ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব মান দিবসে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান পণ্য ক্রয়ের আগে দেখে নেন বিএসটিআই

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে
দেশের একমাত্র মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। তবে পণ্য কেনার সময় কতজন ভোক্তা বিএসটিআইয়ের সনদ বা লোগো দেখে পণ্য কিনছেন, সেটিই এখন প্রশ্ন। কেউ দেখে, কেউ একেবারেই দেখে না। 

কেউ আবার শুধু কোম্পানির নামের ওপর ভরসা করেন। এমনকি অনেক ভোক্তাই জানেন না বিএসটিআই কী বা এর কাজ কী।

বিএসটিআইয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ জুন পর্যন্ত ৩১৫টি পণ্য বাধ্যতামূলক মান নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। অথচ দেশে বাজারজাত হওয়া পণ্যের সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। অর্থাৎ এখনো বিপুল সংখ্যক পণ্য বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অধিকাংশ ক্রেতা এখনো মানের বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতন নয়। উন্নত অনেক দেশে পণ্য কেনার সময় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার সনদ দেখে নেওয়ার বিষয়টি ভোক্তাদের মধ্যে অভ্যাসে পরিণত হলেও বাংলাদেশে সেই অভ্যাস এখনো গড়ে ওঠেনি।

রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শামসউদ্দিন ইলিয়াস বলেন, আমি সব সময় বিএসটিআই সনদ দেখেই পণ্য কিনি, আমার পরিবারের সদস্যরাও তাই করে। তবে অনেক সময় দেখা যায়, বিএসটিআই সনদ থাকলেও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

অন্য দিকে, মানিকগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু বলেন, আমি সাধারণত কোম্পানি দেখে পণ্য কিনি। বিএসটিআই সনদের ওপর আমার খুব একটা আস্থা নেই।

তিনি বলেন, নকল পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগো প্রিন্ট করে বসিয়ে দেওয়া যায়। আর বিএসটিআই যেসব নমুনা দেখে সনদ দেয়, সেগুলোর মান উৎপাদকেরা পরে বজায় রাখছে কি না, সেটার পর্যবেক্ষণ নিয়মিত হয় বলে আমার মনে হয় না।

ঢাকার একটি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বড় কোম্পানির পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সাধারণত বিএসটিআইয়ের সনদ দেখি না। তবে অপরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য হলে অবশ্যই দেখি।

পশ্চিম মাটিকাটার গৃহিণী লাভলী আক্তার বলেন, দোকানে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিই, বিএসটিআই দেখা হয় না।

তবে ব্যতিক্রমও রয়েছেন। এক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, যত সময়ই লাগুক, আমি আগে সিলটা দেখি। না থাকলে সেই পণ্য নিই না।

এ দিকে সাভারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাইফুল ইসলাম বলেছেন, আমি সব সময় পণ্যের গায়ে বিএসটিআইয়ের লোগো আছে কি না দেখে নিই। তবে অনেক সময় লোগোটি এত ছোট বা অস্পষ্ট থাকে যে বোঝা যায় না। এটা সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

যদিও অনেকে আছেন, যারা এখনো জানেন না বিএসটিআই কী। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকার নাসিমা আক্তার বলেন, বিএসটিআই কী, সেটা জানি না। দোকানে গিয়ে জিনিস চাই, দোকানদার যা দেয় সেটাই নিই।

একই কথা জানান মানিকগঞ্জের উথলী ইউনিয়নের গৃহিণী রেহেনা আক্তার। তিনি বলেন, বিএসটিআই দেখে কিছু কিনতে হয়, এটা আমার জানা নেই।

এমন বাস্তবতায় আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ‘বিশ্ব মান দিবস’ পালন করছে বিএসটিআই। পণ্য ও সেবার মানের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।

এবারের প্রতিপাদ্য—‘সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নত বিশ্ব বিনির্মাণে—মান’ আগের বছরের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিএসটিআই রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলোতে আলোচনা সভা ও প্রচারমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করেছে। একইসঙ্গে বিটিআরসির সহায়তায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কাছে সচেতনতামূলক এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড টাঙানো হয়েছে।

বাজারে পণ্যের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, মোড়কীকরণ ও বিক্রয় কার্যক্রমে নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসটিআই। বেড়েছে ভেজালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও। রাজধানীসহ সারাদেশে নিয়মিত এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানায় সংস্থাটি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

