মোত্তাকিনা আক্তার, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
আফসানা আক্তার, সমাজকল্যাণ বিভাগ
মাসুমা আক্তার, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
বৈশাখী রানী গোপ, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ
মা-বাবার চোখে স্বস্তির ঝিলিক দেখতে পাই। আমার স্বপ্ন ভবিষ্যতে একজন মৎস্য গবেষক হওয়া। বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ প্রাণীর সংরক্ষণ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করতে চাই। গবেষণার পথ সহজ নয়। ল্যাবরেটরির কাজ, ফিল্ড ট্রিপ, সরঞ্জাম কেনা সবই ব্যয়বহুল। কিন্তু বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তা আমাকে সাহস জুগিয়েছে, আত্মবিশ্বাসী করেছে। আমিও একদিন আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব। আজ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমাজে এখনো কিছু মহৎ মানুষ আছেন, যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে অন্যের মুখে হাসি ফোটান।
অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ
মিম আকতার, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর একদিকে আনন্দের সীমা থাকেনি, অন্যদিকে নতুন চিন্তায় মনে প্রশ্ন উঠেছিল, কিভাবে ভর্তি হব? কোথা থেকে এত খরচ জোগাড় করব? কলেজ থেকে প্রাপ্ত সহায়তায় ঢাকায় ভর্তি হতে পারি। স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে আনন্দ ছিল, কিন্তু সঙ্গে চিন্তা কোথায় থাকব, খরচ কোথা থেকে আসবে, খাওয়ার ব্যবস্থা কেমন হবে? বাবা ফুটপাতে দোকান করেন, মা গৃহিণী। ঝড়বৃষ্টি ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাবার দোকান সব সময় খোলা থাকে না। পরিবার চালানোও খুব কষ্টসাধ্য।
ছোট ভাই তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। পরিবারের সামর্থ্য সীমিত। আমাকে ঢাকায় রেখে পড়াশোনা করানো ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। প্রথম এক মাস উত্তরায় আত্মীয়র বাসায় থাকি।
দৈনিক যাতায়াতের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারিনি। তখনই বসুন্ধরা শুভসংঘ অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়ায়। বন্ধুদের মাধ্যমে বসুন্ধরা শুভসংঘের বৃত্তির খবর জানতে পারি। সব কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করি।
ইমদাদুল হক মিলন স্যার আমাদের আশ্বাস দেন। পরের মাস থেকে বৃত্তি পাওয়া শুরু করি। এখন আর বাবার কাছে টাকা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণার বাতিঘর। চেষ্টা যেখানে থেমে যায়, বসুন্ধরা শুভসংঘ সেখানে নতুনভাবে স্বপ্ন বুনতে শেখায়। তাদের অনুপ্রেরণায় আমি নতুন উদ্যমে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে এগিয়ে যেতে পারছি।
বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব
ইসরাত জাহান ঈশিতা, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ
লালমনিরহাট জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে আমি। আমার এত দিনের পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। ছোটবেলায়ই মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে যায়। সেই থেকে বাবা আমাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি, খোঁজখবর নেওয়া তো দূরের কথা।
আমার কিংবা মায়ের খরচও তিনি কখনোই দেননি। মা ছিলেন আমার একমাত্র ভরসা। তিনি একা হাতে আমাকে বড় করেছেন। কখনো স্বাস্থ্যকর্মী, কখনো আবার কোনো ক্লিনিকে নার্স হিসেবে কাজ করেছেন। আমার পড়াশোনার খরচ জোগাতে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। করোনা মহামারির সময় মায়ের চাকরিও চলে যায়। তখন আমাদের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা। সংসার চালানোই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে ঢাকায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আমার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
মা পরে একটি স্থানীয় ফার্নিচারের দোকানে কাজ পান, কিন্তু বেতন এতটাই কম ছিল যে থাকা-খাওয়া, পড়াশোনার খরচ কোনোটাই ঠিকমতো মেটানো যেত না। আমি অনেক চেষ্টা করেও কোনো টিউশনি পাইনি। মনে হচ্ছিল, হয়তো আমার স্বপ্ন এখানেই থেমে যাবে, ঠিক সেই অন্ধকার সময়েই আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। ইমদাদুল হক মিলন স্যার আমাকে সাহস দেন, বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেন। শুভসংঘ থেকে আমি যে মাসিক বৃত্তি পাই, তা দিয়ে আমার থাকার খরচ, খাওয়াদাওয়া এবং পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে পারি।
