ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে, তারা বেহেশতের টিকিট বেচছে

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৭১ বার পড়া হয়েছে

ফ্যাসিবাদ বিদায় হলেও দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আপনারা যাদের মৌলবাদী বলেন, আমিও তাদের মৌলবাদী বলি। তারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে।’

তিনি বলেন, তাগো (মৌলবাদী) লগে থাকলে আপনি বেহেশতে যাবেন, আর তাগো লগে না থাকলে আপনি দোজখে যাইবেন। নিজেরা বেহেশতে যাইব কি না, সেই কথা তারা জানে না। সেজন্য আমি বলব, দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের থেকে মুক্তি পাইছি। কিন্তু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে দেশে এখন সাম্প্রদায়িক উগ্র উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে, যেটার মধ্য দিয়ে মব তৈরি হয়।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যান রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব ও আগামীর গণতন্ত্র ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, আমরা যদি গণতন্ত্রের পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে না রাখতে পারি, তাহলে সাম্প্রদায়িকতা হবে ফ্যাসিবাদের চেয়ে দ্বিগুণ কঠিন এবং এটি জনজীবন ধ্বংসের শেষ মাথায় নিয়ে যাবে। এই আধুনিক বিশ্বে মুক্ত চিন্তা, প্রতিভার বিকাশ এরা হতে দেবেন না, ওরা করতে দেবেন না।

বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ বিশ্বাস করে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, যে যেই ধর্ম বিশ্বাসই করুক না কেন, ধর্ম কিন্তু মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য একটা জীবন ব্যবস্থা। ধর্মে যেটা পাপ, আধুনিক রাষ্ট্র আইনে সেটা অন্যায়। সেই অন্যায়ের বিচারের ধারার মধ্যে লেখা থাকে কোন অন্যায়ের জন্য কতটুক শাস্তি। ঠিক আপনি পবিত্র কোরআন-গীতা পড়েন, কোন পাপের জন্য মৃত্যুর পরে কার কী শাস্তি হবে, সেটাও কিন্তু লেখা আছে।  সে কারণে ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নাই।

তিনি বলেন, আমরা ছোট ছোট দলে মিটিং করি কেন? কারণ আমরা গণতন্ত্র চাই নিরঙ্কুশভাবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রথমে বলেছেন, আপনার ভোট আপনিই দেবেন, আমাকে নাইবা দেন। আপনাদের ভোটের অধিকারের আন্দোলন করেছি, আমার পাশে থাকেন। কিন্তু আমরা যারা বিএনপি করি, সবাই কি তারেক রহমানের মতো বলি নাকি? আমরা তো সবাই এমপি হইতে চাই, তোরা যে যা বলিস ভাই।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা এলাকার মধ্যে নিজেরা নিজেরা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু করি আর সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ছাইড়া দেয় কে কারে কী কয়? দোষ তাদের না, তারা আইটেম পায় ছাইড়া দেয়, ভিউয়ার বেশি হলে উপার্জন হয়, আয় হয়। সুতরাং আমরা যদি সংযত না হই, আমরা যদি বলি যে জনগণের জন্য করি, এইটা আমি মনে করি আশীর্বাদ হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা পলিটিক্স করি নিজের জন্য, আমি মন্ত্রী হমু, আমি এমপি হমু, এমপি-মন্ত্রী হলে সালাম পামু, এমপি-মন্ত্রী হলে আমার বাড়ি হইব, গাড়ি হইব। আমি আত্মসমালোচনা করছি। আমি কোনো দল বলে কথা বলছি না। যদি আমার এটা চিন্তা থাকে যে, পলিটিক্স ইজ এ প্রফেশন অন দ্য বিসিস, প্রফেশনাল বি দ্য রিচ ম্যান- তাহলে জনগণ আমাদের দিকে তাকাইয়া কতক্ষণ থাকবে? কেন থাকবে? সুতরাং আমরা যদি সমস্বরে নামি যে আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা জনগণের অধিকার চাই আর কিছু চাই না, কারও শক্তি নাই আপনাকে সরাতে পারে।

