ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮৬ দিন গুম ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

২০১৫ সালে উত্তরা থেকে তুলে নিয়ে টানা ১৮৬ দিন গোপনে আটক রাখা হয়েছিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানাকে। এই দীর্ঘ সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বিশেষ করে শেষ দুই মাস তাকে একটি অন্ধকার ও দুর্গন্ধময় শৌচাগারে বন্দি করে রাখা হয়।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সোহেল রানা।

তিনি বলেন, ‘সেখানে মানুষের ন্যূনতম মর্যাদা ও বেঁচে থাকার মৌলিক শর্তগুলো থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। দিন-রাত মশার কামড়, শারীরিক অত্যাচার, ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে তিনি প্রতিদিন টিকে ছিলেন। সেই ভয়াল অভিজ্ঞতা আজও আমাকে জীবনকে তাড়া করে বেড়ায়।’

গুম থেকে ফিরে সোহেল রানা এটিকে কেবল নিজের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখেননি, বরং পুরো জাতির জন্য এক গভীর সংকট হিসেবে দেখেছেন। তার উপলব্ধি ছিল—গুম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি জাতির মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে চূর্ণ করার একটি ভয়ঙ্কর সংস্কৃতি।
সেই উপলব্ধি থেকে তিনি গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেন। এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে গুমের উপর সর্বপ্রথম তিনি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি গুমকে সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইনে সংযুক্ত করার দাবিতে তিনি কাজ করে গেছেন।
আইনজীবী সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি জাতীয় আলোচনায় রূপ দেন।
একই সঙ্গে তিনি একটি স্বাধীন ও কার্যকর ‘গুম কমিশন’ গঠনের দাবিও তোলেন, যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য সত্য প্রকাশ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও—জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমে তিনি ধারাবাহিকভাবে গুম ইস্যুটি তুলে ধরেছেন।

আইনজীবী সোহেল রানা মনে করেন, এই সংগ্রাম তার ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা বেদনার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য একটি দায়িত্ব।

আয়োজিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ২০২৩ সালে ধামরাই থেকে গুমের ভুক্তভোগী রহমত উল্লাহ, ২০১২ সালে গুম হওয়া বরিশালের ছাত্রদল নেতা ফিরোজ খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার, ২০১২ সালে রাজধানী থেকে গুম হওয়া মুকাদ্দাসের চাচা আবদুল হাই প্রমুখ।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

১৮৬ দিন গুম ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা

আপডেট সময় : ০৫:১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

২০১৫ সালে উত্তরা থেকে তুলে নিয়ে টানা ১৮৬ দিন গোপনে আটক রাখা হয়েছিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানাকে। এই দীর্ঘ সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বিশেষ করে শেষ দুই মাস তাকে একটি অন্ধকার ও দুর্গন্ধময় শৌচাগারে বন্দি করে রাখা হয়।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সোহেল রানা।

তিনি বলেন, ‘সেখানে মানুষের ন্যূনতম মর্যাদা ও বেঁচে থাকার মৌলিক শর্তগুলো থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। দিন-রাত মশার কামড়, শারীরিক অত্যাচার, ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে তিনি প্রতিদিন টিকে ছিলেন। সেই ভয়াল অভিজ্ঞতা আজও আমাকে জীবনকে তাড়া করে বেড়ায়।’

গুম থেকে ফিরে সোহেল রানা এটিকে কেবল নিজের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখেননি, বরং পুরো জাতির জন্য এক গভীর সংকট হিসেবে দেখেছেন। তার উপলব্ধি ছিল—গুম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি জাতির মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে চূর্ণ করার একটি ভয়ঙ্কর সংস্কৃতি।
সেই উপলব্ধি থেকে তিনি গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেন। এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে গুমের উপর সর্বপ্রথম তিনি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি গুমকে সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইনে সংযুক্ত করার দাবিতে তিনি কাজ করে গেছেন।
আইনজীবী সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি জাতীয় আলোচনায় রূপ দেন।
একই সঙ্গে তিনি একটি স্বাধীন ও কার্যকর ‘গুম কমিশন’ গঠনের দাবিও তোলেন, যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য সত্য প্রকাশ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও—জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমে তিনি ধারাবাহিকভাবে গুম ইস্যুটি তুলে ধরেছেন।

আইনজীবী সোহেল রানা মনে করেন, এই সংগ্রাম তার ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা বেদনার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য একটি দায়িত্ব।

আয়োজিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ২০২৩ সালে ধামরাই থেকে গুমের ভুক্তভোগী রহমত উল্লাহ, ২০১২ সালে গুম হওয়া বরিশালের ছাত্রদল নেতা ফিরোজ খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার, ২০১২ সালে রাজধানী থেকে গুম হওয়া মুকাদ্দাসের চাচা আবদুল হাই প্রমুখ।