ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বিচারে আটক বন্ধ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে

নির্বিচারে গ্রেফতার বন্ধ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তা বাহিনী সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি উন্মুক্ত চিঠি দিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। এই চিঠিতে মানবাধিকারের বিভিন্ন ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দ্রুত কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

চিঠিটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানবাধিকার রক্ষায় কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, চলমান সংকটগুলো এখনও গুরুতর। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে গ্রেফতার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দমন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন, এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণসহ নানা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠিটি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন আইনি সংস্কার শুরু করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে চিঠিতে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ থাকলেও, এখনও পর্যন্ত এই বাহিনীর কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। বরং এটি সংস্কারের অযোগ্য, তাই বিলুপ্ত করাই একমাত্র কার্যকর সমাধান।

চিঠিতে জাতিসংঘের রোহিঙ্গা বিষয়ক সাম্প্রতিক সম্মেলনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর মতো নিরাপদ পরিবেশ এখনো গড়ে ওঠেনি। ২০২৩ সালের শেষ থেকে প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, যাদের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত। তাই জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে, রোহিঙ্গাদের চলাফেরা, শিক্ষাগ্রহণ ও জীবিকার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া, চিঠিতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার দাবি জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, অভিযুক্তরা যে অবস্থানে থাকুক না কেন, তাদেরকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার করতে হবে। একইসঙ্গে, আইসিটির কাজকে বাধাহীন ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, আইনি কাঠামো ও সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আইনি কাঠামোতে এখনও অনেক আইন রয়েছে যেগুলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে, সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, দণ্ডবিধির মানহানির ধারা ও সরকারি গোপনীয়তা আইনগুলো বাতিল বা সংশোধন করার সুপারিশ করা হয়। বলা হয়, এসব আইন অস্পষ্ট ও অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানকারী, যা সরকারের সমালোচকদের দমন করতে ব্যবহৃত হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, অন্তর্বর্তী সরকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও গ্রেফতার বন্ধে উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মত বা সংশ্লিষ্টতা যাই হোক, তাদের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

চিঠিতে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে একটি স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়। একইসঙ্গে, রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের হয়রানি ও সহিংসতা থেকে রক্ষা এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

চিঠিতে ২০২৪ সালের আগস্টের আগে ও পরে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলো পুনঃপর্যালোচনার দাবি জানিয়ে বলা হয়, যেসব মামলায় বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ নেই, সেগুলো বাতিল করা উচিত। এতে আওয়ামী লীগ সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত, যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমানে আওয়ামী লীগের ওপর যেসব রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করা উচিত। কারণ, একটি দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দিলে বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিপুলসংখ্যক ভোটার কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও বিদেশি অনুদান আইন সংস্কার করে নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে এই ব্যুরো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এনজিওদের তহবিল আটকে দিয়ে হয়রানি করেছে। এখন তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

সবশেষে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সঙ্গে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার তাগিদ দেওয়া হয়। বলা হয়, আইসিসির তদন্ত চলাকালে আদালতের নির্দেশে যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন সহায়তা করে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

এই চিঠিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ছাড়াও অংশ নেয়—কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ), সিভিকাস, ফোরটিফাই রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান সময় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ, যেখানে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের গতি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

নির্বিচারে আটক বন্ধ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

নির্বিচারে গ্রেফতার বন্ধ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তা বাহিনী সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি উন্মুক্ত চিঠি দিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। এই চিঠিতে মানবাধিকারের বিভিন্ন ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দ্রুত কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

চিঠিটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানবাধিকার রক্ষায় কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, চলমান সংকটগুলো এখনও গুরুতর। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে গ্রেফতার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দমন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন, এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণসহ নানা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠিটি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন আইনি সংস্কার শুরু করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে চিঠিতে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ থাকলেও, এখনও পর্যন্ত এই বাহিনীর কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। বরং এটি সংস্কারের অযোগ্য, তাই বিলুপ্ত করাই একমাত্র কার্যকর সমাধান।

চিঠিতে জাতিসংঘের রোহিঙ্গা বিষয়ক সাম্প্রতিক সম্মেলনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর মতো নিরাপদ পরিবেশ এখনো গড়ে ওঠেনি। ২০২৩ সালের শেষ থেকে প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, যাদের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত। তাই জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে, রোহিঙ্গাদের চলাফেরা, শিক্ষাগ্রহণ ও জীবিকার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া, চিঠিতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার দাবি জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, অভিযুক্তরা যে অবস্থানে থাকুক না কেন, তাদেরকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার করতে হবে। একইসঙ্গে, আইসিটির কাজকে বাধাহীন ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, আইনি কাঠামো ও সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আইনি কাঠামোতে এখনও অনেক আইন রয়েছে যেগুলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে, সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, দণ্ডবিধির মানহানির ধারা ও সরকারি গোপনীয়তা আইনগুলো বাতিল বা সংশোধন করার সুপারিশ করা হয়। বলা হয়, এসব আইন অস্পষ্ট ও অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানকারী, যা সরকারের সমালোচকদের দমন করতে ব্যবহৃত হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, অন্তর্বর্তী সরকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও গ্রেফতার বন্ধে উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মত বা সংশ্লিষ্টতা যাই হোক, তাদের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

চিঠিতে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে একটি স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়। একইসঙ্গে, রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের হয়রানি ও সহিংসতা থেকে রক্ষা এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

চিঠিতে ২০২৪ সালের আগস্টের আগে ও পরে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলো পুনঃপর্যালোচনার দাবি জানিয়ে বলা হয়, যেসব মামলায় বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ নেই, সেগুলো বাতিল করা উচিত। এতে আওয়ামী লীগ সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত, যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমানে আওয়ামী লীগের ওপর যেসব রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করা উচিত। কারণ, একটি দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দিলে বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিপুলসংখ্যক ভোটার কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও বিদেশি অনুদান আইন সংস্কার করে নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে এই ব্যুরো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এনজিওদের তহবিল আটকে দিয়ে হয়রানি করেছে। এখন তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

সবশেষে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সঙ্গে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার তাগিদ দেওয়া হয়। বলা হয়, আইসিসির তদন্ত চলাকালে আদালতের নির্দেশে যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন সহায়তা করে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

এই চিঠিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ছাড়াও অংশ নেয়—কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ), সিভিকাস, ফোরটিফাই রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান সময় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ, যেখানে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের গতি।