গয়েশ্বর বলেন, হাসিনা সরকার ছিল ফ্যাসিবাদ। এই সরকারটা কী? সরকারের কোনো কাজকর্ম চোখে পড়ে? তিন-চারজন ছাড়া আর কেউ কোনো কথা বলে? মন্ত্রণালয় কেমনে চলে, কোন মন্ত্রণালযয়ে কী হচ্ছে, কোনো খবর রাখে। সরকারের সব চালাচ্ছে শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সেই প্রশাসন। এখন এত জামায়াত, এত বিএনপি যদি সচিবালয়ে থাকে, তাহলে হাসিনার সময়ে এরা থাকল কেমনে? হাসিনার তো প্রায়ই পোস্টমের্টেম করতো। পোস্টমর্টেম করে বের করে দিত, তাই না।

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার গান গাইতে গাইতে অনেক কিছু কুসংস্কারে পরিণত করে ফেলেছে দাবি করে তিনি বলেন, বদিউল আলম মজুমদার একটা বিরাট লেখা লেখছেন পিআরের বিরুদ্ধে। ভাই, আমি তো এত লেখাপড়া জানি না, আমি পিআর বুঝিও না। এই পিআরটা কোথা থেকে আসতেছে বুঝি না।  এখন বুঝতেছি-শুনতেছি যে নেপালে আছে। এজন্য সকাল বিকাল প্রধানমন্ত্রী পাল্টায়।

উদাহরণ দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, পাকিস্তানে সিএসপির (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) ভাইবা পরীক্ষায় একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিল, পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রীর নাম কী? পরীক্ষার্থী বললেন, সরি স্যার আমি তো সকালবেলা পত্রিকাটা পড়ি নাই। কালকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জানি অমুক। এর মধ্যে যদি পরিবর্তন না হয়ে থাকে।’

বিএনপি নেতা বলেন, এই পিআরের ব্যবস্থাটা এরকম যে, সকালে প্রধানমন্ত্রী একজন, দুপুরে আরেকজন, রাতের বেলা আরেকজন। এই পদ্ধতি দেশের জণগন মেনে নেবে না।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের ২৫ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা বায়রার একাংশের

দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে, তারা বেহেশতের টিকিট বেচছে

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফ্যাসিবাদ বিদায় হলেও দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আপনারা যাদের মৌলবাদী বলেন, আমিও তাদের মৌলবাদী বলি। তারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে।’

তিনি বলেন, তাগো (মৌলবাদী) লগে থাকলে আপনি বেহেশতে যাবেন, আর তাগো লগে না থাকলে আপনি দোজখে যাইবেন। নিজেরা বেহেশতে যাইব কি না, সেই কথা তারা জানে না। সেজন্য আমি বলব, দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের থেকে মুক্তি পাইছি। কিন্তু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে দেশে এখন সাম্প্রদায়িক উগ্র উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে, যেটার মধ্য দিয়ে মব তৈরি হয়।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যান রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব ও আগামীর গণতন্ত্র ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, আমরা যদি গণতন্ত্রের পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে না রাখতে পারি, তাহলে সাম্প্রদায়িকতা হবে ফ্যাসিবাদের চেয়ে দ্বিগুণ কঠিন এবং এটি জনজীবন ধ্বংসের শেষ মাথায় নিয়ে যাবে। এই আধুনিক বিশ্বে মুক্ত চিন্তা, প্রতিভার বিকাশ এরা হতে দেবেন না, ওরা করতে দেবেন না।

বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ বিশ্বাস করে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, যে যেই ধর্ম বিশ্বাসই করুক না কেন, ধর্ম কিন্তু মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য একটা জীবন ব্যবস্থা। ধর্মে যেটা পাপ, আধুনিক রাষ্ট্র আইনে সেটা অন্যায়। সেই অন্যায়ের বিচারের ধারার মধ্যে লেখা থাকে কোন অন্যায়ের জন্য কতটুক শাস্তি। ঠিক আপনি পবিত্র কোরআন-গীতা পড়েন, কোন পাপের জন্য মৃত্যুর পরে কার কী শাস্তি হবে, সেটাও কিন্তু লেখা আছে।  সে কারণে ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নাই।

