ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারজিস ও বৈষম্যবিরোধী নেতার মুখোমুখি সংঘাত

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩১ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয় সভায় ছাত্রলীগ ও জামায়াতের লোক। এমন অভিযোগে জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ওমর ফারুক এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে চেয়ার থেকে উঠে সারজিস আলম তাকে শান্ত করেন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের সিটি ড্রিম কনভেনশন হলে এনসিপির সমন্বয় সভায় এই ঘটনা ঘটে।

সভা শেষে ওমর ফারুক জেলার এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, এরা দালাল, ছাত্রলীগ ও জামায়াতের সঙ্গে জড়িত। এই কথার পরে সভায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ সময় সারজিস আলম তাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রেস কনফারেন্স শেষে এ বিষয়ে কথা বলব।’ এই কথা শোনার পরও ওমর ফারুক আরও মন্তব্য করলে সারজিস আলম চেয়ার থেকে উঠে তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তাকে মঞ্চের পাশে নিয়ে বুঝিয়ে চেয়ারে বসিয়ে প্রেসব্রিফিং করেন।

প্রেসব্রিফিংএ এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, যারা আগামী বাংলাদেশে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি সংস্কারের বাস্তবায়নে কাজ করবেন। যারা শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবেন। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে যাদের আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থান এবং ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী মনোভাব থাকবে; তাদের সঙ্গে নির্বাচনে যেতে পারি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে শাপলা না পাওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি দেখাতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন যদি তাদের মনমতো স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে এনসিপিকে শাপলা না দেয়। আমরা মনে করি ওই স্বেচ্ছাচারী নির্বাচন কমিশন আগামী বাংলাদেশের সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন উপহার দিতে পারবে না। তার ওপরে এই বাংলাদেশের জনগণের আস্থা থাকবে না। এনসিপিরও বিন্দুমাত্র আস্থা থাকবে না। নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করেই নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।

সারজিস আলম বলেন, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। ফ্রেরুয়ারিতে নির্বাচন হলেও এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তার পূর্বে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো যেটুকু না করলেই নয় যেমন: জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি দেওয়া, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রদান করা, দৃশ্যমান বিচারিক প্রক্রিয়ার একটা বড় অংশের কার্যক্রম যেন  আমরা দেখতে পারি। এই বিষয়গুলো দেখানো এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সক্রিয়তা বজায় রেখে নিরপেক্ষ থাকবে। এটুকু যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন, দেখাতে পারেন তাহলে ফ্রেরুয়ারিতে নির্বাচন হলে এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এর কোনো কাজ না করে অন্তর্বর্তী সরকার শুধু নির্বাচন ভিত্তিক পরিকল্পনা করেন তাহলে বাংলাদেশের মানুষের তাদের ওপরে আস্থা রাখবে না।

জুলাই সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, যেদিন জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে; সেই সময় যেকোনো দিন আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে পারি।

সারজিস আলম শাপলা প্রতীক নিয়ে বলেন, শাপলা পেতে আইনগত কোনো বাধা নেই। আমরা অবশ্যই শাপলা পাব। তারা যদি আমাদের যৌক্তিক দাবি অন্তর্ভুক্ত করতে স্বেচ্ছাচারিতা করেন; তাহলে আমাদেরও রাজপথ বেছে নিতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

সারজিস ও বৈষম্যবিরোধী নেতার মুখোমুখি সংঘাত

আপডেট সময় : ১১:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

মানিকগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয় সভায় ছাত্রলীগ ও জামায়াতের লোক। এমন অভিযোগে জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ওমর ফারুক এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে চেয়ার থেকে উঠে সারজিস আলম তাকে শান্ত করেন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের সিটি ড্রিম কনভেনশন হলে এনসিপির সমন্বয় সভায় এই ঘটনা ঘটে।

সভা শেষে ওমর ফারুক জেলার এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, এরা দালাল, ছাত্রলীগ ও জামায়াতের সঙ্গে জড়িত। এই কথার পরে সভায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ সময় সারজিস আলম তাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রেস কনফারেন্স শেষে এ বিষয়ে কথা বলব।’ এই কথা শোনার পরও ওমর ফারুক আরও মন্তব্য করলে সারজিস আলম চেয়ার থেকে উঠে তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তাকে মঞ্চের পাশে নিয়ে বুঝিয়ে চেয়ারে বসিয়ে প্রেসব্রিফিং করেন।

প্রেসব্রিফিংএ এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, যারা আগামী বাংলাদেশে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি সংস্কারের বাস্তবায়নে কাজ করবেন। যারা শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবেন। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে যাদের আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থান এবং ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী মনোভাব থাকবে; তাদের সঙ্গে নির্বাচনে যেতে পারি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে শাপলা না পাওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি দেখাতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন যদি তাদের মনমতো স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে এনসিপিকে শাপলা না দেয়। আমরা মনে করি ওই স্বেচ্ছাচারী নির্বাচন কমিশন আগামী বাংলাদেশের সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন উপহার দিতে পারবে না। তার ওপরে এই বাংলাদেশের জনগণের আস্থা থাকবে না। এনসিপিরও বিন্দুমাত্র আস্থা থাকবে না। নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করেই নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।

সারজিস আলম বলেন, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। ফ্রেরুয়ারিতে নির্বাচন হলেও এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তার পূর্বে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো যেটুকু না করলেই নয় যেমন: জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি দেওয়া, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রদান করা, দৃশ্যমান বিচারিক প্রক্রিয়ার একটা বড় অংশের কার্যক্রম যেন  আমরা দেখতে পারি। এই বিষয়গুলো দেখানো এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সক্রিয়তা বজায় রেখে নিরপেক্ষ থাকবে। এটুকু যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন, দেখাতে পারেন তাহলে ফ্রেরুয়ারিতে নির্বাচন হলে এনসিপির কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এর কোনো কাজ না করে অন্তর্বর্তী সরকার শুধু নির্বাচন ভিত্তিক পরিকল্পনা করেন তাহলে বাংলাদেশের মানুষের তাদের ওপরে আস্থা রাখবে না।

জুলাই সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, যেদিন জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে; সেই সময় যেকোনো দিন আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে পারি।

সারজিস আলম শাপলা প্রতীক নিয়ে বলেন, শাপলা পেতে আইনগত কোনো বাধা নেই। আমরা অবশ্যই শাপলা পাব। তারা যদি আমাদের যৌক্তিক দাবি অন্তর্ভুক্ত করতে স্বেচ্ছাচারিতা করেন; তাহলে আমাদেরও রাজপথ বেছে নিতে হবে।