ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওরিয়নের ওবায়দুল করিম বিদেশে পালালেন

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৫১ বার পড়া হয়েছে

বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো প্রবাদের মতোই মাথার উপর দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও আইনের ফাঁক গলে দুদকের হাত ফস্কে দেশে ছেড়ে পালিয়েছেন ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম। ডোমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত ৩১ জুলাই দেশ ছাড়েন তিনি। এর আগেও তিনি দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১ মাস ১৩ দিনের মাথায় ১৮ সেপ্টেম্বর আর্থিক খাতে অনিয়মের শিরোমণি এবং জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত ওরিয়ন গ্রুপের কর্ণধার ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

একই সঙ্গে তার স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জন ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত রাখতে বলা হয়।

এছাড়াও ঋণ জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনসহ নানা অপরাধের অভিযোগে এক ডজনেরও বেশি মামলা কাঁধে নিয়ে বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে আছেন ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম। এছাড়া অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার এবং অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের পৃথক তিন মামলায় ৪৮ বছরের কারাদণ্ড কাঁধে নিয়েও তিনি আছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এমতাবস্থায় দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকা মহানগরের বিশেষ জজ আদালত।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১০ মার্চ ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমের ৩১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও একটি ফ্ল্যাটসহ ৪৩ একর জমি জব্দের আদেশ দেন একই আদালত। জব্দ হওয়া ৩১টি ব্যাংক হিসাবে ২০ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা এবং ৬ হাজার ৫৭৫ মার্কিন ডলার রয়েছে। এছাড়া ২০টি দলিলমূলে ২ কোটি ৯০ লাখ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের ৪৩ একর ২৫.৪৫ শতাংশ জমি এবং ৯৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ফ্ল্যাট ক্রোক করা হয়।

এরপর দেশ থেকে পালাতে নানান কৌশলের আশ্রয় নেন ওবায়দুল করিম। চিকিৎসা ও ওমরা হজ্ব পালনের জন্য বিদেশ গমনে অনুমতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও তার মেয়ে জেরীন করিম। শুনানি শেষে গত ১৬ মার্চ ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রীর বিদেশ গমনে অনুমতির আদেশ দেন আদালত। মেয়ে জেরীন করিমের আবেদন না-মঞ্জুর করা হয়।

এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। ১৮ মার্চ শুনানি শেষে ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী আরজুদা করিমের বিদেশ গমনের অনুমতির আদেশ ২১ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালতের ১৬ মার্চের আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

হজ পালনের কৌশল ব্যর্থ হলে গত ২১ এপ্রিল সরকারি দায়িত্ব পালনে বিদেশ গমনে অনুমতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন মেয়ে জেরীন। ২২ এপ্রিল শুনানি শেষে তৎকালীন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

বিদেশ গমনে অনুমতি চেয়ে করা আবেদনে বলা হয়, জেরীন করিম ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্র ডমিনিকান রিপাবলিকে বাংলাদেশি কনস্যুলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে তিনি বিদেশ যেতে অনুমতি চান।

জেরীন ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্র ডমিনিকান রিপাবলিকে বাংলাদেশি কনস্যুলেটর হিসেবে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রোটোকল অফিসার নাঈম উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ওইদিনই ২২ এপ্রিল তিনি বিদেশ গমন করেন।

অপরদিকে, চিকিৎসা ও ওমরা পালনের জন্য বিদেশ গমনের অনুমতির আদেশ স্থগিতের মেয়াদ শেষ হলেও হাইকোর্টের জারি করা রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জুলাই মাসে বিদেশ যাওয়ার জন্য ফের বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম। শুনানি শেষে ৩০ জুলাই আবেদনটি মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালত।

আদালতের এ আদেশের পর দেশ ছাড়তে এবার দেরী করেননি ওবায়দুল করিম। বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার না করে ডোমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৩১ জুলাই কৌশলে দেশ ছাড়েন। পরে বিশেষ জজ আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফের আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে ১০ আগস্ট এক আদেশে ওবায়দুল করিমের বিদেশ গমনে বিশেষ জজ আদালতের ৩০ জুলাই দেওয়া অনুমতির আদেশটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের বেঞ্চ। একই সঙ্গে বিশেষ জজ আদালতের ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

কিন্তু হাইকোর্টের এই আদেশের ১০ দিন আগেই ৩১ জুলাই বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে ডোমিনিকান পাসপোর্টের ভিত্তিতে দেশ ছাড়েন ওবায়দুল করিম।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