আমার জীবনে মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমি নতুন উদ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছি। আমার স্বপ্ন পড়াশোনা শেষ করে ভবিষ্যতে একজন সমাজসেবী হওয়া, যাতে আমার মতো স্বপ্ন দেখা কিন্তু প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়তে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারি। বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ ও ঋণী থাকব।
এখন আর ক্ষুধার যন্ত্রণায় রাতে ঘুম ভেঙে যায় না
আশামনি, দর্শন বিভাগ
মা পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম হওয়ায় অভাব ছিল আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তারপর আমি ঢাকায় চলে আসায় মায়ের ওপর চাপটা যেন আরো বেড়ে গেল। আমি, ছোট দুই বোন সব মিলিয়ে সংসারটা চালানো খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছিল। মাসে মাসে যখন মায়ের কাছে খাওয়ার জন্য টাকা চাইতাম, এর থেকে কষ্টের আর কিছু ছিল না।
বুঝতাম মায়ের কাছে হয়তো এই টাকাটাও নেই যে কাল চাল কিনবেন কী দিয়ে, তবু মা ৩০০ থেকে ৪০০ করে টাকা পাঠাতেন। স্যারদের কাছে বসুন্ধরা শুভসংঘের ব্যাপারে জানতে পারলাম এবং আবেদন করলাম। এখন আর আগের মতো প্রতি মাসে খাওয়া-পরা নিয়ে আমার মায়ের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় না। বসুন্ধরা শুভসংঘের বৃত্তি পেয়ে নিশ্চিন্তে নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছি।
কান্নাভরা গলায় মাকে আর বলতে হয় না, মা খাইনি। আগে সকালে খেতাম না। দুপুরে ভাত কিনতাম, ওটাই অর্ধেক করে রেখে দিতাম রাতের জন্য। মা শুঁটকি গুঁড়া করে দিতেন, ১০ টাকায় পাঁচটা পেঁয়াজ কিনে প্রতিদিন রাতে অর্ধেক পেঁয়াজ কেটে শুঁটকি গুঁড়া দিয়ে ভাত খেতাম।
একটু ভাত খেয়ে পানি খেয়ে পেট ভরতাম। শেষ কবে পেট ভরে ভাত খেয়েছিলাম বলতে পারতাম না। এখন তিন বেলা অন্তত ভাতটা খাই। একটু শান্তিতে পড়াশোনা করতে পারি। মা ও বোনদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা থেকে দূরে আছি।
বসুন্ধরা শুভসংঘকে কোটি কোটি শুকরিয়া মাসের শুরুতে টাকাটা দিয়ে আমার সারা মাসের দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য। এখন আর ক্ষুধার যন্ত্রণায় রাতে ঘুম ভেঙে যায় না। আমাকে নিয়ে মায়ের দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছি। আমি ও আমার পরিবার বসুন্ধরা শুভসংঘের ওপর চিরকৃতজ্ঞ থাকব। ধন্যবাদ বসুন্ধরা গ্রুপ।
অসহায় শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের আলোকবর্তিকা
সিরাজুম মুনিরা, ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগ
জয়পুরহাট জেলার এক ছোট্ট মফস্বল গ্রামে আমার বাড়ি। শৈশব থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলাম, যা স্বপ্ন জাগিয়েছে একদিন পড়াশোনার মাধ্যমে জীবনে অনেক বড় কিছু করার। আমি জানতাম দরিদ্র পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আমার পরিবার ছিল একেবারেই অসচ্ছল।
বাবা মসজিদে ইমামতি করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে মা-বাবা দুজনই প্রায় অক্ষম হয়ে পড়েছেন। আমাদের কোনো আবাদি জমি নেই, আর বাবার পক্ষে আমার উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা ছিল অসম্ভব। তবু সাহস করে আমি ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
অর্থাভাবে ভর্তি হওয়ায় প্রথমে পড়াশোনা অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ঠিক এমন সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তির ব্যাপারে জানতে পারলাম। ইমদাদুল হক মিলন স্যার বরাবর আবেদন করি এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে নির্বাচিত হই। বর্তমানে শুভসংঘ থেকে প্রতি মাসে যে নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা পাই, তা আমার জীবনে এক বিরাট স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এখন আমি নির্বিঘ্নে আমার পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারি। আজ আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, বসুন্ধরা শুভসংঘ কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং অসহায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের এক আলোকবর্তিকা। আমি ও আমার মতো হাজারো শিক্ষার্থী বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তায় নতুন আশার আলো খুঁজে পাচ্ছি।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 






































