ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতির দাবায় কৌশলী বিএনপি, ঐক্যের বার্তা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৬৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক মাঠে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি। আন্দোলন থেকে শুরু করে সরকার গঠন, সব পর্যায়েই এবার সমমনা দল ও জোটগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোনোর কৌশল নিয়েছে দলটি। সম্প্রতি গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই দফা বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দলীয়ভাবে নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়েই তারা নির্বাচনে যাবে এবং জনগণের ভোটে জয়ী হলে সবাইকে নিয়েই গঠন করবে জাতীয় সরকার। এই অবস্থান থেকে এক চুলও সরবে না তারা।

দলটির নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় যেসব রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সঙ্গে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে ভবিষ্যতের কোনো রাজনীতি নয়। চলমান ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সাফল্যের জন্যও এই ঐক্য টিকিয়ে রাখাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিএনপি।

গেল ৮ ও ৯ আগস্ট গুলশানে অনুষ্ঠিত দুই দফা বৈঠকে দেশের অন্তত ৪২টি সমমনা দল ও জোট অংশ নেয়। প্রথম দিন একসঙ্গে ২৪টি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৮টি দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়েই সামনে এগোতে চায় বিএনপি। নির্বাচন থেকে শুরু করে সরকার গঠন পর্যন্ত—সব পর্যায়ে এই ঐক্য অব্যাহত থাকবে।

এসব বৈঠকে তুলে ধরা হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ চাইছে নির্বাচন বানচাল করতে। তাই সবাইকে সতর্ক থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলা হয়, ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখার কথা। বিএনপি জানায়, এই ৩১ দফা শুধু আন্দোলনের ভিত্তি নয়, এটিই হবে নির্বাচনকালীন প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দু। দলটি সমমনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সবাই যেন এই দফাগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

বৈঠকে আরও আলোচনা হয়, নির্বাচনি ট্রেন ইতিমধ্যে চলতে শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে দ্রুত লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই কমিটিগুলো পৃথকভাবে প্রতিটি জোট বা দলের সঙ্গে বৈঠক করবে। এসব বৈঠকে আসন ভাগাভাগি, প্রচার কৌশল, প্রচারণা উপকরণ—সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রথম ধাপের বৈঠকগুলোতে আসন বণ্টনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়, মিডিয়ায় দলটির বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। বৈঠকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনলাইন ও অফলাইনে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন শীর্ষ নেতারা।

দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সরকারের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষ স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। সামনের দিনগুলোতেও এই ঐক্য যাতে অটুট থাকে, সেজন্য দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ দলের প্রতিনিধিরা এই ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার পক্ষে মত দেন। কেউ কেউ স্পষ্ট করে বলেন, মতানৈক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা বড় করে দেখলে ফ্যাসিবাদ সুযোগ নিতে পারে। তাই মতভেদ মেটাতে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেন নেতারা।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), গণফোরাম, এলডিপি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলসহ সবগুলো দলই বিএনপির প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখে বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নেতারা জানান, নির্বাচন সামনে রেখে এই ধরনের সমন্বিত ও আন্তরিক আলোচনা ভবিষ্যতের রাজনীতিকে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নেবে।

বিএনপি বলছে, তারা এখন আর এককভাবে রাজনীতির মাঠে নামবে না। বরং আন্দোলনের পরীক্ষিত শরিকদের সঙ্গেই হাতে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে এবং প্রয়োজন হলে জাতীয় সরকারও গঠন করবে যৌথভাবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়েই সামনে এগোতে চায় বিএনপি।তার মতে, নির্বাচন থেকে শুরু করে সরকার গঠন পর্যন্ত—সব পর্যায়ে এই ঐক্য অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বার্তাই দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য যেকোনো মতানৈক্যের ঊর্ধ্বে রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বৈঠকে এই বার্তাই উঠে এসেছে, মতবিরোধকে সুযোগ না দিয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবেই সবাইকে নির্বাচন ও জাতীয় সরকার গঠনের পথচলায় যুক্ত থাকতে হবে।

বিএনপির এসব প্রস্তাবনাকে সমর্থন জানিয়েছেন শরিক নেতারা। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সরকারের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষ স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

তিনি আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতেও এই ঐক্য যাতে অটুট থাকে, সেজন্য দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে আলোচিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকার যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছে, তখন এটাও মনে রাখতে হবে—বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের দলগুলো প্রায় তিন বছর আগেই ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, সেই দফাগুলোকে সামনে রেখেই এখন জনগণের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সব দল। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, খুব শিগগিরই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামা হবে এই ৩১ দফা নিয়ে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, বিএনপি যে নির্বাচন ও জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা নিয়ে তারা এক বিন্দু ছাড় দেবে না—বৈঠকে এমনটাই জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়েই বিএনপি সামনে এগোতে চায়।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য যেকোনো মতানৈক্যের ঊর্ধ্বে রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বৈঠকে এই বার্তাই উঠে এসেছে, মতবিরোধকে সুযোগ না দিয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবেই সবাইকে নির্বাচন ও জাতীয় সরকার গঠনের পথচলায় যুক্ত থাকতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

