ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিবিয়ানায় একদিনের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ৫৭ লাখ ঘনফুট

উৎপাদন কমতে থাকা বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে একদিনের ব্যবধানে ৫৭ লাখ ঘনফুট (৫.৭ মিলিয়ন) গ্যাস উৎপাদন কমেছে। বিবিয়ানার পাশাপাশি দেশীয় অন্যান্য গ্যাসফিল্ডগুলোর গ্যাসের উৎপাদনও কমেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ (১৪.৭ মিলিয়ন)।

গত ৩১ জুলাই দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে মোট গ্যাস পাওয়া গেছে ১৮০৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট, একদিন পর ১ আগস্ট উৎপাদন ১৭৭৬ মিলিয়নে নেমেছে। গ্যাসের চাহিদা সরবরাহের মধ্যে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান। এভাবে দেশীয় উৎপাদন কমতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়তে পারে।

২০২৪ সালের ১ আাগস্ট রাষ্ট্রীয় কোম্পানির মালিকানাধীন ১৬টি গ্যাস ফিল্ডের ৭৩টি কূপ দিয়ে ৮০১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট গ্যাস পাওয়া গেছে ৬৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট বহুজাতিক কোম্পানির মালিকানাধীন ৪টি ফিল্ডে মোট উৎপাদন ছিল ১২২৭ মিলিয়ন ঘনফুট, এক বছর পর উৎপাদন ১০৭৯ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এক বছরে দেশের সামগ্রিক গ্যাস উৎপাদন কমেছে ২৫২ মিলিয়ন ঘনফুট।

বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ তাদের বিবিয়ানা ফিল্ডে প্রায় এক টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) মজুদ নিয়ে ৯০৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করেছে। একই দিনে অনেক বেশি মজুদ এবং সমান সংখ্যাক কূপ (২৬টি) দিয়ে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র মাত্র ৩১২ মিলিয়ন উৎপাদন করেছে। পেট্রোবাংলার ২০২৪ সালের ৩০ জুনের রিপোর্ট অনুযায়ী তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে ১.৯১ টিসিএফ, একই দিনে বিবিয়ানায় মজুদ ছিল ১.৬১ টিসিএফ। এরপর আরও এক বছর চলে গেছে, দৈনিক প্রায় ১বিসিএফ করে গ্যাস উত্তোলন ধরা হলে ৩৬৫ দিনের উত্তোলন শেষে অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে ১টিএসএফের সামান্য বেশি।

দেশীয় অন্যান্য গ্যাসফিল্ডের মজুদও অনেক কমে গেছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী (৩০ জুন ২০২৪) হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডে ২৮.৩৪ বিসিএফ, বেগমগঞ্জে ২৬.৪২ বিসিএফ, মৌলভীবাজারে ২৪.৮১ বিসিএফ, সুন্দলপুরে ২০.৪৬ মিলিয়ন,বিয়ানীবাজারে ৪৪.৯৮ বিসিএফ, সালদানদীর মজুদ ১ বিসিএফের নিচে নেমে গেছে।

শেভরন বাংলাদেশের মালিকানাধীন জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে অবশিষ্ট মজুদ ছিল ৭৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাস ফিল্ডটিতে কমপ্রেসর বসাতে চায় কোম্পানিটি। জালালাবাদ কমপ্রেসর প্রকল্প ২০২৪ সালের প্রথম দিকে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের কাজ শুরুর ২ বছর পর থেকে অপরেশনে যেত প্রকল্পটি। ২০২৬ সালে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিগত সরকারের শেষ দিকে তাদের বিল বকেয়া রাখায় কমপ্রেসর প্রকল্পের কাছ বন্ধ করে রেখেছিল। গত এপ্রিলে বকেয়া পরিশোধের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রকল্পটি। ২০২৭ সালে প্রকল্পের কাজ শেষের নতুন সময়সীমার কথা পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে শেভরন।

