ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে শিশুকে হত্যা!

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪
  • ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে  ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া  বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে শিশুকে হত্যা!

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

জিন পুষে ঝাড়ফুঁক বিষয়টি বিশ্বাস না করায় জিনের ভয় দেখাতে ও প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর বয়সি শিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হত্যার শিকার জাজু আতুকুড়া গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ১ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নে আতুকুড়া গ্রামে জিন পুষে  ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন শিউলী বেগম (২৫)। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জিন কবজায় রাখতে পারেন। শিউলী বেগমের এসব কাজে গ্রামের অনেকের বিশ্বাস ছিল না। সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় গ্রামের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছেন শিউলী। রাতের বেলায় মানুষের ঘরের দরজায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন ভয় দেখানোর জন্য। যাতে মানুষ ভয় পেয়ে তার কাছে আসে। শিশু জাজুর বাবাও শিউলীর এমন কাণ্ডে বিশ্বাসী ছিলেন না। শিশুটির বাবাকে ভয় দেখাতেই ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় মুখ চেপে শিশুটিকে হত্যা করে নিজের ঘরে রাখে লাশ। পরে রাত ৯টায় জাজুর লাশ বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দেয় শিউলী। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় জাজুকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শিউলী কয়েকজনকে বলে পাশের পানিতে খোঁজার জন্য। সেখানে পাওয়া যেতে পারে। জিন হয়তো সেখানে ফেলে যেতে পারে। এভাবে নিজের হত্যার দায় স্বীকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন শিউলী বেগম।

নিহতের ভাই আনু মিয়া  বলেন, আমার বোনকে শিউলী জিনের ভয় দেখাতে হত্যা করেছে। আমরা শিউলীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নাসিরনগর থানা ওসি আব্দুল কাদের জানায়, শিউলী জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের ব্যবসা করতেন। জাজুর বাবাসহ এলাকার অনেকে বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। এ কারণে জিনের ভয় দেখানোর জন্য শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি শিউলী স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।