ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

কাঠগড়ায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত আনিস-মেনন

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৬৬ বার পড়া হয়েছে

তখন স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে কথা বলতে সুযোগ করে দেওয়া সাথীকে। আসামির কাঠগড়ার একেবারে সামনে দাঁড়িয়েই কথা বলেন তারা।

স্বামীর মুখে, বুকে হাত বোলাতে দেখা যায় সাথীর স্ত্রী আসফিয়াকে। বাবাকে যতটুকু পেরেছেন জড়িয়ে ধরেন মেয়ে। তাদের তিনজনের চোখ ছলছল করে ওঠে, কাঁদতে দেখা যায়। ৪টা ১ মিনিটের দিকে মেয়ের কপালে চুমু খান সাথী। এসময় সাথীর বাম চোখ মুছে দেন আসফিয়া। ডান চোখ নিজে মুছে নেন সাথী।

এসময় অন্যদিকে পাশে দাঁড়িয়ে পেছনে দেয়ালে হেলান দিয়ে থাকেন আনিসুল হক ও রাশেদ খান মেনন।

সাথীর আইনজীবী আদালতকে বলেন, “মামলার বাদী হলফনামা দিয়ে বলেছেন, ভুল তথ্যে তাকে (সাথী) আসামি করা হয়েছে। জামিন, অব্যাহতি বা খালাস পেলে তার কোনো আপত্তি নেই।

“বাদীরও জামিন পেলে আপত্তি নেই। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না। তাছাড়া তিনি অসুস্থ, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধীত করে বলেন, “এটি একটি হত্যা মামলা। আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।”

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ। কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

এ সময়ও সাথী তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

এরপর আনিসুল ও মেননকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। শুনানি শেষে তাদের দুইজনকে ৪টা ১০ মিনিটের দিকে কাঠগড়া থেকে বের করে এজলাসের দরজার সামনে রাখা হয়।

এরপর সাথীকে কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

তখন মাইটিভিসহ কোম্পানির কর্মচারীদের বেতনের জন্য সাথীর স্ত্রী আসফিয়া উদ্দিনের নামে বিশেষ ক্ষমতা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে সই করার আবেদন করেন আইনজীবী। কিছুটা সময় এ নিয়ে শুনানি হয়।

শুনানির একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের জন্য বিরতিতে যান আদালত।

এ শুনানি শেষ না হওয়ায় বাইরে প্রায় ৪ থেকে ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন আনিসুল ও মেনন। একসময় তারা অধৈর্য হয়ে পড়েন। তাদের ফের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।

এসময় দেখা যায় সাথীকে কাঠগড়ায় বসতে একটি টুল দেওয়া হয়। আনিসুল ও মেনন তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন।

কাঠগড়ায় আশেপাশে থাকা কয়েকজন এসময় সাথীর কী লাগবে, কী খাবেন তা জানতে ব্যস্থ হয়ে পড়েন। কেউ টিস্যু বাড়িয়ে দেন, কেউ পানি।

সাথীকে তার স্ত্রী বলেন, “বাসা থেকে খাবার রান্না করে এসেছি। খাবে না।” তখন সাথী বলেন, “আমি খেয়ে এসেছি। এখানে খাওয়া যাবে না।”

তখন পাশ থেকে একজন বলেন, “খাবার আনো। সাথে দিয়ে দেব।“

তবে সাথী মানা করেন, সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার ছেলের দিকে খেয়াল রেখ। তোমরাও আমার সন্তানের মত। এসময় অনেককে কাঁদতে দেখা যায়।”

এদিকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল কাঠগড়ার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের বলেন, “আমরাতো কেরানীগঞ্জে বিশেষ কারাগারে থাকি। আমাদের আটকে রাখছেন কেন? উনিতো (সাথী) যাবেন ভিন্ন জায়গায়। গাড়ি ডেকে আমাদের পাঠিয়ে দিন। আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব।”

তখন মেননও পুলিশ সদস্যদের একই কথা বলতে থাকেন। বলেন, “এভাবে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। আমাদের নিয়ে যান।”

পুলিশ সদস্যরা বলেন, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়া হবে।

তখন আনিসুল দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে কোমরে হাত দিয়ে পেছনের দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়ান। মেননও পেছনে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ান।

এরইমধ্যে বিকাল ৪টা ২৮ মিনিটে বিচারক ফের এজলাসে ওঠেন। আনিসুল চেয়ারে বসে থাকা সাথীকে উঠে দাঁড়াতে বলেন। তখন তিনি দাঁড়ান।

এরপর শুনানি শেষে বিচারক আইনজীবীদের বলেন, “নিয়মিত কোর্টে আমলি আদালতে স্ত্রীকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে আসামির স্বাক্ষরের জন্য আবেদন করুন।”

এরপর ফের কারাগারে নিয়ে যেতে হেলমেট পরানোর সময় সাথীকে উদ্দেশ্য করে আনিসুল বলতে থাকেন, “প্রোডাকশন কোর্টের এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। আমলি কোর্টে আবেদন করতে বলেন আইনজীবীকে।”

এরপর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে তাদের ফের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে লিফটে করে নিচে নামানো হয়। পরে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় আনিসুল ও মেননের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২০ আগস্ট তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মো. কাউসার হুসাইন।

এজাহারে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ যাত্রাবাড়ী থানার কাজলা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন মেহেদী হাসান। এসময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে আহত হন তিনি। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সাথীর মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট যাত্রাবাড়ী থানাধীন পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন আসাদ। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। সাথী ২২ নম্বার এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর আসামি।