ওরিয়নের ওবায়দুল করিম বিদেশে পালালেন

আপডেট সময় : ১১:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো প্রবাদের মতোই মাথার উপর দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও আইনের ফাঁক গলে দুদকের হাত ফস্কে দেশে ছেড়ে পালিয়েছেন ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম। ডোমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত ৩১ জুলাই দেশ ছাড়েন তিনি। এর আগেও তিনি দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১ মাস ১৩ দিনের মাথায় ১৮ সেপ্টেম্বর আর্থিক খাতে অনিয়মের শিরোমণি এবং জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত ওরিয়ন গ্রুপের কর্ণধার ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

একই সঙ্গে তার স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জন ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত রাখতে বলা হয়।

এছাড়াও ঋণ জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনসহ নানা অপরাধের অভিযোগে এক ডজনেরও বেশি মামলা কাঁধে নিয়ে বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে আছেন ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম। এছাড়া অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার এবং অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের পৃথক তিন মামলায় ৪৮ বছরের কারাদণ্ড কাঁধে নিয়েও তিনি আছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এমতাবস্থায় দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকা মহানগরের বিশেষ জজ আদালত।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১০ মার্চ ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমের ৩১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও একটি ফ্ল্যাটসহ ৪৩ একর জমি জব্দের আদেশ দেন একই আদালত। জব্দ হওয়া ৩১টি ব্যাংক হিসাবে ২০ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা এবং ৬ হাজার ৫৭৫ মার্কিন ডলার রয়েছে। এছাড়া ২০টি দলিলমূলে ২ কোটি ৯০ লাখ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের ৪৩ একর ২৫.৪৫ শতাংশ জমি এবং ৯৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ফ্ল্যাট ক্রোক করা হয়।

এরপর দেশ থেকে পালাতে নানান কৌশলের আশ্রয় নেন ওবায়দুল করিম। চিকিৎসা ও ওমরা হজ্ব পালনের জন্য বিদেশ গমনে অনুমতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও তার মেয়ে জেরীন করিম। শুনানি শেষে গত ১৬ মার্চ ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রীর বিদেশ গমনে অনুমতির আদেশ দেন আদালত। মেয়ে জেরীন করিমের আবেদন না-মঞ্জুর করা হয়।

এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। ১৮ মার্চ শুনানি শেষে ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী আরজুদা করিমের বিদেশ গমনের অনুমতির আদেশ ২১ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালতের ১৬ মার্চের আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

হজ পালনের কৌশল ব্যর্থ হলে গত ২১ এপ্রিল সরকারি দায়িত্ব পালনে বিদেশ গমনে অনুমতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন মেয়ে জেরীন। ২২ এপ্রিল শুনানি শেষে তৎকালীন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

বিদেশ গমনে অনুমতি চেয়ে করা আবেদনে বলা হয়, জেরীন করিম ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্র ডমিনিকান রিপাবলিকে বাংলাদেশি কনস্যুলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে তিনি বিদেশ যেতে অনুমতি চান।

জেরীন ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্র ডমিনিকান রিপাবলিকে বাংলাদেশি কনস্যুলেটর হিসেবে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রোটোকল অফিসার নাঈম উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ওইদিনই ২২ এপ্রিল তিনি বিদেশ গমন করেন।

অপরদিকে, চিকিৎসা ও ওমরা পালনের জন্য বিদেশ গমনের অনুমতির আদেশ স্থগিতের মেয়াদ শেষ হলেও হাইকোর্টের জারি করা রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জুলাই মাসে বিদেশ যাওয়ার জন্য ফের বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম। শুনানি শেষে ৩০ জুলাই আবেদনটি মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালত।

আদালতের এ আদেশের পর দেশ ছাড়তে এবার দেরী করেননি ওবায়দুল করিম। বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার না করে ডোমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৩১ জুলাই কৌশলে দেশ ছাড়েন। পরে বিশেষ জজ আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফের আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে ১০ আগস্ট এক আদেশে ওবায়দুল করিমের বিদেশ গমনে বিশেষ জজ আদালতের ৩০ জুলাই দেওয়া অনুমতির আদেশটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের বেঞ্চ। একই সঙ্গে বিশেষ জজ আদালতের ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

কিন্তু হাইকোর্টের এই আদেশের ১০ দিন আগেই ৩১ জুলাই বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে ডোমিনিকান পাসপোর্টের ভিত্তিতে দেশ ছাড়েন ওবায়দুল করিম।