ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া মাচাদোকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছর শান্তিকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকামী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ১৯ বছর আগে একই পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেছেন, আমি মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অভিনন্দন জানাই, যিনি তার প্রিয় ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র রক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছেন। নির্যাতন ও প্রতিবন্ধকতার মুখে তিনি কখনো থেমে যাননি। তার দেশ ও জনগণের জন্য একটি স্বাধীন ও ন্যায়পরায়ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অটল প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।

নোবেল কমিটির উদ্ধৃতি তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র নির্ভর করে তাদের ওপর, যারা নীরব থাকতে অস্বীকার করেন, যারা ঝুঁকি নিয়ে সামনে আসেন এবং যারা আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতা স্বাভাবিকভাবে আসে না, সেটিকে সর্বদা রক্ষা করতে হয়— কথায়, সাহসে ও দৃঢ়তায়।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, মিসেস মাচাদো এক উত্তম বিশ্বের কল্পনা করেছেন এবং তা বাস্তবে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বার্তার শেষে ড. ইউনূস পুনরায় উল্লেখ করেন, অভিনন্দন মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

এর আগে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়) নরওয়ের রাজধানী অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউট থেকে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নাম ঘোষণা করা হয়।

ভেনিজুয়েলার সাধারণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্র থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার আন্দোলনের জন্য তাকে মনোনীত করা হয় বলে নোবেল কমিটি জানায়।

কমিটি আরও জানায়, গত এক বছর ধরে মারিয়া মাচাদোকে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। নিজের জীবনের গুরুতর হুমকি থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশেই থেকে গেছেন, এমন একটি সিদ্ধান্ত যা লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি তার দেশের বিরোধী দলকে একত্রিত করেছেন। ভেনেজুয়েলার সমাজের সামরিকীকরণ প্রতিরোধে কখনো দ্বিধা করেননি। গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ উত্তরণের জন্য তিনি অবিচল ছিলেন।

এদিকে মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘পুরস্কার জেতার কথা শুনে তিনি ‘হতবাক’ হয়েছেন।

এছাড়া নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সের এক পোস্টে মাচোদা লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের এ বিশাল স্বীকৃতি মুক্তি অর্জনে আমাদের কাজ সম্পন্ন করার প্রেরণা জোগাচ্ছে।

তিনি আরও লিখেছেন, আজকের এই দিনে আমরা মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমাদের প্রধান মিত্র হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, লাতিন আমেরিকার জনগণ এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর ওপর বেশি ভরসা করছি।

এর আগে ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের দরবারে অনেক উজ্জ্বল করে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া মাচাদোকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

চলতি বছর শান্তিকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকামী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ১৯ বছর আগে একই পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেছেন, আমি মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অভিনন্দন জানাই, যিনি তার প্রিয় ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র রক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছেন। নির্যাতন ও প্রতিবন্ধকতার মুখে তিনি কখনো থেমে যাননি। তার দেশ ও জনগণের জন্য একটি স্বাধীন ও ন্যায়পরায়ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অটল প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।

নোবেল কমিটির উদ্ধৃতি তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র নির্ভর করে তাদের ওপর, যারা নীরব থাকতে অস্বীকার করেন, যারা ঝুঁকি নিয়ে সামনে আসেন এবং যারা আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতা স্বাভাবিকভাবে আসে না, সেটিকে সর্বদা রক্ষা করতে হয়— কথায়, সাহসে ও দৃঢ়তায়।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, মিসেস মাচাদো এক উত্তম বিশ্বের কল্পনা করেছেন এবং তা বাস্তবে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বার্তার শেষে ড. ইউনূস পুনরায় উল্লেখ করেন, অভিনন্দন মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

এর আগে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়) নরওয়ের রাজধানী অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউট থেকে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নাম ঘোষণা করা হয়।

ভেনিজুয়েলার সাধারণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্র থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার আন্দোলনের জন্য তাকে মনোনীত করা হয় বলে নোবেল কমিটি জানায়।

কমিটি আরও জানায়, গত এক বছর ধরে মারিয়া মাচাদোকে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। নিজের জীবনের গুরুতর হুমকি থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশেই থেকে গেছেন, এমন একটি সিদ্ধান্ত যা লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি তার দেশের বিরোধী দলকে একত্রিত করেছেন। ভেনেজুয়েলার সমাজের সামরিকীকরণ প্রতিরোধে কখনো দ্বিধা করেননি। গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ উত্তরণের জন্য তিনি অবিচল ছিলেন।

এদিকে মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘পুরস্কার জেতার কথা শুনে তিনি ‘হতবাক’ হয়েছেন।

এছাড়া নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সের এক পোস্টে মাচোদা লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের এ বিশাল স্বীকৃতি মুক্তি অর্জনে আমাদের কাজ সম্পন্ন করার প্রেরণা জোগাচ্ছে।

তিনি আরও লিখেছেন, আজকের এই দিনে আমরা মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমাদের প্রধান মিত্র হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, লাতিন আমেরিকার জনগণ এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর ওপর বেশি ভরসা করছি।

এর আগে ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের দরবারে অনেক উজ্জ্বল করে।