গুলশান থেকে গত ১৭ অগাস্ট সাথীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাঠগড়ায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত আনিস-মেনন

আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

তখন স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে কথা বলতে সুযোগ করে দেওয়া সাথীকে। আসামির কাঠগড়ার একেবারে সামনে দাঁড়িয়েই কথা বলেন তারা।

স্বামীর মুখে, বুকে হাত বোলাতে দেখা যায় সাথীর স্ত্রী আসফিয়াকে। বাবাকে যতটুকু পেরেছেন জড়িয়ে ধরেন মেয়ে। তাদের তিনজনের চোখ ছলছল করে ওঠে, কাঁদতে দেখা যায়। ৪টা ১ মিনিটের দিকে মেয়ের কপালে চুমু খান সাথী। এসময় সাথীর বাম চোখ মুছে দেন আসফিয়া। ডান চোখ নিজে মুছে নেন সাথী।

এসময় অন্যদিকে পাশে দাঁড়িয়ে পেছনে দেয়ালে হেলান দিয়ে থাকেন আনিসুল হক ও রাশেদ খান মেনন।

সাথীর আইনজীবী আদালতকে বলেন, “মামলার বাদী হলফনামা দিয়ে বলেছেন, ভুল তথ্যে তাকে (সাথী) আসামি করা হয়েছে। জামিন, অব্যাহতি বা খালাস পেলে তার কোনো আপত্তি নেই।

“বাদীরও জামিন পেলে আপত্তি নেই। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না। তাছাড়া তিনি অসুস্থ, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধীত করে বলেন, “এটি একটি হত্যা মামলা। আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।”

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ। কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

এ সময়ও সাথী তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

এরপর আনিসুল ও মেননকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। শুনানি শেষে তাদের দুইজনকে ৪টা ১০ মিনিটের দিকে কাঠগড়া থেকে বের করে এজলাসের দরজার সামনে রাখা হয়।

এরপর সাথীকে কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

তখন মাইটিভিসহ কোম্পানির কর্মচারীদের বেতনের জন্য সাথীর স্ত্রী আসফিয়া উদ্দিনের নামে বিশেষ ক্ষমতা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে সই করার আবেদন করেন আইনজীবী। কিছুটা সময় এ নিয়ে শুনানি হয়।

শুনানির একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের জন্য বিরতিতে যান আদালত।

এ শুনানি শেষ না হওয়ায় বাইরে প্রায় ৪ থেকে ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন আনিসুল ও মেনন। একসময় তারা অধৈর্য হয়ে পড়েন। তাদের ফের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।

এসময় দেখা যায় সাথীকে কাঠগড়ায় বসতে একটি টুল দেওয়া হয়। আনিসুল ও মেনন তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন।

কাঠগড়ায় আশেপাশে থাকা কয়েকজন এসময় সাথীর কী লাগবে, কী খাবেন তা জানতে ব্যস্থ হয়ে পড়েন। কেউ টিস্যু বাড়িয়ে দেন, কেউ পানি।

সাথীকে তার স্ত্রী বলেন, “বাসা থেকে খাবার রান্না করে এসেছি। খাবে না।” তখন সাথী বলেন, “আমি খেয়ে এসেছি। এখানে খাওয়া যাবে না।”

তখন পাশ থেকে একজন বলেন, “খাবার আনো। সাথে দিয়ে দেব।“

তবে সাথী মানা করেন, সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার ছেলের দিকে খেয়াল রেখ। তোমরাও আমার সন্তানের মত। এসময় অনেককে কাঁদতে দেখা যায়।”

এদিকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল কাঠগড়ার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের বলেন, “আমরাতো কেরানীগঞ্জে বিশেষ কারাগারে থাকি। আমাদের আটকে রাখছেন কেন? উনিতো (সাথী) যাবেন ভিন্ন জায়গায়। গাড়ি ডেকে আমাদের পাঠিয়ে দিন। আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব।”

তখন মেননও পুলিশ সদস্যদের একই কথা বলতে থাকেন। বলেন, “এভাবে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। আমাদের নিয়ে যান।”

পুলিশ সদস্যরা বলেন, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়া হবে।

তখন আনিসুল দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে কোমরে হাত দিয়ে পেছনের দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়ান। মেননও পেছনে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ান।

এরইমধ্যে বিকাল ৪টা ২৮ মিনিটে বিচারক ফের এজলাসে ওঠেন। আনিসুল চেয়ারে বসে থাকা সাথীকে উঠে দাঁড়াতে বলেন। তখন তিনি দাঁড়ান।

এরপর শুনানি শেষে বিচারক আইনজীবীদের বলেন, “নিয়মিত কোর্টে আমলি আদালতে স্ত্রীকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে আসামির স্বাক্ষরের জন্য আবেদন করুন।”

এরপর ফের কারাগারে নিয়ে যেতে হেলমেট পরানোর সময় সাথীকে উদ্দেশ্য করে আনিসুল বলতে থাকেন, “প্রোডাকশন কোর্টের এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। আমলি কোর্টে আবেদন করতে বলেন আইনজীবীকে।”

এরপর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে তাদের ফের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে লিফটে করে নিচে নামানো হয়। পরে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় আনিসুল ও মেননের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২০ আগস্ট তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মো. কাউসার হুসাইন।

এজাহারে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ যাত্রাবাড়ী থানার কাজলা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন মেহেদী হাসান। এসময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে আহত হন তিনি। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সাথীর মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট যাত্রাবাড়ী থানাধীন পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন আসাদ। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। সাথী ২২ নম্বার এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর আসামি।

গুলশান থেকে গত ১৭ অগাস্ট সাথীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।