন্য ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমের শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোর সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫ দিনের ট্রান্সফার ও নিবন্ধন সময় যোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
এই সময়টি শুধু জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর হবে, যাতে ক্লাবগুলো নিজেদের ঘাটতি পূরণ করতে পারে। দেশটির ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের সব ম্যাচ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত থাকবে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যে জানা যায়, তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এক জরুরি বৈঠকে বসবে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এখনো এই তদন্ত বা অতিরিক্ত ট্রান্সফার সময়ের অনুরোধ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, জানিয়েছে রয়টার্স।
ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায়, দেশের পেশাদার লিগে সক্রিয় ৫৭১ জন রেফারির মধ্যে ৩৭১ জনেরই বাজি ধরার অ্যাকাউন্ট ছিল, আর তাদের মধ্যে ১৫২ জন নিয়মিত জুয়ায় অংশ নিয়েছেন। একজন রেফারি একাই ১৮,২২৭ বার বাজি ধরেছেন, আর ৪২ জন রেফারি এক হাজারের বেশি ম্যাচে বাজি ধরেছেন। তবে কেউ কেউ মাত্র একবার করে বাজি ধরেছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 






