কমপ্রেসরটি স্থাপন করা গেলে দৈনিক প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছে শেভরন। তবে মজুদ কমে আসায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ কতটা বাণিজ্যিক হবে সে নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

মজুদ কমে আসায় দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অবধারিত বিবেচনা করা হয়। সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। সেখানে গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিগত সরকারগুলো। সে কারণে দেশীয় উৎপাদনে প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে। নতুন নতুন কূপ খনন এবং পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার করেও ধস ঠেকানো যাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ সরকার অনুসন্ধানে জোন না দিয়ে আমদানির দিকে নজর দিয়েছিল। আমদানির সক্ষমতা ১১‘শ মিলিয়ন থেকে বাড়াতে অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এরমধ্যে ছিল মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, পায়রাতে ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন, সাতক্ষীরার ভোমরা-খুলনা পাইপলাইন এবং বেনাপোল-খুলনা পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে গ্যাস আমদানি, পাশাপাশি ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প।

এরমধ্যে সামিট গ্রুপের সঙ্গে মহেশখালীতে ভাড়াভিত্তিক ভাসমান এলএনজি স্থাপনে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল এবং পায়রাতে ভাসমান টার্মিনালের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি চুড়ান্ত ধাপে ছিল, পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পগুলোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। সবগুলো প্রকল্প ছিল বিশেষ বিধান আইনের আওতায়। অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে বিশেষ বিধান আইন এবং ওই আইনের আওতাধীন এসব প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। বাতিল হওয়া ওইসব প্রকল্পের বিষয়ে খুব একটা অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

বাড়ন্ত চাহিদার বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি থাকল দূরের কথা, বর্তমান উৎপাদন অব্যাহত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে শঙ্কার হচ্ছে দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদনের ৫০ শতাংশের বেশি যোগান দেওয়া ফিল্ডটি এক সময় ১৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও ১ আগস্ট পাওয়া গেছে মাত্র ৯০৪ মিলিয়ন ঘনফুট। খোদ পেট্রোবাংলার অনেকেই মনে করেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে হঠাৎ করেই বড়ধরনের ধস দেখা দিতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে বিবিয়ানার উৎপাদন ৫০০ মিলিয়নের নিচে নেমে আসতে পারে। শঙ্কা সত্যি হলে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দেড় হাজার মিলিয়নে নেমে যাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সূফী চেতনায়২৪ ডটকম কে বলেছেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন কমছে, গ্যাস চাপ কমে যাওয়ায় কূপগুলোতে কমপ্রেসর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন সময় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। সে জন্য বিকল্প প্রস্তুতি রাখা দরকার।

ওই ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য যেভাবে প্রস্তুতি থাকা দরকার সেখানে অনেক ঘাটতি দৃশ্যমান। আমদানি বাড়িয়ে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। দু’টি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে তাতে কোন অবস্থাতেই ১১০০ মিলিয়নের বেশি আমদানি সম্ভব নয়। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করতে হবে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে কমপক্ষে ২৪ মাস, আর ল্যান্ডবেজড এলএলজি টার্মিনাল করা হয় তাহলে ৮০ মাসের ধাক্কা। শুধু টার্মিনাল হলেই সরবরাহ ইচ্ছেমতো বাড়ানোর সুযোগ নেই। বাড়াতে হবে পাইপলাইনের সক্ষমতাও।

দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, চলমান ৫০ কূপের পাশাপাশি আরও ১০০ কূপ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ১০০ কূপ খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ ৬৯টি আর ৩১টি পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার। ১০০ কূপ খনন প্রকল্প ২০২৬ সালে শুরু করে ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখান থেকে বাছাই করে ১৯টি কূপ দ্রুত খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান।

তিনি চেতনায়২৪ ডটকম কে বলেছেন, আমরা দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন ও অনুসন্ধান জোরদার করেছি। নতুন করে আরও দু’টি রিগ কেনা হচ্ছে। আশাকরছি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দরপত্র চুড়ান্তের পথে। ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনালের বিষয়ে কাজ চলছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