তিনি বলেন, আমরা ছোট ছোট দলে মিটিং করি কেন? কারণ আমরা গণতন্ত্র চাই নিরঙ্কুশভাবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রথমে বলেছেন, আপনার ভোট আপনিই দেবেন, আমাকে নাইবা দেন। আপনাদের ভোটের অধিকারের আন্দোলন করেছি, আমার পাশে থাকেন। কিন্তু আমরা যারা বিএনপি করি, সবাই কি তারেক রহমানের মতো বলি নাকি? আমরা তো সবাই এমপি হইতে চাই, তোরা যে যা বলিস ভাই।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা এলাকার মধ্যে নিজেরা নিজেরা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু করি আর সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ছাইড়া দেয় কে কারে কী কয়? দোষ তাদের না, তারা আইটেম পায় ছাইড়া দেয়, ভিউয়ার বেশি হলে উপার্জন হয়, আয় হয়। সুতরাং আমরা যদি সংযত না হই, আমরা যদি বলি যে জনগণের জন্য করি, এইটা আমি মনে করি আশীর্বাদ হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা পলিটিক্স করি নিজের জন্য, আমি মন্ত্রী হমু, আমি এমপি হমু, এমপি-মন্ত্রী হলে সালাম পামু, এমপি-মন্ত্রী হলে আমার বাড়ি হইব, গাড়ি হইব। আমি আত্মসমালোচনা করছি। আমি কোনো দল বলে কথা বলছি না। যদি আমার এটা চিন্তা থাকে যে, পলিটিক্স ইজ এ প্রফেশন অন দ্য বিসিস, প্রফেশনাল বি দ্য রিচ ম্যান- তাহলে জনগণ আমাদের দিকে তাকাইয়া কতক্ষণ থাকবে? কেন থাকবে? সুতরাং আমরা যদি সমস্বরে নামি যে আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা জনগণের অধিকার চাই আর কিছু চাই না, কারও শক্তি নাই আপনাকে সরাতে পারে।

গয়েশ্বর বলেন, হাসিনা সরকার ছিল ফ্যাসিবাদ। এই সরকারটা কী? সরকারের কোনো কাজকর্ম চোখে পড়ে? তিন-চারজন ছাড়া আর কেউ কোনো কথা বলে? মন্ত্রণালয় কেমনে চলে, কোন মন্ত্রণালযয়ে কী হচ্ছে, কোনো খবর রাখে। সরকারের সব চালাচ্ছে শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সেই প্রশাসন। এখন এত জামায়াত, এত বিএনপি যদি সচিবালয়ে থাকে, তাহলে হাসিনার সময়ে এরা থাকল কেমনে? হাসিনার তো প্রায়ই পোস্টমের্টেম করতো। পোস্টমর্টেম করে বের করে দিত, তাই না।

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার গান গাইতে গাইতে অনেক কিছু কুসংস্কারে পরিণত করে ফেলেছে দাবি করে তিনি বলেন, বদিউল আলম মজুমদার একটা বিরাট লেখা লেখছেন পিআরের বিরুদ্ধে। ভাই, আমি তো এত লেখাপড়া জানি না, আমি পিআর বুঝিও না। এই পিআরটা কোথা থেকে আসতেছে বুঝি না।  এখন বুঝতেছি-শুনতেছি যে নেপালে আছে। এজন্য সকাল বিকাল প্রধানমন্ত্রী পাল্টায়।

উদাহরণ দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, পাকিস্তানে সিএসপির (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) ভাইবা পরীক্ষায় একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিল, পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রীর নাম কী? পরীক্ষার্থী বললেন, সরি স্যার আমি তো সকালবেলা পত্রিকাটা পড়ি নাই। কালকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জানি অমুক। এর মধ্যে যদি পরিবর্তন না হয়ে থাকে।’

বিএনপি নেতা বলেন, এই পিআরের ব্যবস্থাটা এরকম যে, সকালে প্রধানমন্ত্রী একজন, দুপুরে আরেকজন, রাতের বেলা আরেকজন। এই পদ্ধতি দেশের জণগন মেনে নেবে না।