বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি, অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা অভিযোগ করেছেন, প্রি-পেইড মিটার সংযোগের নামে গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এজন্য প্রি-পেইড মিটার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিদ্যুৎ গ্রাহক ও জাতীয় সেচ পাম্প মালিক সমিতি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল সালাম।
মতবিনিময় সভায় অভিযোগে বলা হয়, বর্তমানে ডিজিটাল মিটারের জন্য প্রতিটি গ্রাহক ১ কিলোওয়াট হিসেবে ডিমান্ড চার্জ দিয়ে থাকেন ৪২ টাকা। কিন্তু প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে দিতে হচ্ছে ১২৬ টাকা পর্যন্ত। এর সাথে যোগ হচ্ছে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিটি গ্রাহককে অতিরিক্ত ১৬৬ টাকা দিতে হচ্ছে। প্রায় ৪ কোটি ৮৭ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে এই অর্থ লুট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিল প্রদানে স্ল্যাব পদ্ধতিতে বৈষম্য করা হচ্ছে। তারা দাবি করছেন, ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত এক রেটে ফ্ল্যাট বিল গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে রেন্টাল-কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা বন্ধ করতে হবে।
গাইবান্ধার উদাহরণ টেনে গ্রাহকরা জানান, ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল করা হয়। এক তদন্তে শুধু ২০১৪-১৬ সালেই ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার অতিরিক্ত বিল ধরা পড়ে। কিন্তু আজও সেই বিল সমন্বয় হয়নি। বরং গ্রাহকদের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি চলছে।
গ্রাহকদের দাবিগুলো হলো, প্রিপেইড মিটার সংযোগ বন্ধ করতে হবে, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিল করতে হবে, ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত ফ্ল্যাট রেটে বিল গ্রহণ করতে হবে, রেন্টাল-কুইক রেন্টাল ও বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ করতে হবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে, গ্রাহক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধ করতে হবে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রাহকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দুর্নীতি-অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ না হলে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 


