বিবিয়ানায় একদিনের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ৫৭ লাখ ঘনফুট

আপডেট সময় : ১২:১৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

উৎপাদন কমতে থাকা বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে একদিনের ব্যবধানে ৫৭ লাখ ঘনফুট (৫.৭ মিলিয়ন) গ্যাস উৎপাদন কমেছে। বিবিয়ানার পাশাপাশি দেশীয় অন্যান্য গ্যাসফিল্ডগুলোর গ্যাসের উৎপাদনও কমেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ (১৪.৭ মিলিয়ন)।

গত ৩১ জুলাই দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে মোট গ্যাস পাওয়া গেছে ১৮০৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট, একদিন পর ১ আগস্ট উৎপাদন ১৭৭৬ মিলিয়নে নেমেছে। গ্যাসের চাহিদা সরবরাহের মধ্যে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান। এভাবে দেশীয় উৎপাদন কমতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়তে পারে।

২০২৪ সালের ১ আাগস্ট রাষ্ট্রীয় কোম্পানির মালিকানাধীন ১৬টি গ্যাস ফিল্ডের ৭৩টি কূপ দিয়ে ৮০১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট গ্যাস পাওয়া গেছে ৬৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট বহুজাতিক কোম্পানির মালিকানাধীন ৪টি ফিল্ডে মোট উৎপাদন ছিল ১২২৭ মিলিয়ন ঘনফুট, এক বছর পর উৎপাদন ১০৭৯ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এক বছরে দেশের সামগ্রিক গ্যাস উৎপাদন কমেছে ২৫২ মিলিয়ন ঘনফুট।

বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ তাদের বিবিয়ানা ফিল্ডে প্রায় এক টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) মজুদ নিয়ে ৯০৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করেছে। একই দিনে অনেক বেশি মজুদ এবং সমান সংখ্যাক কূপ (২৬টি) দিয়ে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র মাত্র ৩১২ মিলিয়ন উৎপাদন করেছে। পেট্রোবাংলার ২০২৪ সালের ৩০ জুনের রিপোর্ট অনুযায়ী তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে ১.৯১ টিসিএফ, একই দিনে বিবিয়ানায় মজুদ ছিল ১.৬১ টিসিএফ। এরপর আরও এক বছর চলে গেছে, দৈনিক প্রায় ১বিসিএফ করে গ্যাস উত্তোলন ধরা হলে ৩৬৫ দিনের উত্তোলন শেষে অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে ১টিএসএফের সামান্য বেশি।

দেশীয় অন্যান্য গ্যাসফিল্ডের মজুদও অনেক কমে গেছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী (৩০ জুন ২০২৪) হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডে ২৮.৩৪ বিসিএফ, বেগমগঞ্জে ২৬.৪২ বিসিএফ, মৌলভীবাজারে ২৪.৮১ বিসিএফ, সুন্দলপুরে ২০.৪৬ মিলিয়ন,বিয়ানীবাজারে ৪৪.৯৮ বিসিএফ, সালদানদীর মজুদ ১ বিসিএফের নিচে নেমে গেছে।

শেভরন বাংলাদেশের মালিকানাধীন জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে অবশিষ্ট মজুদ ছিল ৭৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাস ফিল্ডটিতে কমপ্রেসর বসাতে চায় কোম্পানিটি। জালালাবাদ কমপ্রেসর প্রকল্প ২০২৪ সালের প্রথম দিকে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের কাজ শুরুর ২ বছর পর থেকে অপরেশনে যেত প্রকল্পটি। ২০২৬ সালে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিগত সরকারের শেষ দিকে তাদের বিল বকেয়া রাখায় কমপ্রেসর প্রকল্পের কাছ বন্ধ করে রেখেছিল। গত এপ্রিলে বকেয়া পরিশোধের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রকল্পটি। ২০২৭ সালে প্রকল্পের কাজ শেষের নতুন সময়সীমার কথা পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে শেভরন।