বিশ্ব মান দিবসে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান পণ্য ক্রয়ের আগে দেখে নেন বিএসটিআই

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
দেশের একমাত্র মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। তবে পণ্য কেনার সময় কতজন ভোক্তা বিএসটিআইয়ের সনদ বা লোগো দেখে পণ্য কিনছেন, সেটিই এখন প্রশ্ন। কেউ দেখে, কেউ একেবারেই দেখে না। 

কেউ আবার শুধু কোম্পানির নামের ওপর ভরসা করেন। এমনকি অনেক ভোক্তাই জানেন না বিএসটিআই কী বা এর কাজ কী।

বিএসটিআইয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ জুন পর্যন্ত ৩১৫টি পণ্য বাধ্যতামূলক মান নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। অথচ দেশে বাজারজাত হওয়া পণ্যের সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। অর্থাৎ এখনো বিপুল সংখ্যক পণ্য বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অধিকাংশ ক্রেতা এখনো মানের বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতন নয়। উন্নত অনেক দেশে পণ্য কেনার সময় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার সনদ দেখে নেওয়ার বিষয়টি ভোক্তাদের মধ্যে অভ্যাসে পরিণত হলেও বাংলাদেশে সেই অভ্যাস এখনো গড়ে ওঠেনি।

রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শামসউদ্দিন ইলিয়াস বলেন, আমি সব সময় বিএসটিআই সনদ দেখেই পণ্য কিনি, আমার পরিবারের সদস্যরাও তাই করে। তবে অনেক সময় দেখা যায়, বিএসটিআই সনদ থাকলেও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

অন্য দিকে, মানিকগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু বলেন, আমি সাধারণত কোম্পানি দেখে পণ্য কিনি। বিএসটিআই সনদের ওপর আমার খুব একটা আস্থা নেই।

তিনি বলেন, নকল পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগো প্রিন্ট করে বসিয়ে দেওয়া যায়। আর বিএসটিআই যেসব নমুনা দেখে সনদ দেয়, সেগুলোর মান উৎপাদকেরা পরে বজায় রাখছে কি না, সেটার পর্যবেক্ষণ নিয়মিত হয় বলে আমার মনে হয় না।

ঢাকার একটি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বড় কোম্পানির পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সাধারণত বিএসটিআইয়ের সনদ দেখি না। তবে অপরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য হলে অবশ্যই দেখি।

পশ্চিম মাটিকাটার গৃহিণী লাভলী আক্তার বলেন, দোকানে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিই, বিএসটিআই দেখা হয় না।

তবে ব্যতিক্রমও রয়েছেন। এক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, যত সময়ই লাগুক, আমি আগে সিলটা দেখি। না থাকলে সেই পণ্য নিই না।

এ দিকে সাভারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাইফুল ইসলাম বলেছেন, আমি সব সময় পণ্যের গায়ে বিএসটিআইয়ের লোগো আছে কি না দেখে নিই। তবে অনেক সময় লোগোটি এত ছোট বা অস্পষ্ট থাকে যে বোঝা যায় না। এটা সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

যদিও অনেকে আছেন, যারা এখনো জানেন না বিএসটিআই কী। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকার নাসিমা আক্তার বলেন, বিএসটিআই কী, সেটা জানি না। দোকানে গিয়ে জিনিস চাই, দোকানদার যা দেয় সেটাই নিই।

একই কথা জানান মানিকগঞ্জের উথলী ইউনিয়নের গৃহিণী রেহেনা আক্তার। তিনি বলেন, বিএসটিআই দেখে কিছু কিনতে হয়, এটা আমার জানা নেই।

এমন বাস্তবতায় আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ‘বিশ্ব মান দিবস’ পালন করছে বিএসটিআই। পণ্য ও সেবার মানের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।

এবারের প্রতিপাদ্য—‘সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নত বিশ্ব বিনির্মাণে—মান’ আগের বছরের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিএসটিআই রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলোতে আলোচনা সভা ও প্রচারমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করেছে। একইসঙ্গে বিটিআরসির সহায়তায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কাছে সচেতনতামূলক এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড টাঙানো হয়েছে।

বাজারে পণ্যের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, মোড়কীকরণ ও বিক্রয় কার্যক্রমে নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসটিআই। বেড়েছে ভেজালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও। রাজধানীসহ সারাদেশে নিয়মিত এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানায় সংস্থাটি।