রাজনীতির দাবায় কৌশলী বিএনপি, ঐক্যের বার্তা

আপডেট সময় : ১১:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক মাঠে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি। আন্দোলন থেকে শুরু করে সরকার গঠন, সব পর্যায়েই এবার সমমনা দল ও জোটগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোনোর কৌশল নিয়েছে দলটি। সম্প্রতি গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই দফা বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দলীয়ভাবে নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়েই তারা নির্বাচনে যাবে এবং জনগণের ভোটে জয়ী হলে সবাইকে নিয়েই গঠন করবে জাতীয় সরকার। এই অবস্থান থেকে এক চুলও সরবে না তারা।

দলটির নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় যেসব রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সঙ্গে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে ভবিষ্যতের কোনো রাজনীতি নয়। চলমান ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সাফল্যের জন্যও এই ঐক্য টিকিয়ে রাখাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিএনপি।

গেল ৮ ও ৯ আগস্ট গুলশানে অনুষ্ঠিত দুই দফা বৈঠকে দেশের অন্তত ৪২টি সমমনা দল ও জোট অংশ নেয়। প্রথম দিন একসঙ্গে ২৪টি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৮টি দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়েই সামনে এগোতে চায় বিএনপি। নির্বাচন থেকে শুরু করে সরকার গঠন পর্যন্ত—সব পর্যায়ে এই ঐক্য অব্যাহত থাকবে।

এসব বৈঠকে তুলে ধরা হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ চাইছে নির্বাচন বানচাল করতে। তাই সবাইকে সতর্ক থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলা হয়, ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখার কথা। বিএনপি জানায়, এই ৩১ দফা শুধু আন্দোলনের ভিত্তি নয়, এটিই হবে নির্বাচনকালীন প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দু। দলটি সমমনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সবাই যেন এই দফাগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

বৈঠকে আরও আলোচনা হয়, নির্বাচনি ট্রেন ইতিমধ্যে চলতে শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে দ্রুত লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই কমিটিগুলো পৃথকভাবে প্রতিটি জোট বা দলের সঙ্গে বৈঠক করবে। এসব বৈঠকে আসন ভাগাভাগি, প্রচার কৌশল, প্রচারণা উপকরণ—সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রথম ধাপের বৈঠকগুলোতে আসন বণ্টনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়, মিডিয়ায় দলটির বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। বৈঠকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনলাইন ও অফলাইনে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন শীর্ষ নেতারা।

দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সরকারের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষ স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। সামনের দিনগুলোতেও এই ঐক্য যাতে অটুট থাকে, সেজন্য দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ দলের প্রতিনিধিরা এই ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার পক্ষে মত দেন। কেউ কেউ স্পষ্ট করে বলেন, মতানৈক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা বড় করে দেখলে ফ্যাসিবাদ সুযোগ নিতে পারে। তাই মতভেদ মেটাতে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেন নেতারা।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), গণফোরাম, এলডিপি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলসহ সবগুলো দলই বিএনপির প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখে বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নেতারা জানান, নির্বাচন সামনে রেখে এই ধরনের সমন্বিত ও আন্তরিক আলোচনা ভবিষ্যতের রাজনীতিকে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নেবে।

বিএনপি বলছে, তারা এখন আর এককভাবে রাজনীতির মাঠে নামবে না। বরং আন্দোলনের পরীক্ষিত শরিকদের সঙ্গেই হাতে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে এবং প্রয়োজন হলে জাতীয় সরকারও গঠন করবে যৌথভাবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়েই সামনে এগোতে চায় বিএনপি।তার মতে, নির্বাচন থেকে শুরু করে সরকার গঠন পর্যন্ত—সব পর্যায়ে এই ঐক্য অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বার্তাই দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য যেকোনো মতানৈক্যের ঊর্ধ্বে রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বৈঠকে এই বার্তাই উঠে এসেছে, মতবিরোধকে সুযোগ না দিয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবেই সবাইকে নির্বাচন ও জাতীয় সরকার গঠনের পথচলায় যুক্ত থাকতে হবে।

বিএনপির এসব প্রস্তাবনাকে সমর্থন জানিয়েছেন শরিক নেতারা। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সরকারের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষ স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

তিনি আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতেও এই ঐক্য যাতে অটুট থাকে, সেজন্য দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে আলোচিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকার যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছে, তখন এটাও মনে রাখতে হবে—বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের দলগুলো প্রায় তিন বছর আগেই ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, সেই দফাগুলোকে সামনে রেখেই এখন জনগণের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সব দল। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, খুব শিগগিরই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামা হবে এই ৩১ দফা নিয়ে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, বিএনপি যে নির্বাচন ও জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা নিয়ে তারা এক বিন্দু ছাড় দেবে না—বৈঠকে এমনটাই জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়েই বিএনপি সামনে এগোতে চায়।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য যেকোনো মতানৈক্যের ঊর্ধ্বে রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বৈঠকে এই বার্তাই উঠে এসেছে, মতবিরোধকে সুযোগ না দিয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবেই সবাইকে নির্বাচন ও জাতীয় সরকার গঠনের পথচলায় যুক্ত থাকতে হবে।