কমপ্রেসরটি স্থাপন করা গেলে দৈনিক প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছে শেভরন। তবে মজুদ কমে আসায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ কতটা বাণিজ্যিক হবে সে নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

মজুদ কমে আসায় দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অবধারিত বিবেচনা করা হয়। সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। সেখানে গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিগত সরকারগুলো। সে কারণে দেশীয় উৎপাদনে প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে। নতুন নতুন কূপ খনন এবং পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার করেও ধস ঠেকানো যাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ সরকার অনুসন্ধানে জোন না দিয়ে আমদানির দিকে নজর দিয়েছিল। আমদানির সক্ষমতা ১১‘শ মিলিয়ন থেকে বাড়াতে অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এরমধ্যে ছিল মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, পায়রাতে ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন, সাতক্ষীরার ভোমরা-খুলনা পাইপলাইন এবং বেনাপোল-খুলনা পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে গ্যাস আমদানি, পাশাপাশি ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প।

এরমধ্যে সামিট গ্রুপের সঙ্গে মহেশখালীতে ভাড়াভিত্তিক ভাসমান এলএনজি স্থাপনে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল এবং পায়রাতে ভাসমান টার্মিনালের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি চুড়ান্ত ধাপে ছিল, পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পগুলোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। সবগুলো প্রকল্প ছিল বিশেষ বিধান আইনের আওতায়। অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে বিশেষ বিধান আইন এবং ওই আইনের আওতাধীন এসব প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। বাতিল হওয়া ওইসব প্রকল্পের বিষয়ে খুব একটা অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

বাড়ন্ত চাহিদার বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি থাকল দূরের কথা, বর্তমান উৎপাদন অব্যাহত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে শঙ্কার হচ্ছে দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদনের ৫০ শতাংশের বেশি যোগান দেওয়া ফিল্ডটি এক সময় ১৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও ১ আগস্ট পাওয়া গেছে মাত্র ৯০৪ মিলিয়ন ঘনফুট। খোদ পেট্রোবাংলার অনেকেই মনে করেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে হঠাৎ করেই বড়ধরনের ধস দেখা দিতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে বিবিয়ানার উৎপাদন ৫০০ মিলিয়নের নিচে নেমে আসতে পারে। শঙ্কা সত্যি হলে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দেড় হাজার মিলিয়নে নেমে যাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সূফী চেতনায়২৪ ডটকম কে বলেছেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন কমছে, গ্যাস চাপ কমে যাওয়ায় কূপগুলোতে কমপ্রেসর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন সময় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। সে জন্য বিকল্প প্রস্তুতি রাখা দরকার।

ওই ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য যেভাবে প্রস্তুতি থাকা দরকার সেখানে অনেক ঘাটতি দৃশ্যমান। আমদানি বাড়িয়ে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। দু’টি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে তাতে কোন অবস্থাতেই ১১০০ মিলিয়নের বেশি আমদানি সম্ভব নয়। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করতে হবে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে কমপক্ষে ২৪ মাস, আর ল্যান্ডবেজড এলএলজি টার্মিনাল করা হয় তাহলে ৮০ মাসের ধাক্কা। শুধু টার্মিনাল হলেই সরবরাহ ইচ্ছেমতো বাড়ানোর সুযোগ নেই। বাড়াতে হবে পাইপলাইনের সক্ষমতাও।

দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, চলমান ৫০ কূপের পাশাপাশি আরও ১০০ কূপ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ১০০ কূপ খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ ৬৯টি আর ৩১টি পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার। ১০০ কূপ খনন প্রকল্প ২০২৬ সালে শুরু করে ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখান থেকে বাছাই করে ১৯টি কূপ দ্রুত খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান।

তিনি চেতনায়২৪ ডটকম কে বলেছেন, আমরা দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন ও অনুসন্ধান জোরদার করেছি। নতুন করে আরও দু’টি রিগ কেনা হচ্ছে। আশাকরছি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দরপত্র চুড়ান্তের পথে। ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনালের বিষয়ে কাজ চলছে।